অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারদের জন্য কঠোর নীতিমালা: সমালোচনার মুখে টুইটার

A.I.Sajib's picture

(প্রিয় টেক) সম্প্রতি টুইটার ডেভেলপারদের এপিআই ব্যবহার করার জন্য বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, টুইটারের অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসের ১.১ সংস্করণ থেকে এসব নতুন নীতিমালা কার্যকর হবে।

টুইটার জানিয়েছে, নতুন এপিআই ব্যবহার করার জন্য ডেভেলপারদের টুইটারের থেকে অথেনটিকেট করতে হবে যা OAth প্রযুক্তি ব্যবহার করে করা হয়। ইতোমধ্যেই যেসব অ্যাপ্লিকেশন অথেনটিকেট করছে সেগুলোর কোনো সমস্যা হবে না, কিন্তু অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশনগুলো এপিআই ব্যবহার করতে গেলে টুইটার থেকে অথেনটিকেট করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। টুইটারের মতে, ক্ষতিকর বা ম্যালিশিয়াস ব্যবহার এড়াতেই নতুন এই নীতিমালা আরোপ করা হচ্ছে।

এছাড়াও এপিআই ব্যবহার করছে যেসব অ্যাপ্লিকেশন সেগুলো বর্তমানে ঘণ্টায় ৩৫০ বার টুইটারে রিকোয়েস্ট পাঠাতে পারবে। কিন্তু ১.১ সংস্করণে তা কমিয়ে ৬০ বার করা হয়েছে। তবে কী ধরনের অ্যাপ্লিকেশন ও তা টুইটারের এপিআই কীভাবে ব্যবহার করছে তার উপর ভিত্তি করে এই সংখ্যা ৭২০ পর্যন্ত বাড়ানো হবে বলেও জানিয়েছে টুইটার।

উপরেরগুলো ছাড়াও আরও কিছু বিষয় বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে এপিআই-এর ১.১ সংস্করণে। তার মধ্যে রয়েছে প্রতিটি টুইটের সঙ্গে ইউজারনেম, রিটুইট, রিপ্লাই, ফেভারিটসহ বিভিন্ন অ্যাকশন লিংকগুলো দেখানো; কেবল টুইটার কর্তৃক সার্টিফায়েড ডিভাইসে টুইটার এপিআই ব্যবহার করে তৈরি অ্যাপ্লিকেশন চালানো; ১ মিলিয়নের বেশি ব্যবহারকারী থাকলে টুইটারের কাছ থেকে আলাদা অনুমতি নেয়া ইত্যাদি।

তবে এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানায়নি বেশিরভাগ ডেভেলপারই, বরং তারা অনেকটাই ক্ষেপে গেছেন নতুন এসব কঠোর নীতিমালার কথা জেনে। ইনফরমেশন উইকের মতে, ডেভেলপাররা মনে করছেন এসব কঠোর নীতিমালার ফলে টুইটার তাদের সামগ্রী ব্যবহারকারীদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার পথ সংকুচিত করে ফেলছে। এছাড়াও এটি কেবল ডেভেলপারই নয় বরং বিভিন্ন থার্ড-পার্টি অ্যাপ্লিকেশনের উপরও একটি বড় রকমের প্রভাব ফেলবে এই পরিবর্তন যার সর্বশেষ ভুক্তভোগী হবেন সাধারণ ব্যবহারকারীরাই। এগুলোর মধ্যে ইকোফোন, ফেভস্টার ডট এফএম, স্টোরিফাই, টুইটবট ইত্যাদি অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। এছাড়াও টুইটডেক, টুইটপিক, হুটসুটের মতো তুমুল জনপ্রিয় টুইটার ক্লায়েন্টগুলোও টুইটারের এপিআই ব্যবহার করে থাকে।

নতুন এসব নীতিমালার ফলে টুইটারের নিজস্ব অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে তৃতীয়পক্ষের অ্যাপ্লিকেশনের খুব একটা পার্থক্য থাকবে না বলেও মনে করছেন অনেকে।

টুইটার বলছে, ব্যবসায় টিকে থাকতে এবং আয় বাড়াতে তাদের এইসব পরিবর্তন জরুরী। তবে অনেকেরই মতে, এপিআই ব্যবহারের নীতিমালা শিথিল করেই বরং টুইটার আরও বেশি আয় করতে পারে।