রামুর ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক চলছেই

Mizanur Rahman Sohel's picture

(প্রিয় টেক) ফেসবুকে কোরআন অবমাননার একটি ছবি ট্যাগ করাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ মন্দিরে হামলার ঘটনা নিয়ে এখনো চলছে তর্ক-বিতর্ক। কেউ সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের দোষ দিচ্ছেন আবার কেউবা বলছেন ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির ফল ভালো হবে না। আবার অনেকেই দাবি করছেন, যাকে ফেসবুক থেকে ছবি ট্যাগ করা হয়েছে তার তো কোন দোষ নেই, যে বা যারা ছবি ট্যাগ করেছে মূলত তারাই দোষী। আর এ থেকে স্পষ্ট প্রতিয়মান হয় রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ব্লগাররা দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান। নিচে বিভিন্ন ব্লগে প্রকাশিত কিছু ব্লগারদের কমেন্ট দেওয়া হলো।

বিডি নিউজ২৪ ব্লগ
বিডি নিউজ২৪ ব্লগে রামুর ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত স্টিকি করে রাখা হয়েছে "আবহমানকালের অসাম্প্রদায়িক এদেশে সাম্প্রদায়িক আগুন জ্বালায় যারা" নামের একটি পোস্ট। ব্লগার নুরুন্নাহার শিরীনের এই লেখা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন বাংগাল নামের একজন ব্লগার| তিনি লিখেছেন, আমরা যদি প্রকৃত মুসলমান হয়ে থাকি , প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা:) এর উম্মত হিসেবে নিজেদের দাবি করে থাকি এবং সত্যি সত্যি যদি তাই হয়ে থাকি তাহলে অন্য ধর্মের অনুসারীদের জানমালের উপর নির্লজ্জ হামলা করতে পারি?

মাতরিয়শকা নামের একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, তারা বিবেকহীন-ধর্মব্যাবসায়ী-উগ্রপন্থীর অনুসারী শয়তানের দল। আসলে এই পিশাচগুলো আলবদরের দল। মহান মুক্তিযুদ্ধে এরা ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে স্বজাতির ওপর তাদের হিংস্রতা, বর্বরতা, নশৃংসতার স্বাক্ষর রেখেছিল এবং এখনও রাখছে। তাই এদের নামকরণ আলবদর করা হউক। এই দাবী জানিয়ে গেলাম।

ঘটনার আসল সূত্র বোঝাতে চেয়েছেন ব্লগার সাদা কালো| তিনি বলেছেন, আলোচিত উত্তম কুমার বড়ুয়া দরিদ্র পরিবারের সন্তান এবং রামুতেই এক ছোটখাটো সাইবার ক্যাফে/কম্পিউটার দোকানের কর্মচারী এবং দোকানের মালিকের বন্ধুও। উত্তমের ফেসবুক পাসওয়ার্ড তার বন্ধুও (সে মুসলিম) জানতো। ওইদিন উত্তমের অনুপস্থিতিতে তার বন্ধু উত্তমের আইডিতে ঢুকে (এরকম তারা আগেও করেছে এবং তাদের জন্য এটা স্বাভাবিক একটা ব্যাপার ছিল) এবং কোরানের অবমাননাকারি উক্ত ছবিটা দেখতে পায় যা উত্তমকে ট্যাগ করা হয়েছিল। সেসময় আরও কিছু কাস্টমার (স্থানীয় যুবক) দোকানে প্রবেশ করে এবং ছবিটি দেখতে পায়। তারা নিজেদের মোবাইলে ছবিটার কপি নেয় এবং উত্তমের দোকান মালিক বন্ধুও ছবিটি ফেসবুকে উত্তমের আইডি থেকেই বিভিন্ন যায়গায় পাঠায়/ট্যাগ করে। এইসবই হয়েছিল উত্তমের অনুপস্থিতিতে।

রাইসুল ইসলাম সৌরভ লিখেছেন, আমিও আতঙ্কিত বোধ করছি। তিনি বলেছেন, ফেসবুকে যাকে ট্যাগ করা হলো তাকে নিয়ে এত বড় ঘটনা ঘটে গেল আর যে ট্যাগ করলো সে আড়ালেই থেকে গেল?

সামহোয়ারইন ব্লগ
সহজ পৃথিবী লিখেছেন, রামু ফাইনাল রিপোর্ট- রামুর ইউএনও এবং ওসির ফেইসবুক সম্পর্কে কোন জ্ঞান না থাকায় রামুর ঘটনাটি ঘটেছে!!! তার ভাষায় মিডিয়া ও সরেজমিন রিপোর্টে সব স্পষ্ট যে, সেখানকার বৌদ্ধপাড়ায় আর মন্দিরগুলোতে হামলার ব্যাপারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ-বিএনপি সহ সব দলের মুসলমান নেতা-কর্মীরা ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করেছে! তারা কাজটি করেছেন ইসলাম রক্ষার জন্যেই! জনৈক বিধর্মী বৌদ্ধ খোকন বড়ুয়ার ফেসবুক ওয়ালের ট্যাগকৃত একটি ছবির কারনে বাংলাদেশ থেকে-দুনিয়া থেকে ইসলাম চলে যাবে, মহানবীর(দঃ) ইজ্জত বলতে কিছু থাকবেনা, এটা সেখানকার কোন দলের মুসলমান নেতাকর্মীরাই মানতে চাননি! না মানতে চেয়েছেন?

নাহিয়ান ব্লগ নামের এক ব্লগার লিখেছেন, যারা রামুর ঘটনায় ঘেউ ঘেউ করছে তারা দেশদ্রোহি, মুনাফিক, কাফিরদের দালাল। তিনি লিখেছেন, যখন মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা, ভারত, চিন, ইউরোপ - আমেরিকায় মুসলমানদের শহিদ করা হয় তখন তা হয় ওই দেশের আভ্যন্তরিন ব্যাপার। তখন মুসলমানদের প্রতিবাদ করা মানে মৌলবাদি হওয়া। কেউ এর বিরুদ্ধে টু শব্দটি করেনা। কোন দোষ না থাকার পরেও লক্ষ লক্ষ মুসলিমকে শহীদ করা হচ্ছে। তখন এরা বোবা শয়তান । তখন তো মুসলমানরা কোন অ্যাম্বাসী আক্রমন করেনা ।

সরোজ রিক্ত লিখেছেন, রামু'তে ধর্মীয় সহিংসতা দেখে নাস্তিকদের কান্না দেখে বাঁচি না| তার ভাষায় নাস্তিকরা মূলত ধর্ম-বিদ্বেষী, "ধর্মান্ধতা বা ধর্ম নিপাত যাক" এই কথা তারা বলে বেড়ায়। কিছু ব্লগের ব্যানারেও এই কথা লেখা আছে (সচলায়তন )। এই জন্য মিয়ানমারে (বার্মা) যখন মুসলিম নিধন চলছিল তখন নাস্তিকরা নিরব থেকেছে। কারণ, এক ধর্মের লোক অন্য ধর্মের লোককে মারছে। এই সূত্রে পৃথিবীর কোথাও ধর্মীয় সহিংসতা হলে এবং তার ফলে হতাহত হলে নাস্তিকদের নিরব থাকার কথা। রামু'তে যখন বৌদ্ধ মন্দির ধ্বংস হল তারা তখন আর নিরব থাকতে পারছে না।

এস. এম. রায়হান বলছেন, রামু'র ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। তিনি লিখেছেন, রামু'র তাণ্ডবলীলার সাথে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে এর চেয়ে বেশি কিছু করার নাই।

রামু সহিংসতা সাম্প্রদায়িক নাকি রাজনৈতিক শিরোনামে তথ্য সমৃদ্ধ একটি পোস্ট দিয়েছেন ব্লগার শাশ্বত স্বপন। তিনি লিখেছেন, "আসুন, মানুষকে মানুষ হিসাবে দেখি, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের মূল্যায়ন বন্ধ করি। ধর্মকে বাহিরে প্রকাশের চেয়ে অন্তরে ধারণ বেশী করি, ধর্ম যেন অধর্ম হয়ে না উঠে সে দিকে খেয়াল রাখি। সেই সাথে যারা ক∙বাজারের রামু, চটৃগ্রামের পটিয়া ও পাশ্ববর্তী অন্যান্য এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর সাম্প্রদায়িক ভুত চাপাতে চেয়েছে তাদেরকে ঘৃণা করি।"

ফুয়াদ০দিনহীন প্রশ্ন করেছেন রামুর ঘটনা: দুঃখের দরিয়া কি আর শেষ হবে না?। তিনি বলেছেন, আমরা মুসলিম, পৃথিবীর মধ্যে এক মাত্র জাতি, যারা এক আল্লাহর নামের পতাকা এখনও এই ইহ-জাগতিক বিশ্বে তুলে ধরে রেখেছি। শত আঘাত, দুঃখ আর রক্তের দরিয়া নিয়েও আমরা এই নিশান ধরে আছি, এই নিশানে অন্যায়ের দাগ ফেলতে দিতে পারিনা। কেন হঠাৎ করে এত ধৈর্যহারা হতে হবে? কেন নিরাপদের বাড়ি আক্রমণ করা হবে? এই প্রশ্নের কি কোন জবাব নেই?

আম-আঁটির ভেঁপু বলেছেন রামুর ঘটনায় আমি লজ্জিত নই, ক্ষমাপ্রার্থী নই। তার ভাষায়, আমি লজ্জিত নই। বাঙালি হিসেবেও লজ্জিত নই, মুসলমান হিসেবেও লজ্জিত নই। কারণ, রামুর ঘটনার জন্য আমার বাঙালিয়ানাও দায়ী নয়, আমার ধর্মও দায়ী নয়। যারা দায়ী- সেই অকালকুষ্মান্ডদের গায়ে বাঙালি আর মুসলমান লেবেল লাগাবেন না দয়া করে। ওই কাজ যারা করেছে- তারা মানুষ নয়। আর অমানুষের কোনো জাত থাকে না, ধর্ম থাকে না।

আমার ব্লগ
কর্নফুলির মাঝি লিখেছেন, রামু বৌদ্ধ মন্দিরের লেলিহান শিখায় মানুষের মাঝে ধর্মিয় স্বত্বার বিভেদ যেন জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। তিনি রূপক অর্থে অনেক কিছু তার লেখায় তুলে নিয়ে এসেছেন| তার লেখার একাংশে বলেছেন, একজন হিন্দু, মুসলিম খৃষ্টানের রক্ত একজন বৌদ্ধের শরীরে দিলে তাঁর ধর্মিয় স্বত্বার কোন পরিবর্তন হয় না বরং তাঁর ধর্ম পালন করার জন্য জীবন লাভ করে। ঠিক একই ভাবে এই কথা হিন্দু, মুসলিম খৃষ্টান সবার জন্য প্রযোজ্য। কারণ ধর্মীয় স্বত্বার বাইরে আমাদের সবার আরেকটি কমন স্বত্বা বিদ্যমান সেটা মানব স্বত্বা। আর মানব স্বত্বার স্থান ধর্মিয় স্বত্বার অনেক উপরে।

শাফিউর রহমান ফারাবী লিখেছেন, রামুতে বৌদ্ধ ভাইদের উপর হামলা প্রসঙ্গে আমার কিছু কথা। তিনি বলছেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ইসলামী দল গুলি বিরাট আর্থিক সমস্যায় ভুগছে। মামলা মোকাদ্দমায় উকিল জেলখানা করতে করতে এদের সব টাকা পয়সা শেষ। তাছাড়া আমার মত অনেক ছেলেই এখন রাজনীতি থেকে নিস্ক্রিয়। রামু উপজেলায় দাঙ্গা করতে যাবে এ পরিমান অর্থ ও জনবল এখন কোন ইসলামী দলেরই নাই। দেশে কিছু হইলেই ইসলামী দলের উপর দোষ চাপানো এখন একটা ফ্যাশনে পরিণত হইছে। আর তাছাড়া এই দাঙ্গা যদি ইসলামী দল গুলির পূর্ব নির্ধারিত হয়েই থাকে তাইলে ডিবি, এন এস আই, স্পেশাল ব্রাঞ্চ সরকারের এই গোয়েন্দা বিভাগ গুলি সারাদিন কি করে ? গোয়েন্দাগিরি বাদ দিয়া খালি বইসা বইসা সারাদিন স্টার প্লাস আর স্টার জলসা দেখে।

যাত্রী নামের ব্লগার চট্টগ্রামের রামু ও আশেপাশের এলাকার হৃদয়বিদারক সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস নিয়ে ছবিপোষ্ট দিয়েছেন। বিভিন্ন পত্রিকা ও সোস্যাল মিডিয়া থেকে সংগৃহীত ছবি এখানে পোস্ট করেছেন তিনি।

সোনার বাংলাদেশ ব্লগ
M Billah লিখেছেন, রামুর ঘটনায় বাইরের ছেলেরা জড়িত! তার ভাষায়, বাংলাদেশের ঢাকার কাকরাইল মসজিদের পাশেই বাংলাদেশের খ্রিষ্টানদের প্রধান গীর্জা অবস্থিত যেইখানে আর্চবিশপ পর্যন্ত থাকেন। আর হাটহাজারী মাদ্রাসার সাথেই একদম লাগানো একটা বিরাট কালী মন্দির। সেইখানে প্রতিদিন উলু ধ্বনি উচ্চারিত হয়। কিন্তু কখনই হাটহাজারি মাদ্রাসার কেউ এই কালী মন্দিরে যেয়ে ঝামেলা করেনি। তো এই সব ঘটনা দ্বারা ভাল করেই বুঝা যায় যে আমরা মুসলমানরা কতটা বড় মনের অধিকারী।

লোকমান বিন ইউসুপ, চিটাগাং লিখেছেন, রামুর বৌদ্ধপল্লীতে হামলাকারীরা ইসলামের বন্ধু নয় ...। তিনি বলছেন, আজ আমাদের মন ভাল নেই । বাংলাদেশের কোন প্র্যাকটিসিং মুসলমানের মনভাল নেই। ফিলিস্তিনের মুসলমানদের উপর আঘাত, ইরাক, আফগানিস্তান, কাস্মীর সহ মায়ানমারের রোহিংগা মুসলমানদের উপর আঘাত যেমন আমাদের মনকে ভারাক্রান্ত করে ঠিক আজ আমরা সমভাবে ব্যথিত কক্সবাজারের রামুর বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উপর আঘাতের কারনে । বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। যারা এই পরিবেশের ব্যত্যয় ঘটাতে চায় তারা হল সাম্রাজ্যবাদের দোসর ও এদেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্বের শত্রু।

প্রিয় ব্লগ
syed shah salim... লিখেছেন, উথিয়া, রামুর তান্ডবলীলাঃ মানবতা বিরোধী এই সব দানব আর হায়েনাদের প্রতি আমাদের ধীক্কার। তার ভাষায় মাত্র কিছুদিন আগে চট্রগ্রামের কক্সবাজারের উথিয়া, রামু বৌদ্ধ বিহার ও অধ্যূষিত অঞ্চলে রাতের আধারে যে অমানবিক, পৈশাচিক কায়দায় নারকীয় ধংসযজ্ঞ চালানো হলো, বৌদ্ধ মন্দির ভাংচুর করা হলো, জ্বালিয়ে দেওয়া হলো স্থাপত্য নির্দেশনা সমূহ, নিরীহ বৌদ্ধ জনগোষ্টীর উপর যে বেপরোয়া হামলা চালানো হলো, তার ঘা এখনো শুকায়নি।টেলিভিশনের পর্দায় এই সব ধংসলীলার সচিত্র প্রতিবেদন দেখে যে কেউই ভয়ে শিউরে উঠবেন, মনে হলো যেন কোন সিডর বা জ্বলোচ্ছাস কিংবা কোন টর্ণেডো ইতিপূর্বে এসে সব কিছু লন্ড-ভন্ড করে দিয়ে গেছে, প্রকৃতি প্রদত্ত এই তান্ডব থেকে কিছুই যেন রক্ষা পায়নি।কিন্ত তাতো নয়, এ যে আমাদের নিজেদেরই মানব সৃষ্ট কতিপয় দানব আর হায়েনাদের জন্ত-জানোয়ারের মতো নিজেদের হিংস্রতা এতো আদিম আর পশু-সূলভ কায়দায় সম্পন্ন করেছে যে, ভাবতেই হতবাক না হয়ে পারিনা।সমস্ত বৌদ্ধ মন্দিরের ভিতর ও বাহির যেভাবে উলোট-পালট করা হয়েছে, মনে হলো এ যেন কোন ভুমিকম্প সব ওলোট-পালট করে দিয়ে গেলো।এই কী আমাদের মানবতা ? এই কী আমাদের মনুষ্যত্ত্ব ?

ফেসবুক
রিমন আহমেদ নামে একজন ডয়েচে ভেলের অফিসিয়াল ফেসবুক সাইটে কমেন্ট করেছেন, বৌদ্ধ উপাসনালয় হামলার ঘটনা খুবই দুঃখ জনক । তবে রোহিঙ্গা এবং ভারতের মুসলিমদের উপর নির্যাতনের ঘটনায় কবি নীরব থাকে কেন !!!!

স্বপন কুমার ডয়েচে ভেলের অফিসিয়াল ফেসবুক সাইটে লিখেছেন, বাংলাদেশে শনিবার ছিল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ‘মধু পূর্ণিমা' আর তা পরিণত হলো এক ‘কালো পূর্ণিমা'র রাতে ৷ সেই ‘কালো পূর্ণিমা'র রাতে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে শুরু হয় ধ্বংসযজ্ঞ ,বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার এর প্রত্যক্ষ মদতে । আসলে মিয়ানমারে ধর্মীর দাঙ্গার প্রতিশোধ হিসেবেও ধ্বংসযজ্ঞটিকে দেখা যেতে পারে। কক্সবাজার রামু, উখিয়া ও চট্টগ্রামের পটিয়ার বৌদ্ধ বসতিতে হামলার ঘটনায় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন চরমভাবে ব্যর্থ ছিল। রহস্যজনক ভূমিকা ছিল সরকারিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের। এ কারণেই পরপর দুই দিন রামু, উখিয়া ও চট্টগ্রামের পটিয়ার বৌদ্ধ বসতিতে ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এটাই প্রথম নয়,যুগ যুগ ধরে একই ঘটনা ঘটে আসছে। আসলে কি এধরনের পরিস্থিতি হলেই রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও পুলিশ প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থাকার চেষ্টা করে। এধরনের পরিস্থিতি রীতিমত পরিকল্পনা করেই ঘটানো হয়,এর পেছনে প্রধান উদ্দেশ্য বাংলাদেশ থেকে সংখ্যালঘুদেরকে বিতারিত করা।