আইসিএক্স জটিলতা মেটাতে নতুন দুটি প্ল্যাটফর্ম তৈরী হবে

(প্রিয় টেক) নতুন পুরনো মিলিয়ে দেশে আন্তঃসংযোগ এক্সচেঞ্জের (আইসিএক্স) সংখ্যা ২৫টি ছাড়িয়ে যাওয়ায় এদের সঙ্গে মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য অপারেটরদের সংযোগ স্থাপনে বহুমাত্রিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। এপ্রেক্ষাপটে মোবাইল ফোন অপারেটর ও অন্যান্য ল্যান্ডফোন অপারেটদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গেটওয়েগুলোর (আইজিডবলিউ) সঙ্গে সহজ যোগাযোগ স্থাপনে নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরীর উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিটিআরসি।
বুধবার আইসিএক্স লাইসেন্স বিজয়ী অপারেটরগুলোর সঙ্গে বিটিআরসি’র এক বৈঠকে নতুন দুটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এক্ষেত্রে একটি প্ল্যাটফর্ম অন্য একটি প্ল্যাটফর্মের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। যাতে একটিতে কোনো সমস্যা হলে অন্যটি বিকল্প হিসেবে সেবা দিতে পারে। সিদ্ধান্ত অনুসারে কমন এই প্ল্যাটফর্মের এক দিকে সব মোবাইল ফোন অপারেটর, ল্যান্ডফোন অপারেটর, আইটি টেলিফোনী অপারেটর সংযুক্ত হবে। তাতে করে এই অপারেটরগুলোর সবগুলো আইসিএক্সের আলাদা আলাদা সংযোগ স্থাপনের কোনো প্রয়োজন হবে না। তাতে করে কারিগরি জটিলতা কিছুটা হলেও কমবে।
তাছাড়া দুটি ভিন্ন প্ল্যাটফর্মকেই আলাদা আলাদা বিটিআরসি এবং সেনানিবাসে অবস্থিত ন্যাশনাল মনিটরিং সেন্টারের (এনএমসি)-এর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে হবে, যাতে করে এই দুই পক্ষ সহজেই সবগুলো অপারেটরের কল টার্মিনেশন পর্যবেক্ষন করতে পারে।
এর আগে সবগুলো মোবাইল ফোন অপারেটর এক সঙ্গে একটি চিঠিতে বিটিআরসিকে জানিয়েছিল যে এতোগুলো আইসিএক্সের সঙ্গে তাদের পক্ষে সংযোগ স্থাপন অসম্ভব। এতে করে কারিগরি জটিলতা অনেক বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে তাদের খরচও বৃদ্ধি পাবে। মূলত মোবাইল ফোন অপারেটরদের এমন আপত্তির প্রেক্ষিতেই বিকল্প চিন্তা করা হচ্ছিল। বুধবারের বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে অংশ নেওয়া বিটিআরসি’র এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কমন প্ল্যাটফর্মের পুরো অবকাঠামো তৈরীর খরচ আইসিএক্স অপারেটরগুলোকে দিতে হবে। তাছাড়া পুরো বিষয়গুলো প্রস্তাব আকারে লিখে দেওয়ার জন্যেও তাদেরকে বলা হয়েছে। তারা লিখিত দিলে তার প্রেক্ষিতে বিটিআরসি’র কারিগরি কমিটি এ বিষয়ে আরো পর্যালোচনা করবে। পরে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইসিএক্স অপারেটরদের বলে দেওয়া হয়েছে, যে প্রস্তাবই তারা তৈরী করুক না কেনো তাতে যেন ভিন্ন ভিন্ন পর্যবেক্ষন টারমিনাল থাকে। তাছাড়া ভিন্ন ভিন্ন সিডিআর (কল ডিটেইল রেকর্ডস)ও যেন সহজে পাওয়া যায়। জানা গেছে, আগামী এক দুই সপ্তাহের মধ্যে এ ধরণের একটি প্রস্তাবনা তৈরী করে আইসিএক্সগুলো বিটিআরসিতে দেবে।
এদিকে বৈঠকে আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। নীতিমালায় প্রত্যেকটি অপারেটরের জন্যে ১২’শ ই-ওয়ান (E1) রাখার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হলেও এখন বাস্তবতার নিরিখে এই ই-ওয়ানের সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে। বিটিআরসি’র কর্মকর্তারাই বলছেন, যেহেতু আইসিএক্সের সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়েও বেশী হয়ে গেছে সে কারণে একেকটি আইসিএক্সের ই-ওয়ানের সংখ্যা ৪’শতে নামিয়ে এনে নীতিমালা সংশোধন করা হবে। তাছাড়া এর আগে ছয় মাসের মধ্যে প্রত্যেকের ঢাকাসহ ঢাকার বাইরে আরো চারটি জায়গায় পপ তৈরী করতে বলা ছিল। কিন্তু এখন ছয় মাসের মধ্যে কেবল ঢাকায় সেবা কার্যক্রম শুরু করার কথা বলা হচ্ছে। পরবর্তীতে সুবিধামতো সময়ে ঢাকার বাইরে পপ তৈরী করলেই হবে, এমন প্রস্তাব মেনে নিয়েছে বিটিআরসি।
আইসিএক্স অপারেটরগুলো তাদের পাঁচ কোটি টাকার পারফম্যান্স ব্যাংক গ্যারান্টির বিষয়েও আপত্তি তুলেছিল। কিন্তু অর্থ মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন ছাড়া এখানে তেমন কিছু করার নেই বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু ছাড় দিয়ে অর্থ মন্ত্রনালয়ের অনুমোদনের জন্যে প্রস্তাব তৈরী করা হবে বলে জানিয়েছে সূত্র। অন্যদিকে রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে আইসিএক্স অপারেটরা দাবি তুললেও বিটিআরসি এই প্রস্তাব নিয়ে আর আলোচনা করেনি।
বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সবগুলো আইসিএক্স অপারেটরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এদিকে বৃহস্পতিবার আন্তঃর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়েগুলোর (আইআইজি) সঙ্গে বৈঠক করবে বিটিআরসি। এর আগে গত রোববার আইজিডবলিউ'র সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও হরতালের কারণে তা হয়নি। আগামী সপ্তাহের কোনো এক সময় তাদের সঙ্গে বিটিআরসি বৈঠক করবে।
এর আগে গত সপ্তাহেও সবগুলো নতুন আইজিডবলিউ, সবগুলো আইসিএক্স এবং আইআইজিদের নিয়ে বৈঠক করে বিটিআরসি। ওই বৈঠকে কিছু বিষয়ে আলোচনা হলেও কোনো সুপারিশ গ্রহন করা সম্ভব হয়নি। সে কারণেই সবার সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠকে বসছে বিটিআরসি।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশী লাইসেন্স দেওয়ার প্রেক্ষাপটেই বিটিআরসিকে নীতিমালা সংশোধনসহ নানা ক্ষেত্রে নিয়মকানুনের পরিবর্তন করতে হবে। যাতে করে অপারেটরগুলো ব্যবসা করতে পারে।
উল্লেখ্য যে, এই দু'টি প্ল্যাটফর্মই আসলে আইসিএক্স হিসেবে কাজ করবে। দেশের ৭/৮টি টেলিফোন কোম্পানীর জন্য দুটি আইসিএক্সই যথেষ্ঠ। এখন জাতির সামনে প্রশ্ন হলো, এই দুটি প্ল্যাটফর্মই যদি করা হয়, তাহলে ওই ২৫টি আইসিএক্স তাহলে কী?










