কনজ্যুমার রিপোর্টসের কাছ থেকে থামস আপ পেল আইফোন ফাইভ

(প্রিয় টেক) সেই ১৯৩৬ সাল থেকে মার্কিন জনগণকে পণ্য সম্পর্কে বিশ্লেষণধর্মী ধারণা দিয়ে আসছে পত্রিকাটি। কখনো নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বিজ্ঞাপন বা স্যাম্পল গ্রহণ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। কারণ, যদি পক্ষপাত দুষ্ট হয়ে পরে! কোন বাধ্য-বাধকতা না থাকায় পণ্য সম্পর্কে করতে পারে কঠোর সমালোচনা। আর তাই এই পত্রিকার বিশ্লেষণগুলো তুলনামূলক ভাবে অধিক গুরুত্ব বহন করে। পত্রিকার নাম কনজ্যুমার রিপোর্টস। ম্যাপ সুবিধার জন্য সমালোচিত হলেও প্রভাবশালী এই সমালোচক গ্রুপের কাছ থেকে থামস আপ পেয়েছে অ্যাপলের সদ্য বের হওয়া আইফোন ফাইভ।

প্রতিষ্ঠানটি ল্যাব পরীক্ষার পর আইফোন ফাইভকে সেরা স্মার্টফোনগুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে কিন্তু এর মানচিত্র অ্যাপটি যে ভালো নয় সে কথা উল্লেখ করে।
অ্যাপলের সর্বশেষ সংস্করণের আইফোনটি চার ইঞ্চি পর্দা এবং ফোরজি সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও ম্যাপ অ্যাপটির জন্য সমালোচিত হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী গত সপ্তাহে ব্যবহারকারীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান গুগলের ম্যাপ সুবিধা গ্রহণের পরামর্শ প্রদান করেন।
কনজ্যুমার রিপোর্ট এর বিশ্লেষক মাইক গিকাস গ্রুপের ওয়েবসাইটে লেখেন, “ব্যাপকভাবে সমালোচিত হলেও অ্যাপলের নতুন মানচিত্র অ্যাপ্লিকেশনটি অন্যান্য ফোনে বিনামূল্যে যে সেবাটি পাওয়া যায় তার থেকে অনেক পিছিয়ে থাকলেও ... যথেষ্ট ক্ষমতা সম্পন্ন।”
তার মতে, “সম্প্রতি অ্যাপল যেহেতু ক্ষমা চেয়েছে এবং ম্যাপে থাকা সমস্যা সহ একে ঠিক করার অঙ্গীকার করেছে, সময়ের সাথে সাথে ম্যাপ অ্যাপটি উন্নত হবে বলে আমরা আশা করছি।”
অ্যাপল তার আইফোন ফাইভ বিক্রয় কার্যক্রম গত মাসে শুরু করে। প্রথম তিনদিনেই বিক্রয় ৫ মিলিয়নকে ছাড়িয়ে যায়। ফোনটি এতটাই গ্রাহক চাহিদা সৃষ্টি করে যে অ্যাপল সরবরাহ বজায় রাখতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে যায়।
গত জুন মাস থেকে প্রতিষ্ঠানটি তার আইওএস ৬ ওএস সম্পর্কে জনমনে আগ্রহের সৃষ্টি করে। বিশেষ করে এর নতুন ম্যাপ অ্যাপটিকে সে সময় সকলের সামনে উল্লেখযোগ্য হিসেবে তুলে ধরা হয় এবং একে আইওএস ৬ এর একটি বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
কিন্তু অ্যাপটি বের হবার সাথে সাথে এর ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো সকলের সামনে ধরা পরে। ব্যবহারকারীরা জনপ্রিয় গুগল ম্যাপ সুবিধার সাথে তুলনা করতে শুরু করে এবং অনেক সুবিধা নেই বলে অনুযোগ করতে থাকে।
২০১০ সালে আইফোন ফোর এর অ্যান্টেনা সমস্যার সময় অ্যাপল এ ধরণের ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিল। ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি কনজ্যুমার রিপোর্টসও তখন সিগন্যাল রিসেপশন সমস্যা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে এবং কেনার পরামর্শ দেয়া থেকে বিরত থাকে। এ বছর প্রাথমিক পর্যায়ে অ্যাপলের নতুন আইপ্যাডটি অত্যধিক গরম হয় বলে উল্লেখ করে। কনজ্যুমার গ্রুপটি কার থেকে শুরু করে রান্নাঘরের তৈজসপত্র পর্যন্ত সকল পণ্যের বিশ্লেষণ করে থাকে।








