গাছের কান্না শুনতে পারবে মানুষ!

(প্রিয় টেক) গাছের জীবন থাকার কথা বলেছিলেন বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু। সেই গাছও কখনো কখনো কাঁদে! আর এই কান্না এবার শোনা সম্ভব হবে, মানুষ যোগাযোগ করবে গাছের সাথে!যখন গাছ বিপদে পড়ে, তখন সে কান্না করে। আক্রান্ত হলে সাহায্যের জন্য করে আবেদন। খুব মারাত্মক শোনাচ্ছে কি? শুনতে যেমনই লাগুক, বিজ্ঞান কিন্তু এটাই বলছে।

গাছের আছে ডিফেন্স মেকানিজম নামে অদ্ভুত এক ক্ষমতা। যখন সে কোন বিপদ আঁচ করতে পারে তখন একপ্রকার বর্ণ,গন্ধ হীন উদ্বায়ী রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরিত হয় এবং আশেপাশের অন্যান্য পত্র-পল্লবের কাছে সে এই বিপদের খবর পৌঁছে দেয়। সাধারণত পোকার আক্রমণ বা রোগের কারণে কোন সমস্যা হলে এই রাসায়নিক ক্ষরিত হয়।
এগুলো আমাদের চারপাশের বৃক্ষ এবং উদ্যানে অহরহ ঘটছে, কিন্তু আমরা সাধারণ চোখে এই ‘গ্রিন লীফ ভোলাটাইল’ দেখতে পাই না বলেই আমরা গাছের কষ্ট বুঝতে পারি না। এই তথ্যগুলো দেন জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রামারাজা রামশ্যামী।
তিনি একপ্রকার রাসায়নিক সেন্সর আবিষ্কার করেছেন। যার মাধ্যমে আমরা গাছের কষ্টের কথা বুঝতে পারব। অর্থাৎ , এই সেন্সর ‘গ্রিন লীফ ভোলাটাইল’ কে সনাক্ত করতে পারবে। ফলে আগে থেকেই গাছের দুর্দশা সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যাবে।
আশা করা যাচ্ছে এই সেন্সর খামারগুলোতে এবং খাদ্য গুদামজাত করার কাজে ব্যবহার করে ব্যাপকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব।
যে সেন্সরটি ব্যবহার করে এই চমকপ্রদ কাজটি করা সম্ভব হবে তার কার্যপ্রণালী অনেকটা ডায়াবেটিক অথবা হাইপোগ্লাইসেমিয়া রুগীদের রক্তে শর্করা মাপার গ্লুকোজ মিটারের মত। গ্লুকোজ মিটারের কাজ রক্তের শর্করা বের করা আর তাই রক্তে অন্য যে সকল রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে সেগুলো নিয়ে সে মাথা ঘামায় না।
ঠিক একই ভাবে রামারাজার সেন্সর গাছ সমস্যা বা মৃত্যুমুখে পতিত হলে যে নির্দিষ্ট মলেকিউল ত্যাগ করে থাকে শুধু তাই খুঁজে বের করে। সেন্সরটি অতি ক্ষুদ্র সবুজ পাতা থেকেও এই সঙ্কেত সংগ্রহ করতে পারে বলে রোগ-জীবাণু ব্যাপকভাবে সংক্রমিত হবার আগেই তা নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়।
গবেষক বলেন, “বড় শস্য ক্ষেত্রে এই সেন্সরের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা সম্ভব হলে কোন গাছের কোন স্থানে ইনফেকশন তা সহজেই জানতে পারবে কৃষক। ফলে কোন ওষুধ প্রয়োগ করতে হলে সেটা আর সাড়া মাঠ ভর্তি ফসলের ক্ষতির কারণ হবে না।”
সব মিলিয়ে ফলাফল হল আমরা এভাবে খাদ্যে রাসায়নিকের পরিমাণ কমিয়ে ফেলতে পারি। এতে উৎপাদন খরচও বেশ কমে আসবে। ফসল নষ্ট হবার হারও অনেক কমে যাবে।
এর মাধ্যমে আমরা সতেজ ফল এবং ফসল জমা করতে পারব, এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া অংশ সহজেই নির্ণয় করে দূর করতে পারব। এভাবে অন্য অংশগুলোও নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচবে।
এই প্রযুক্তি এখনো পর্যন্ত মাঠে ব্যবহারের জন্যই তৈরি করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে হয়ত বাড়ির উঠোনে একচিলতে সবজি-ফলের বাগানেও এটি ব্যবহার করা সম্ভব হবে।










