এইডস বিরোধী ঔষধ তৈরিতে সাহায্য করেছে অনলাইন গেম ফোল্ডইট

PriyoTech's picture

(প্রিয় টেক) এইডস বিরোধী ঔষধ তৈরির এনজাইম এর গঠন আবিষ্কারে সাহায্য করেছে একটি অনলাইন গেম। ফোল্ডইট নামক গেমের খেলোয়াড়েরা কম্পিউটারে ডিজিটাল অণুকে (মলেকিউল) এলোমেলোভাবে ভাঁজ করে প্রোটিনের নতুন নতুন আকার তৈরি করে থাকে।

নেচার স্ট্রাকচারাল এবং মলেকিউলার বায়োলজি (আণবিক জীববিদ্যা) নামক জার্নালে বিজ্ঞানীরা লিখেছেন গত এক দশক ধরে এই প্রোটিনের কাঠামো দেখে তারা বিস্মিত হয়েছেন। কিন্তু, এনজাইমের এই মডেল তৈরি করতে অনলাইন কমিউনিটির সময় লেগেছে কয়েকদিন মাত্র।

প্রোটিন একধরণের অত্যন্ত জটিল জৈব যৌগ, আর এনজাইম হচ্ছে এক ধরণের প্রোটিন।

খেলোয়াড়েরা যে এনজাইম (উৎসেচক) তৈরি করেছে তা এম-পিএমভি রেট্রোভাইরাল প্রোটিজ নামে পরিচিত। এই এনজাইমটি এইচআইভির মত ভাইরাস উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকে। বিজ্ঞানীরা অনেক কয়েক বছর যাবত এর সুনির্দিষ্ট কাঠামো নির্ধারণের চেষ্টা করে আসছিল।

ফলাফলটি এইডস বিরোধী ঔষধ তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একধাপ বলে ধারণা করা হচ্ছে। অত্যন্ত সহজ নিয়ম অনুসরণ করে ফোল্ডইট এর খেলোয়াড়েরা এনজাইমটির ত্রিমাত্রিক মডেলটিকে যতভাবে সম্ভব ঘুরিয়ে এবং ভাঁজ করে নতুন আকৃতি সৃষ্টি করার মাধ্যমে এইডস বিরোধী গঠনটি আবিষ্কার করে।

২০০৮ সালে ফোল্ডইট নামক গেমটি তৈরি করে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাণ রসায়নবিদ ফিরাস খাতিব বলেন গেমটির লক্ষ্য, “যেখানে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি ব্যর্থ হবে সেখানে মানবিক অনুভূতি ব্যবহার করে সাফল্য পাওয়া সম্ভব কিনা তা নির্ণয় করা।"

ফলাফলে এতটাই খুশি হন গবেষকেরা যে গবেষণা প্রবন্ধের সহ-লেখক হিসেবে বেশ কিছু খেলোয়াড়ের নাম লিপিবদ্ধ করেন তারা।

যেহেতু একটা ছোট প্রোটিনকেও অনেক ভাবে ভাঁজ করা সম্ভব। আর তাই কোন গঠনটি যে সঠিক হবে তা বের করা অনেক সময় কম্পিউটারের পক্ষেও কঠিন হয়ে পরে।

গেমটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, “ফোল্ডইট প্রোটিনের গঠন কেমন হবে তা নির্ধারণ করার জন্য মানুষের মধ্যে ধাঁধা সমাধানের যে সহজাত প্রবৃত্তি রয়েছে তা ব্যবহার করে থাকে। আর সঠিক প্রোটিনটি খুঁজে বের করার জন্য ব্যবহার করেছে খেলোয়াড়দের প্রতিযোগী মনোভাব।“

“প্রোটিন যেমন রোগের কারণ হতে পারে তেমনি এর থেকে মুক্তি পাবার উপায় হিসেবেও কাজ করে। খেলোয়াড়েরা নতুন নতুন প্রোটিনের নকশা তৈরির মাধ্যমে আরও অনেক রোগের সমাধান বের করতে পারে।"

খেলার জন্য প্রোটিন, প্রাণরসায়ন বা জীববিদ্যা সম্পর্কে জ্ঞানের প্রয়োজন নেই। শুধু দরকার একটি কম্পিউটার আর ইন্টারনেট সংযোগের। গেমটি ডাউনলোড করা খুবই সহজ। একটি প্লাগইন ইনস্টল করার সাথে সাথেই খেলোয়াড়েরা জটিল ত্রিমাত্রিক অণুর গঠনকে মাউসের ক্লিকের মাধ্যমে উল্টিয়ে পালটিয়ে অন্যান্য খেলোয়াড়দের সাথে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে।

খেলোয়াড়দের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, নতুন প্রোটিনের নকশা তৈরি করা অথবা নির্দিষ্ট কোন গঠন অনুমান করা। অনলাইনে খেলোয়াড়েরা সাফল্যের সাথে কোন মডেল তৈরি করতে পারলে গবেষক এবং বায়োটেক প্রতিষ্ঠানগুলো সেই মডেল নিয়ে কাজ শুরু করবে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে দীর্ঘ স্থায়ী কোন বৈজ্ঞানিক সমস্যার এবারই প্রথম সমাধান করতে পারলো অনলাইন খেলোয়াড়েরা।

ফোল্ডইট এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান ডিজাইনার সেথ কুপার বলেন গেমটি মানুষ এবং কম্পিউটারের শক্তিকে একত্রিত করার অবকাঠামো হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, “মানুষের স্থানিক যে যুক্তি রয়েছে তা কম্পিউটারের নেই। ফলাফল লক্ষ্য করলে আমরা বুঝতে পারছি খেলা, বিজ্ঞান এবং কম্পিউটেশন এই তিনটিকে একত্রিত করতে পারলে আমরা এত এগুতে সক্ষম হব যা আগে কখনো করা সম্ভব হত না।“

গেমটির খেলোয়াড়েরা ইতোপূর্বে বিজ্ঞানীদের আলজাইমার এবং ক্যান্সার গবেষণায় সহায়তা করেছে বলে জানা গিয়েছে।