উন্মোচিত হল আইফোন ফাইভ

(প্রিয় টেক) সান-ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত অ্যাপলের পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন যদিও করলেন টিম কুক কিন্তু নতুন আইফোনের ঘোষণা দিলে ফিল শিলার। তিনি আইফোন ফাইভকে বিশ্বের সবচেয়ে পাতলা আইফোন হিসেবে অভিহিত করে জানালেন মাত্র ১১২ গ্রাম ওজনের এই ফোনটি ৪এস অপেক্ষা ২০% হালকা, ৭.৬ মিমি স্থূল। আইফোনটি তৈরি হয়েছে অ্যালুমিনিয়াম এবং গ্লাসে।

রয়েছে ৪" ৩২৬ পিপিআই রেটিনা ডিসপ্লে যার রেজ্যুলুশন ১১৩৬x৬৪০। ফোনটির ডিজাইন নির্মাণে প্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে মানুষের হাত। কালার স্যাচুরেশন ৪৪% উন্নতি, এসআরজিবি রেন্ডারিং, সুপার ফাস্ট ওয়্যারলেস, রয়েছে এইচএসপিএ+২১ মেগাবিট পার সেকেন্ড, ডিসি-এইচএসডিপিএ ৪২ মেগাবিট, এলটিই, এজ। ভয়েস এবং ডাটার জন্য সিঙ্গল চিপ ব্যবহার করা হয়েছে।

এবার যে এলটিই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, এশিয়া, ইউরোপ এর ফোর জি প্রযুক্তি সমর্থন করবে। রয়েছে ৮০২.১১ এ/বি/জি/এন, ডুয়েল চ্যানেল। সর্বোচ্চ গতি ১৫০ মেগাবিট পারসেকেন্ড।

প্রসেসর হিসেবে এলো নতুন এ৬ প্রসেসর, গত প্রজন্মের প্রসেসর অপেক্ষা ২x দ্রুত, গ্রাফিক্স পারফরমেন্স ২x দ্রুত। প্রসেসরটি পূর্ব প্রজন্মের প্রসেসরগুলোর চাইতে ২২% ছোট হবার কারণে আইফোন ফাইভকে এতটা পাতলা করতে সক্ষম হয়েছে অ্যাপল, হয়েছে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। এলটিই সহই আট ঘণ্টা কথা বলা সম্ভব হবে এই ফোন দিয়ে। আর যদি ওয়াইফাই ব্যবহার করেন তাহলে পাবেন ১০ ঘণ্টা কথা বলার নিশ্চয়তা।

এর পর এলো ক্যামেরার গল্প। ব্যাকলিট ৮ মেগাপিক্সেল সেন্সর সাথে রয়েছে ৫ এলিমেন্ট লেন্স এবং এফ/২.৪ অ্যাপারচার। তবে ক্যামেরাটি নোকিয়া লুমিয়া ৯২০ কে হারাতে পারবে কিনা সে ব্যাপারে সন্দেহ ইতোমধ্যে প্রকাশ করেছে এনগ্যাজেট। ছবি আগের থেকে ৪০% দ্রুত তোলা সম্ভব হবে, আর এর জন্য রয়েছে নতুন এ৬ ইমেজ প্রসেসর। ক্যামেরাটিতে প্যানারমিক মুড থাকায় অনেকগুলো ছবিকে জোড়া দিয়ে ২৮ মেগাপিক্সেলের ছবি তৈরি করা সম্ভব হবে। পেছনের ক্যামেরাটি ব্যবহার করে ১০৮০পি ভিডিও এবং সামনের ক্যামেরাটি ব্যবহার করে ৭২০ পি তোলা সম্ভব।
এতদিন গুজব শোনা গেলেও এলো নতুন কানেক্টর নাম লাইটনিং এবং পূর্বের কানেক্টর অপেক্ষা ৮০% ছোট্ট। সাদা এবং কালো এই দুই রঙে পাওয়া যাবে আইফোন ফাইভ।
আইফোন ফাইভে যে নতুন আইওএস ৬ আসছে সেটা আমরা আগেই জেনেছি। নতুন ওএসে সিরির আরো উন্নয়ন করা হয়েছে।
আইফোন ফাইভ ১৬ গিগাবাইট মডেলের মূল্য $১৯৯ মার্কিন ডলার, ৩২ গিগাবাইট $২৯৯ মার্কিন ডলার এবং ৬৪ গিগাবাইটের মূল্য $৩৯৯ মার্কিন ডলার হিসেবে ধার্য করা হয়েছে। ধারণা করে নিচ্ছি এই মূল্য এক বা দুই বছরের কন্ট্রাক্টের উপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, অস্ট্রলিয়া, জাপান, হংকং এবং সিঙ্গাপুরের বাজারে আইফোন ফাইভ ২১ সেপ্টেম্বর থেকে পাওয়া যাবে। তবে প্রাক-অর্ডার দেয়া যাবে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকেই। এবং আগামী মাসে আরো ২০টি দেশে আইফোন ফাইভ ছাড়া হবে বলে জানিয়েছে অ্যাপল।












