অঙ্কুরের প্রযুক্তির বই ও বাংলা অপারেটিং সিস্টেমের প্রকাশনা উৎসব

(প্রিয় টেক) ‘পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে আইসিটির বই এবং শিশির ২০১২ বাংলা অপারেটিং সিস্টেম’ এর প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। ১০ অক্টোবর সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এ আয়োজন করে অঙ্কুর আইসিটি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ।
মোড়ক উন্মোচন শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, তরুণ প্রজন্মকে কাজে লাগিয়ে আমাদের আগামী দিনে এগিয়ে যেতে হবে। তরুণরা ইতিমধ্যে তাদের দক্ষতা প্রমান করে বিশ্বের মধ্যে ৩০টি আউটসোসিং রাষ্ট্রের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। প্রযুক্তি যত বেশী ব্যবহার করা হবে ততই মানুষের সময় বেচে যাবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদেরকে প্রযুক্তি ভাষাকে মাতৃভাষা রূপান্তর করতে হবে। তাহলেই সবার মাঝে প্রযুক্তি আলো পৌঁছে দেওয়া যাবে। আগামী দিনের মোবাইল ফোনের মাধ্যম হবে বাংলা বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্পেন দূতাবাস ডেপুটি হেড অব মিশন পেড্রো জিনাস। তিনি বাংলাদেশ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্পেনের সকল প্রকার সহযোগীতার কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত থেকে বেসিসের সভাপতি ফাহিম মাশরুর বলেন, বেসিস গত ১৫ বছর ধরে দেশের সফটওয়ারকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছে। দেশের প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সকলে মিলে এক সাথে কাজ করতে হবে। তাহলেই এগিয়ে যাবে দেশ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বিডিওএসএনের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান বলেন, আইসিটি একটি টুল। এটি পরিবর্তনের জন্য আমাদের কাজ করে যেতে হবে। প্রযুক্তিকে নিজের ভাষার সহজ করে উপস্থাপন করতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের মুক্ত সফটওয়্যার বেশী ব্যবহার করতে হবে। কেননা ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে বিনা পয়সায় কোন সফটওয়ার পাওয়া যাবে। তখন মুক্ত সফটওয়ার ব্যবহার ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অঙ্কুরের সাধারণ সম্পাদক মাহে আলম খান ‘পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে আইসিটি’ বই ও ‘শিশির ২০১২’ সিডির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

তিনি জানান, বইটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নারী শিক্ষার্থীদেরকে তাদের উপযুক্ত কর্মসংস্থান এবং এর সাথে সম্পৃক্ত কাজের পরিবেশের সাথে পরিচিত করে তোলা। এই বইয়ের মাধ্যমে কিভাবে কম্পিউটার এবং এর সাথে সম্পৃক্ত অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে দাপ্তরিক কাজগুলো অধিকতর দ্রুততা ও দক্ষতার সাথে করা যায় তাও জানা যাবে। প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য উপকরণসমূহের তাত্ত্বিক দিক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি এইসব উপকরণ প্রয়োগ করার প্রায়োগিক জ্ঞান সমন্বিতভাবে এই বই-এ সংযুক্ত করা হয়েছে। এজন্য বইটির সাথে দেয়া হচ্ছে সাহায্য সহায়িকা হিসেবে একটি সিডি যাতে বইটির প্রায়োগিক দিকগুলো উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত ছবির মাধ্যমে ধাপ অনুযায়ী সংযোজন করা হয়েছে।
তিনি জানান, ‘শিশির ২০১২’ হচ্ছে অপারেটিং সিস্টেম উবুন্টু ১২.০৪ এর উপর ভিত্তি করে তৈরি করা নতুন সংস্করণ যা পূর্বের সংস্করণের তুলনায় অনেক উন্নত এবং হালনাগাদকৃত। শিশির-এ রয়েছে ওপেনঅফিস.অর্গ, ফায়ারফক্স এবং থান্ডারবার্ড এর হালনাগাদকৃত সংস্করণ (বাংলা বানান পরীক্ষকসহ), পিজিন, ভিএলসি মিডিয়া প্লেয়ার, গিম্প, স্কাইপি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশন। শিশির-এর এই সংস্করণটি যে কেউ ইনস্টল করা ছাড়াই লাইভ ব্যবহার করতে পারবেন এবং ইচ্ছা করলে কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে ইনস্টলও করে নিতে পারবেন।
সমাপনী বক্তব্যে অঙ্কুর আইসিটি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক খালেদা ইয়াসমিন অঙ্কুরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, অঙ্কুর একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটির মূল উদ্দেশ্য বাংলায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে দেশকে সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং ভাষাগতদিক থেকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া। অঙ্কুর শুরু থেকেই বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে মিল রেখে বিভিন্ন ওপেন সোর্স সফটওয়্যার স্থানীয়করণের কাজ করে আসছে।
অঙ্কুর ইতোমধ্যে তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দক্ষিণ এশিয়া মন্থন অ্যাওয়ার্ড ২০০৮ এবং জাতীয় ডিজিটাল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড ২০১০ ও ২০১১ অর্জন করেছে।














