এফবিআই এর ষড়যন্ত্রের শিকার নাফিস: সোশ্যাল মিডিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ভবন বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন বাংলাদেশী তরুণ কাজী মোহাম্মদ রেজোয়ানুল আহসান নাফিস (২১)। নাফিস ১৯৯১ সালের উত্তর যাত্রাবাড়ীতে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা কাজী মো. আহসান উল্লাহ ঢাকায় ন্যাশনাল ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজার হিসাবে মগবাজার শাখায় দায়িত্ব পালন করছেন। তার মায়ের নাম রোকেয়া সিদ্দিকী। নাফিস ২০০৬ সালে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাশ করেন। ২০০৮ সালে ঢাকা কলেজ থেকে জিপিএ-চার পয়েন্ট নিয়ে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর তিনি ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনির্ভাসিটিতে ভর্তি হন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সিক্সথ সেমিস্টার পর্যন্ত পড়ার পর পড়াশোনা ছেড়ে দেন নাফিস। তারপর বাবা তাকে যুক্তরাষ্ট্র পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ ছেড়ে যান নাফিস। এরপরের ঘটনা সবার জানা। নাফিসকে সোশ্যাল মিডিয়াতে নানান গুঞ্জন হচ্ছে। তার পক্ষে এবং বিপক্ষে যুক্তি দিয়ে বাকবিতণ্ডা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। কিছু মানুষ তার বিপক্ষে কথা বললেও অধিকাংশ মানুষ বলছে, এফবিআই এর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে নাফিস। আসুন দেখি সোশ্যাল মিডিয়াতে কে কি বলছে নাফিসকে নিয়ে।

আমার ব্লগে কিংকর্তব্যবিমূঢ় লিখেছেন, জিহাদী জোশ - নাফিস স্টাইল| তার ভাষায়, এই নাফিসের মতো তরুণেরা বাংলাদেশের ইসলামী উগ্রপন্থি সংগঠন গুলোর ব্রেইন-ওয়াশড প্রোডাকশন। ধর্মভীরু ও নামাজি নাফিস কে তারা গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহার করেছে। ইতিমধ্যে পাওয়া তথ্যাদি যাচাই করলে নাফিসের সাথে জঙ্গী সংগঠন গুলোর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। দেখুন কিভাবেঃ
১) পড়াশুনা শুরু করেছে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে। সম্ভবতঃ বাংলাদেশের একমাত্র স্কুল যেখানে ইসলাম ধর্মীয় পোশাকের অংশ টুপি পরা বাধ্যতামূলক! কোমলমতি শিশু-কিশোর দের ইসলাম ধর্মীয় অনুশাসন শেখানোর নামে মগজ ধোলাই করার জন্য বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান।
২) জিপিএ ৫ নিয়ে এসএসসি পাশ করে শীর্ষস্থানীয় ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়ে এইচএসসি পাশ করে জিপিএ ৪ নিয়ে। অধঃপতনের শুরু হয়তো এখানেই।
৩) এইচএসসি পাশের পর ভর্তি হয় নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে বানিজ্যে। রেজাল্ট খারাপ, আর কোথাও চান্স পায়নি। বাপের টাকার জোরে ভর্তি হয় ব্যয়বহুল ভার্সিটিতে। সেখানে পড়ালেখার অবস্থা শোচনীয়। কোনরকমে কয়েকটা সেমিস্টার পাশ করে একপর্যায়ে বন্ধই করে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কার উদ্যত হওয়ায় বাবাকে প্ররোচিত করে টাকা খরচ করে আমেরিকা চলে যায়।
৪) পরিবার-আত্মীয়স্বজন-এলাকাবাসীর চোখে নাফিস একটা ভদ্র-নামাজী ভালো ছেলে। আড্ডাবাজি-গুন্ডা-বদমাশি-নেশা এসবের অভ্যাস দেখা যায়নি কখনো। তাহলে এসএসসির পর থেকে পড়াশুনায় খারাপ করতে করতে একপর্যায়ে বন্ধ করে দেয়া নাফিস আসলে করতো কি?
৫) ঢাকা কলেজে ক্লাস করতে হয় না আর নর্থসাউথে ছিল খুবই অনিয়মিত। নাফিস আসলে কাদের সঙ্গে মিশতো, কোথায় যেত?
৬) যদি বলা হয় কলেজ জীবন থেকেই নাফিস জঙ্গী সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিল তাহলে কি খুব ভুল বলা হবে?
৭) নর্থসাউথে পড়ার সময় সে যে নিয়মিত জঙ্গি ট্রেনিং নিতো না তার কোন নিশ্চয়তা আছে?
৮) এটা কি হতে পারে না যে সে জঙ্গীগ্রুপের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমেরিকা যাবার জন্য তৈরী হয়েছে?
৯) আমেরিকা গিয়েই যে সে দলবল গুছিয়ে বিশাল মার্কিন স্থাপনা গুড়িয়ে দেবার পরিকল্পনা করে দশ মাসের মাথায় তা কার্যকর করতে যায়, এটা কি এতই সহজ ব্যাপার?
১০) ধরা পরার পর নাফিস বলেছে সে অনেক বড় কিছু করতে চেয়েছে যাতে আমেরিকার অর্থনীতি বড় ধরণের ধাক্কা খায়। আদালতে নাফিসের স্বতস্ফুর্ত জবানবন্দী কি প্রমান করে না যে সে কচি খোকা না, বরং পরীক্ষিত জিহাদী সৈনিক?
১১) এফবিআই নিজেরাই বিবৃতি দিয়েছে যে তারা জুলাই থেকে ফাঁদ পেতে নাফিস কে ধরেছে আর আমাদের গনমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে নাফিস কে ফাঁসানোর জন্য করাপ্ট অফিসারদের কাজ হতে পারে এটা। লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর মধ্যে নাফিস ফাঁসলো কেন?
সুলতান মির্জা লিখেছেন, বাবার দৃষ্টিতে হতে পারে নাফিস নির্দোষ..কিন্তু মার্কিন সরকারের দৃষ্টিতে? তার লেখায় তিনি অনেকগুলো প্রশ্ন করেছেন, ধর্মান্ধতা শেষ করে দিল একটি ছেলের জীবন। কবে কখন কিভাবে এই ছেলেটি নিষিদ্ধ পথে পা দিয়েছে এই সম্পর্কে ধারনা করি তার বাবা-মা সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিল না হবে কখনোই বলতো না উনার ছেলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বুঝলাম না এই ভদ্রলোক কিসের ভিত্তিতে এই সময় এমন ধরনের মন্তব্য করলেন ? যেখানে ইতিমধ্যে সমগ্র মার্কিন যুক্তরাষ্টে বাঙালিদের দিকে সন্দেহের চোখে চাওয়া শুরু হয়ে গেছে, সেখানে কে এই নাসিফ ? কেন তার মত একটা নাসিফ কে নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হবে ? ঠিক আছে উনার কথা, যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, তাহলে উনি বলছেন না কেন কে ষড়যন্ত্র করছে ? বাঙালি আতেল এটা একটা সুপরিচিত বিষয়, প্রশ্ন করতে চাই এই ভদ্রলোক কে, আপনি তো ন্যাশনাল ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট দেশে যখন আপনার ছেলে কলেজ বা ইউনিভার্সিটিতে অধ্যায়ন করেছে তখন কতক্ষন সময় আপনি আপনার ছেলের কাছে ছিলেন ? বা আপনার ছেলের অর্থনৈতিক চাহিদা ছাড়া আপনি আর কী কী খোজ খবর রেখেছিলেন ? উত্তর হবে খোজ খবর তেমন একটা রাখতে পারেননি আর সেই সুযোগে হতে পারে আপনার ছেলেটি ধর্মান্ধ হয়ে পড়েছিল। যার মূল্য একটা সমগ্র বাঙালি জাতিকে দিতে হতে পারে।
মুক্তমন ব্লগে কাজী রহমান লিখেছেন, নাফিস সন্ত্রাস আমেরিকা| তার ভাষায়, এখন কথা হচ্ছে ছেলেটার মাথায় কে ঢোকালো রূপকথার বেহেশত? চারপাশের ধর্মান্ধ সমাজ? ওর বন্ধুরা? আত্মীয় স্বজন? বড়রা? নাকি মা বাবা? মা বাবা এমন কাজ করতে পারে? মা বাবা তো সারাক্ষণ সন্তানদের আগলে রাখে। বাঁচিয়ে রাখে বিপদ থেকে। আগুন, ভাঙা কাঁচ, উঁচু থেকে পড়ে যাওয়া, খারাপ, ভালো, সাদা কালো নানা ব্যপার থেকে অবিরাম বাঁচাতে থাকে। অভিজ্ঞতা দিয়ে বাঁচায়। যুক্তি দিয়ে বাঁচায়। যুক্তি দিয়ে যাঁচাই করে শেখায় ভালো মন্দ। শুধু যুক্তি খাটায় না ধর্মের ব্যপারে। ওখানে অন্ধ। মগজ ধোলাই করে নিজ সন্তানকে অবলীলায় ঠেলে দেয় ধর্ম নামের অন্ধকারে। আর সন্তান? সে তার সবচেয়ে কাছের, সবচেয়ে ভরসার, সবচেয়ে আপন মা বাবাকে বিন্দুমাত্র সন্দেহ না করে ঝাঁপ দেয় অস্তিত্বহীন, প্রমানহীন, যুক্তিহীন, যাঁচাইহীন অন্ধকারে, মা বাবার দেয়া শ্রেষ্ঠ উপহারে।

সামহোয়ারইন ব্লগে লিউনেল মেসি লিখেছেন, নাফিস তথ্য দিলেই আমেরিকা হামলা চালাবে, কারও কোন সমস্যা? তার লেখায় মন্তব্যকারীরা লিখেছেন, ব্যাপারটা পড়ে যা বুঝলাম পুরোটাই আমার কাছে শর্ট ফিল্ম বলে মনে হচ্ছে , জানুয়ারিতে গেল আম্রিকা আর অক্টোবর এ আম্রিকা অ্যাটাক ব্যাপারটা বুঝতেচিনা । আর ওর যদি জঙ্গি সঙ্ঘটন এর সাথে যোগাযোগ থাকে তাহলে ও কেন FBI এর এজেন্ট বা অন্য কারো হেল্প নিতে যাবে? দেখি গুণীরা কে কি বলে। ইহুদী রাস্ট্রের প্রধান পৃস্ঠপোষক আমেরিকা যখন নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে প্রচার করে তখন তার চেয়ে বড় মিথ্যা আর কিছুই থাকে না। আর আমাদের তথাকথিত আধুনিক সুশিল সমাজ সেই আমেরিকাকেই সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে, সেই আমেরিকার জন্য জীবন উৎসর্গ করতেও কুন্ঠিত হয় না।
দেশী মামা লিখেছেন, নাফিস আবালটার বোমা ফাটানোতে ব্যর্থ হওয়ায় যার যার লাভ হইছে| তার লেখার মন্তব্যে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বলতে গিয়ে কয়েকজন ব্লগার লিখেছেন, কোনভাবে যদি প্রমান করা যায় এই ছেলের মামার শশুরের ফুপাত শালার চাচাতো ভাই ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলছে তাইলেই, এই ঘটনাকে বিএনপি-জামাত ষড়যন্ত্র বলে হাউকাউ লাগাইতে পারবে বর্তমান সরকার ।
সদালাপ ব্লগে এস. এম. রায়হান লিখেছেন, “মুসলিম সন্ত্রাসী” নাফিস ইস্যু: যারা নিজের ও বাংলাদেশের জন্য লজ্জিত| তার লেখায় মুনিম সিদ্দিকী নামের ব্লগার লিখেছেন, আসলে সংবাদ পত্র যে ভাবে খবর আসছে তা দেখা যাচ্ছে যে আমেরিকা তাদের স্বার্থে এই চোর পুলিশ নাটক করাচ্ছে। নাসিফের মত বয়সের তরুণকে যদি কেউ প্রলুব্ধ করে বসে নাম দাম কামানো পৃথিবীর বুকে আলোড়ন সৃষ্টি করতে এবং সক্রিয় ভাবে সাহায্য সহযোগীতা করে, তাহলে এই বয়সে তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে তাঁর শুধু থ্রিল অনুভব করার জন্য তা করে ফেলতে পারে। আমার মনে হচ্ছে আমেরিকা যা করছে তা স্পষ্ট মানবাধিকারে পরিপন্থী। তা যদি নাফিসের মত তরুণ না হয়ে পরিণত বয়সের কার দ্বারা করা হতো তাহলে বুঝা যেত যে ঐ ব্যক্তি ধর্মীয় উন্মাদনায় তা করেছে। আর যারা ব্লগে ব্লগে মুসলিম সেজে এই নিয়ে ব্লগ গরম করে রাতারাতি জনপ্রিয় ব্লগার হবার চেষ্টা করছে সে হয়তো কোন এক অর্বাচিন মুসলিম যুবক যার বাবা মা তাকে ইসলাম কি যথার্থ ভাবে তালিম সেন নাই বা সে পরিবারের কেউই নামাজ রোজা এবং ইসলামী পরিবেশে চলাফেরা করেন না। নতুবা সে হবে বর্ণবাদী হিন্দুদের কেউ যার আজন্ম শত্রুতা ইসলাম তথা মুসলিদের উপর।
একই ব্লগার নাফিস ইস্যু: যারা নিজের ও বাংলাদেশের জন্য লজ্জিত শিরোনামে সামু ব্লগে পোস্ট দিলে দর্পন নামের এক ব্লগার যুক্তি দেখিয়ে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বড় কিছু করার খায়েশ বিভিন্ন জনের কাছে প্রকাশ করেছিলো সদ্য যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশী তরুণ নাফিস। এদের মধ্যে একজন ছিল এফবিআই এর টিকটিকি। সে খবরটা এফবিআইকে দিল এবং এফএফবিআই এর এক এজেন্ট নাফিসের সাথে আল-কায়েদার টেররিষ্ট হিসেবে ভিড়ে গেল। নাফিসের যে আকাঙ্খাটি হয়তো স্রেফ গলাবাজি হিসেবেই থেকে যেতো, সেটা বাস্তবায়ন করার পথ দেখালো ঐ এফবিআ্ই এজেন্ট। এফবিআই নাফিসকে টেররিষ্ট আক্রমণ করার উৎসাহ দিল, বুদ্ধি পরামর্শ, অর্থ-কড়ি এমনকি আক্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় বিস্ফোরকও দিল। এইভাবে এফবিআইএর দেয়া প্ল্যান অনুযায়ী, এফবিআই এর দেয়া বিস্ফোরক নিয়ে এফবিআই এর সর্বরাহ করা ভ্যানে করে বাংলাদেশী তরুণ নাফিস বড় কিছু অর্থাৎ ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ধ্বংস করতে গেল এবং মোবাইলের নম্বর ডায়াল করে( যা এফবিআ্ই মনিটরিং করছিলো) সেই নকল বোমা ফাটানোর চেষ্টারত অবস্থায় এফবিআই এর হাতে ধরা পড়ে মহা টেররিষ্ট বনে গেল!
চীড়া মুড়ী লিখেছেন, গোপালগঞ্জের আওয়ামী পরিবারের ছেলে নাফিস| তার ভাষায়, এফবিআই এজেন্ট কর্তৃক নিজেকে সন্ত্রাসী কাজে আগ্রহী পরিচয় দিয়ে কারো সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়া এবং তাকে সে কাজে উসকে দিয়ে জড়িত হতে সহায়তা করা এবং শেষে তার ওপর দোষ চাপানো কতটা নৈতিক- এ প্রশ্ন এখন অনেকের মাঝে। নিরপেক্ষ বিশ্লেষকদের মতে, যদি নাফিস সত্যিকার অর্থে এ ধরনের কাজে নিজ থেকে আকাঙ্ক্ষী হয়েও থাকে, তবু এফবিআই তাকে সে কাজ বাস্তবায়নে পুরো সহায়তা করেছে এবং এফবিআই দোষ এড়াতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আতঙ্কিত বাংলাদেশীদের দাবি- এ ঘটনা সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতার সাথে তদন্ত করতে হবে।
ফ্রান্স টুয়েন্টি ফোর অবলম্বনে সামু ব্লগে আশরাফুল সিয়াম লিখেছেন, এবার এফ বি আই এর বলির পাঠা হলো বাংলাদেশের নাফিস| তার ভাষায়, স্টিং অপারেশন হচ্ছে একটা ছদ্মবেশী অপারেশন যেটা পুলিশ বা গোয়েন্দা সিভিল পোশাকে করে থাকেন অথবা সোর্স বা ইনফর্মারদেরকে কাজে লাগানো হয় ক্রিমিনাল ধরার জন্য। সরাসরি ক্রিমিনাল ধরতে পারলে তো খুবই চমৎকার, কিন্তু তা দিয়ে যদি ফাদ পাতা হয় কোন অসহায় ব্যাক্তিকে ধরতে বা ঝুকিপূর্ন লোকদের ধরতে যারা হয়তো কোন ক্রিমিনাল অফেন্সের সাথে জড়িত না বা ঝুকিপূর্ন বা থ্রেট হিসেবে বিবেচিত এমন কোন ব্যাক্তিকে ধরার কাজে যদি ব্যাবহৃত হয় তাহলে ব্যাপারটা নিন্দনীয়। দেখা গেলো লোকটার টাকার খুব দরকার, এমন সময় সে কোন সোর্সের নৈকট্য লাভ করলো, সোর্স থাকে টাকার লোভ দেখিয়ে একটা ব্যাংক ডাকাতির পরিকল্পনা করলো, আর ব্যাংক ডাকাতি করার সময় সেই সোর্স আগে থেকে পুলিশকে খবর দিয়ে রাখলো, যথাসময়ে ধরা খেলো সেই অসহায় লোকটি। এখন প্রশ্ন হলো যদি পুলিশের সেই সোর্স তাকে লোভ না দেখাতো কিংবা সে রকম সাপোর্ট না পেতো লোকটা কি তাহলে এমন কোন পরিকল্পনার সাহস করতে পারতো? ঠিক এমন একটা ভূয়া বোমা হামলার পরিকল্পনার স্বীকারই হয়েছেন নাফিস।
পাঠক,
আপনাদের জানার সুবিধার্থে জানাচ্ছি, বাংলাদেশের দৈনিক পত্রিকাগুলোও বলছে নাফিস ষড়যন্ত্রের শিকার। সাজানো গল্প দিয়ে তাকে বিপদে ফেলানো হয়েছে। দৈনিক পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে দেখুন বিস্তারিত।
* দৈনিক আমাদের সময়: এফবিআইর ফাঁদে বাংলাদেশি যুবক।
* দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন: নাফিসের বিরুদ্ধে ফেসবুকসহ এফবিআইয়ের নানামুখী তথ্য।
* দৈনিক মানব জমিন: এফবিআই’র ফাঁদে বাংলাদেশী নাফিস।
* দৈনিক নয়াদিগন্ত: তীব্র সমালোচনার মুখে এফবিআই।
* দৈনিক আমারদেশ: সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট বাংলাদেশ : সহযোগী সন্দেহে এক মার্কিনি গ্রেফতার।
* দৈনিক কালের কন্ঠ: কার কথা সত্য নাফিসের নাকি এফবিআইয়ের?
* দৈনিক কালের কন্ঠ: বিতর্কিত স্টিং অপারেশনের শিকার কাজী নাফিস!










