শুভ জন্মদিন জুকারবার্গ!

(প্রিয় টেক) আজ ১৪ মে। সামাজিক মিডিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইট ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গের জন্মদিন। আর আজ ২৮ বছরে পা দিচ্ছেন জুকারবার্গ। কিন্তু বয়সের তুলনায় কাজের দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে আছেন তিনি। যে বছর অ্যাপল প্রথম ম্যাকিনটোশ কম্পিউটার বাজারে আনলো সে বছরই জন্মগ্রহণ করেন জুকারবার্গ, অর্থাৎ ১৯৮৪ সালে। কিন্তু তিনি এখন আর বালক নন, বিশ্বের প্রভাবশালী একজন প্রধান নির্বাহী।

২৮ বছরে পা দেয়ার এই সপ্তাহটি আরেকটি কারণে জুকারবার্গের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ সপ্তাহেই ১০০ বিলিয়ন ডলারের প্রাথমিক শেয়ার বাজারে ছাড়ছে ফেসবুক। যা কিনা সামাজিক নেটওয়ার্কিংয়ের জগতে সবচেয়ে বেশি মূল্যের লেনদেন হতে চলেছে। অথচ পৃথিবীর প্রভাবশালী ৫০০ প্রধান নির্বাহীর তুলনায় জুকারবার্গের বয়স প্রায় অর্ধেক। তাই অনেকেই বলে থাকেন, বয়স হচ্ছে জুকারবার্গের সম্পদ। তার হাতে এখনো অনেক কিছু করার সময় রয়ে গেছে।
অবশ্য জুকারবার্গের বয়সেই ডেলের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল এবং অ্যাপলের সহ প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস তাদের প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করেছিলেন। আর তাদের সেই বয়সে এসে এখন জুকারবার্গ বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনায় বসছেন, ছুটিতে ভিয়েতনাম গিয়ে পাগলা ষাঁড়ের পিঠে চড়ে বসছেন এবং ব্যক্তিগত কারণে মান্দারিন চীনা ভাষা শেখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন!

২০০৪ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে জুকারবার্গ ফেসবুকের যাত্রা শুরু করেন। তখন এর নাম দেয়া হয়েছিলো দ্যা ফেসবুক ডটকম। তখন হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীরা একে অপরের সাথে অনলাইনে যোগাযোগ রক্ষার জন্য ফেসবুক ব্যবহার করতেন। ধীরে ধীরে তা হার্ভার্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। সারা বিশ্বে ৯০০ মিলিয়ন মানুষ এখন ফেসবুক ব্যবহার করে।
বয়স কম হলেও কাজের ক্ষেত্রে মোটেও কাঁচা নন জুকারবার্গ। তাইতো বহু বছর ধরে প্রতিষ্ঠিত ইয়াহু এবং গুগল, ফেসবুকের জনপ্রিয়তার সাথে পাল্লা দিতে পারছে না। এমনকি ফেসবুক কিনে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েও তারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন জুকারবার্গের কাছ থেকে।
ক্যালিফোর্নিয়ার পালো অল্টোতে নিজের বান্ধবী এবং হাঙ্গেরিয়ান পুলি কুকুর নিয়ে বাস করছেন জুকারবার্গ।
যিনি বলেন, অভিজ্ঞ গুরুদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। কথা মোটেও মিথ্যে নয়। ২০০৯ সালে ফেসবুকের বাৎসরিক আয় ছিলো ৭৭৭ মিলিয়ন ডলার আর গত বছর তা গিয়ে দাড়ায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারে। আর এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে ফেসবুকের আয় ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
তবে এখনো জুকারবার্গের অনেক কিছু শেখার বাকি আছে। আর সেটাই সাক্ষাতের পর বলেছিলেন, প্রযুক্তি দুনিয়ার আরেক যাদুকর স্টিভ জবস। জুকারবার্গের সাথে আলোচনা সম্পর্কে তারা কেউই কখনো বিস্তারিত কিছু বলেন নি। স্টিভ বলেছিলেন, ‘আমি জুকারবার্গের প্রশংসা করি। তবে তা ব্যবসায়িক বুদ্ধির জন্য নয়, একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করার ইচ্ছাশক্তির জন্য’।
আর তাই গত অক্টোবরে স্টিভ জবসের মৃত্যুর পর জুকারবার্গ তার ফেসবুক পেজে লিখেছিলেন, ‘একজন বন্ধু এবং দীক্ষা গুরু হয়ে থাকার জন্য ধন্যবাদ স্টিভ। আপনি যা তৈরি করেছেন তা যে পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে সেটি আমাকে দেখিয়ে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। আপনাকে অনেক মিস করবো’।













