হাসপাতালের ডিভাইসগুলো কম্পিউটার ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে

(প্রিয় টেক) স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে উচ্চ-ঝুঁকি পূর্ণ চিকিৎসা প্রযুক্তি কম্পিউটার ভাইরাস এবং ম্যালওয়্যার এ আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। তাদের ভয় ভাইরাস আক্রমণের হার অত্যধিক বৃদ্ধি পেলে তা শেষপর্যন্ত রুগীদের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ওয়াশিংটন ডিসি-তে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এই সতর্কবার্তা প্রদান করে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞেরা।
এই দুর্বলতার পেছনে অপরিবর্তন যোগ্য পুরনো কম্পিউটার সিস্টেম রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে মার্কিন এক হাসপাতাল প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে দুইটি মেশিন থেকে ভাইরাস মুছতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে।
বোস্টনের বেথ ইসরায়েল ডেকোনেস মেডিকেল সেন্টার এর প্রধান তথ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা মার্ক ওলসেন জানিয়েছে, হাসপাতালের ৬৬৪ টি মেডিকেল যন্ত্রে উইন্ডোজের পুরনো একটি সংস্করণ চলছে। ফলে এই মেশিনগুলো এমন দুর্বলতা দ্বারা আক্রান্ত যা উইন্ডোজের পরবর্তী সংস্করণগুলোতে ঠিক করে ফেলা হয়েছে।
মেডিকেল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত কেভিন ফু-এর মতে, মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের (এফডিএ) নীতি ভঙ্গ করবে এই ভয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই ডিভাইসগুলো আপগ্রেড করতে ভয় পেয়ে থাকে।
এদিকে এফডিএ'র সমস্যা হচ্ছে তারা হাসপাতালের প্রযুক্তি ডিভাইসগুলো কতটা নিরাপদ সেটা নির্ধারণ করে - সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টা তাদের কাছে তেমন গুরুত্ব পায় না।
ফু আরো জানিয়েছেন হাসপাতালের ডিভাইসগুলোতে আনপ্যাচড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করার কারণে প্রচলিত ম্যালওয়্যার গুলোতে ভরে গিয়েছে ডিভাইসসমূহ। এদিকে এই সকল ডিভাইস নির্মাতাও অনেক সময় সফটওয়্যার আপডেট অথবা নিরাপত্তা প্যাচ ইনস্টল করার সুবিধা প্রদান করে না বিধায় সমস্যার সম্মুখীন হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া দুর্বলতা থাকার কারণে এই সকল ডিভাইসকে বটনেট হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশেষজ্ঞরা।
সংক্রমিত ডিভাইসগুলো কাজের ক্ষেত্রেও ধীর গতির হতে পারে বলে মনে করেন তারা। ফু বলেন, "উইন্ডোজ ওএস চালিত একটি হার্ট মেশিন যদি ভাইরাসের কারণে ধীর গতির হয়ে পরে তাহলে কেমন হবে ভাবুন তো একবার। এর ফলে কম্পিউটারটি সেন্সরের তথ্য পরতে নাও পরতে পারে। এতটা কে খেয়াল করে বলুন?"
তবে এখন পর্যন্ত সাইবার অপরাধী হাসপাতালের ডিভাইসকে নির্দিষ্ট করে কোন ধরণে ম্যালওয়্যার তৈরি করেনি। বরং উইন্ডোজ মেশিন ব্যবহার করার কারণে সনাতন ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে।
চিকিৎসাশাস্ত্রের ক্ষেত্রে কম্পিউটার সফটওয়্যার আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দিলেও এর ক্ষতিকর দিকগুলোর কথা অনেকেই ভুলে গিয়েছিলেন বলে মনে করেন ফু।
যুক্তরাজ্যের এনএইচএস একই ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। ২০০৮ সালে যুক্তরাজ্যের টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল ৪ কর্তৃক পরিচালিত এক তদন্তে এনএইচএস এর কম্পিউটার সমূহ ৮ হাজার ধরণের ভাইরাসে আক্রান্ত বলে জানা যায়।
উন্নত বিশ্বের হাসপাতালগুলোর কম্পিউটারেই যদি এই অবস্থা বিরাজ করে তাহলে বাংলাদেশের হাসপাতালের মেশিনগুলোর কি অবস্থা তা ভেবে শঙ্কিত হতে হচ্ছে।














