সকল ছায়াপথ এবং ব্ল্যাকহোল চিহ্নিতকারী বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ত্রিমাত্রিক মানচিত্র!

(প্রিয় টেক) একটা সময় ছিল যখন প্রায় সবার বাসায় দুটো জিনিস দেখা যেত, নীল রঙের একটা গ্লোব আর অ্যাটলাস। অ্যাটলাস থেকে ছোট্ট ছোট্ট অদ্ভুত নামের দেশ খুঁজে বের করা পারিবারিক বিনোদনের একটা অংশ হিসেবে পরিচিত ছিল। মানচিত্রের মাঝ থেকে একটা দেশ বা জায়গার নাম কেউ বলবে আর সবাই সেটা বের করার চেষ্টা করবে, এই ছিল খেলা! সাথে ছিল কোন নদী কোথায় সৃষ্টি হয়েছে, কোথায় গিয়ে তার নাম পরিবর্তন হয়ে গেল। পিরামিড ঠিক কোন জায়গায়, হুনুলুলু কোথায় বা বাউন্টিতে বিদ্রোহের সেই ক্যাপ্টেন ফ্লেচারের পিটকেয়ার্ন দ্বীপটাই বা কোথায় এই সব খোঁজার পেছনে আমরা প্রায় সকলেই ব্যয় করেছি শৈশবের অনেক সময়। আজকাল অবশ্য ডিজিটাল যুগ, অ্যাটলাস আর দেখাই যায় না, নীল রঙের গ্লোবের প্রচলন বোধহয় শূন্যের কোঠায় এসে দাঁড়িয়েছে। সে স্থান দখল করে নিয়েছে গুগলের মানচিত্র অ্যাপ বা গুগল ম্যাপস। এই অ্যাপ ব্যবহার করে বিশ্বকে জানার চেষ্টা এখন আর কেউ করে কিনা সে ব্যাপারে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কিন্তু আপনি যদি ডিজিটাল মানচিত্রের দুনিয়ায় ডুবে থাকতে এবং মহাশূন্যের গোপন রহস্য পছন্দ করেন তাহলে আপনার জন্য এটি সুখবর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। স্লোন ডিজিটাল স্কাই সার্ভে (এসডিএসএস-III) বিশ্বজগতের একটি ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করেছে।
না ভুল শোনেননি, হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান কেন্দ্রের জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানিরা বিশ্বজগতের ত্রিমাত্রিক মানচিত্র প্রকাশ করেছে। এই মানচিত্রে পরিচিত সকল গ্যালাক্সি এবং ব্ল্যাকহোল স্থান করে নিয়েছে। নতুন মানচিত্রে লক্ষাধিক গ্যালাক্সির অবস্থান এবং দূরত্ব নির্দিষ্ট করা হয়েছে। মানচিত্রটি প্রতিষ্ঠানটির ছয় বছর যাবত আকাশ পর্যবেক্ষণের একটি অংশ। মানচিত্রের এক পাশে স্থান করে নিয়েছে চার বিলিয়ন ঘন আলোকবর্ষ এর হিসাব।
মাধ্যমে মানচিত্র তার সকল ছবি এবং আকৃতি প্রদানের জন্য ডাটা রিলিজ ৯ (ডিআর৯) প্রজেক্ট ব্যবহার করেছে। ছয় বছরের প্রকল্প হলেও জরীপ প্রকল্প মাত্র দুই বছরের তথ্য সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করেছে।
দুই বছরের তথ্য শুনে নাক কুঁচকানোর কিছু নেই, মাত্র দু'বছরের তথ্য থেকেই পাওয়া গিয়েছে ২০০ মিলিয়ন ছায়াপথের ছবি এবং ১.৩৫ মিলিয়ন ছায়াপথের স্পেক্ট্রা (ত্রিমাত্রিক উপাদানের জন্য ছায়াপথের দূরত্ব মাপার জন্য ব্যবহৃত হয়)।
মানচিত্রে এসডিএসএস-III'র বেরিওন অসিলেশন স্পেক্ট্রোস্কোপিক সার্ভে (বস)র মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। বস সর্বোচ্চ ছয় বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত ছায়াপথ এবং সর্বোচ্চ ১২ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত ব্ল্যাকহোল এর অবস্থান পরিমাপ করে। বস বড় এবং উজ্জ্বল ছায়াপথকে চিহ্নিত করার মাধ্যমে পাশে থাকা ছোটগুলোকে খুঁজে বের করে।
প্রাযুক্তিক দিক থেকে মানচিত্রটি বিস্ময়কর হলেও বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সম্পর্কে জ্ঞান আহরণের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অনেক বেশি। মানচিত্রটি শুধু ছায়াপথের বিশাল এক তালিকা নয় বরং বিশ্বজগতের ইতিহাস খুঁজে পেতে এবং ডার্ক ম্যাটার এবং ডার্ক এনার্জি সম্পর্কে জ্ঞান আহরণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ সম্পর্কে আরো জানতে এবং ডিআর৯ এর তথ্য, মানচিত্র এবং ভিডিও ইত্যাদি পাবার জন্য এসডিএসএস-III'র ওয়েব সাইটে ঢু মেরে দেখতে পারেন।














