ক্ষতিকর মোবাইল ম্যালওয়্যার সম্পর্কে সতর্ক করলো এফবিআই

(প্রিয় টেক) স্মার্টফোনগুলো আমাদের জীবনকে সহজ করে তোলায় এদের উপর আমাদের নির্ভরতা বেড়ে গেছে বহুলাংশে। ইমেইল থেকে শুরু করে নানা ধরণের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখন আমরা মোবাইলে সংরক্ষণ করে থাকি। আসলে ধীরে ধীরে পিসির স্থানটি দখল করে নিচ্ছে এই ইলেকট্রনিক ডিভাইসটি। আর এই জনপ্রিয়তা এর জন্য 'কাল' হিসেবে দেখা দিয়েছে। মোবাইল কেন্দ্রিক নানাধরনের ম্যালওয়্যার তৈরি করতে শুরু করেছে সাইবার অপরাধীরা। এই ম্যালওয়্যার এর বিস্তার এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে মার্কিন সরকার এখন তার দেশের ব্যবহারকারীদেরকে এ ব্যাপারে সচেতন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে শুরু করেছে।
এফবিআই সহ সরকারের বিভিন্ন অপরাধ দমন মূলক প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত টাস্ক ফোর্স 'দি ইন্টারনেট ক্রাইম কমপ্লেন সেন্টার (আইসি ৩)' মোবাইল ম্যালওয়্যার সম্পর্কে একটি সতর্ক বার্তা জারি করেছে।

"মোবাইল ডিভাইসের জন্য ব্যবহৃত অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমকে আক্রমণের লক্ষ্যে নানাধরনের ম্যালওয়্যার তৈরি করা হয়েছে বলে আইসি৩-কে জানানো হয়েছে। লুজফোন এবং ফিনফিশার হচ্ছে এ ধরণের ম্যালওয়্যার যা বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে।"
লিঙ্কে ক্লিক করলে অর্থপ্রাপ্তি এই ইমেইল পাঠিয়ে মোবাইল ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে লুজফোন নামক ম্যালওয়্যারটি। ব্যবহারকারী লিঙ্কটিতে ক্লিক করলেই ম্যালওয়্যারটি মোবাইলে এম্বেড হয়ে যায় এবং মোবাইল থেকে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে শুরু করে।
ফিনফিশার এক ধরণের স্পাইওয়্যার। ফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করার ক্ষমতা রাখে এই স্পাইওয়্যারটি। আইসি৩ জানিয়েছে লুজফোনের মত একই ধরণের পদ্ধতি ব্যবহার করে মোবাইল ফোনকে আক্রমণ করে ফিনফিশার।
লুজফোন এর কার্যক্রম প্রধানত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রিক হলেও নেক্সটওয়েবের মতে এই মুহূর্তে ম্যালওয়্যারটি জাপানের জন্য বিশাল সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এদিকে ফিনফিশার নামক ম্যালওয়্যারটি অ্যানড্রয়েড বাদেও আইওএস, ব্ল্যাকবেরি, সিম্বিয়ান এবং উইন্ডোজ মোবাইলকেও আক্রমণ করে থাকে বলে জানা গিয়েছে।
নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো গত বছর যে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সেখানে মোবাইল ম্যালওয়্যারের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। বিখ্যাত নিরাপত্তা সফটওয়্যার নির্মাতা ম্যাকঅ্যাফির মতে গত চার বছরের তুলনায় এখন ম্যালওয়্যারের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এক্ষেত্রে অ্যানড্রয়েড অবকাঠামোটি সাইবার
অপরাধীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং এই ওএস ভিত্তিক ডিভাইসের ব্যবহারকারীরা প্রচুর পরিমাণে ম্যালওয়্যার যুক্ত এসএমএস, মোবাইল বটনেট, স্পাইওয়্যার এবং ক্ষতিকর ট্রোজানের শিকার হচ্ছে।
অ্যানড্রয়েড ওএস নির্মাতা গুগল বিষয়টা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এবং অ্যানড্রয়েডের সর্বশেষ সংস্করণ জেলি বিন ৪.১ এ সিস্টেমের নিরাপত্তা পূর্ব প্রজন্মের ওএস অপেক্ষা বহুলাংশে বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে। এই ওএস এর মাধ্যমে গুগল হ্যাক, ভাইরাস এবং অন্যান্য ম্যালওয়্যারের আক্রমণকে আরো সহজে প্রতিহত করতে পারবে বলে মনে করছে।
এত কিছু স্বত্বেও, ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্যচুরির ব্যাপারে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পরেছে মোবাইল ব্যবহারকারীরা। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় অর্ধেকের বেশি মার্কিন নাগরিক গোপনীয়তা ব্যাপারে আতঙ্কগ্রস্ত বলে জানা গিয়েছে এবং সে কারণে অ্যাপ ইনস্টল করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বিভিন্ন ম্যালওয়্যার থেকে রক্ষা পাবার জন্য আইসি৩ বেশ কিছু টিপস প্রদান করেছে। অপারেটিং সিস্টেম এনক্রিপশন, পাসকোড নিরাপত্তা, ম্যালওয়্যার নিরাপত্তা, ডাউনলোড করা অ্যাপগুলো বিশ্বাসযোগ্য সাইট থেকে সংগ্রহ করা, যে সকল অ্যাপ জিওলোকেট সুবিধা ব্যবহার করে সেগুলোর ব্যপারে সাবধানতা এবং অচেনা ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কের সাথে নিজেকে যুক্ত না করা অন্যতম।
অর্থাৎ, একটি কম্পিউটারের ব্যাপারে আপনি যে সকল সাবধানতা অবলম্বন করে থাকেন তা এখন মোবাইলের জন্য করাটা প্রয়োজনীয় হয়ে পরেছে। অবস্থার কি পরিবর্তন তাই না?













