টেশিসকে কাজ না দেয়ার অভিযোগ, মন্ত্রী বললেন যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে

PriyoTech's picture

(প্রিয় টেক) একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ৭০ কোটি টাকার প্রকল্পের দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়া সত্ত্বেও সরকারি প্রতিষ্ঠান টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস)-কে সরবরাহ না দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন টঙ্গিতে অবস্থিত টেশিস পরিদর্শনে গেলে সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. আবু সাঈদ খান ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব সুনীল কান্তি বোস বিষয়টি মন্ত্রীকে অবহিত করেন। মন্ত্রী এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে টেশিসকে এগিয়ে নেয়ার জন্য আরো যা করণীয় এবং সহযোগিতার প্রয়োজন তার সবই করা হবে।

টেশিস কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকস্তরে শিক্ষার প্রচলন প্রকল্পের জন্য ২০ হাজার ৫০০টি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর সরবরাহের কাজে দরপত্রে ১২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে ৯টি গ্রুপের কাজের মধ্যে ৬টিতেই সর্বনিম্ন দরদাতা হয় টেশিস। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কতিপয় কর্মকর্তার সহযোগিতায় একটি চিহ্নিত টেন্ডারবাজ চক্র টেশিস কর্তৃপক্ষকে দরপত্র ক্রয় ও জমা দেয়ার সময়ও বাধা দেয়। এ অবস্থায় টেশিস কর্তৃপক্ষ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দরপত্র ফেলতে না পেরে সচিবালয়ে রক্ষিত বাক্সে দরপত্র জমা দেয়।

এরপর প্রায় ৭০ কোটি টাকার প্রকল্পের ওই দরপত্র খোলার দিন শিক্ষা ভবনে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে লাঞ্ছিত হন টেশিসের একজন ডিজিএম। তাকে আটক করে দরপত্র প্রত্যাহার করে নিতে চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতায় ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়।

এদিকে টেশিসের প্রধান কর্মাধ্যক্ষ আ আ মো. মোয়াসির ১৩ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটির পরিচালককে এক চিঠিতে বলেন, টেশিস সরকারি প্রতিষ্ঠান হয়েও দরপত্রে অংশ নিয়েছিল। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, কিছু অযৌক্তিক ও খোঁড়া কারণ দেখিয়ে টেশিসের দরপত্রটি বাতিলের চক্রান্ত চলছে। টেশিস কর্তৃপক্ষ অযৌক্তিক ও খোঁড়া কারণটিও সোমবার মন্ত্রীকে অবহিত করেন। সচিব সুনীল কান্তি বোস মন্ত্রীকে জানান, একটি বিশেষ সুবিধাভোগী চক্র কথিত সমঝোতার নামে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

টেশিস কর্তৃপক্ষ তাদের লিখিত এক অভিযোগে বলেন, ২০১০ সালের ২ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটি একনেক এর বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সরকারি সব ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত দ্রব্যসামগ্রী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্রয় করতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় মালামাল পাওয়া না গেলে বাইরে থেকে কিনতে হবে। এর ভিত্তিতে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে সরাসরি উপকরণ সরবরাহ করছে টেশিস। টেশিস হেয়ার আইটির সঙ্গে চুক্তি করে 'দোয়েল' ল্যাপটপ উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। টেশিস দোয়েল ব্র্যান্ডের প্রজেক্টর বাজারজাত করার জন্য একই কোম্পানির সঙ্গে কারিগরি চুক্তি করেছে। এই প্রজেক্টর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই প্রকল্পে সরবরাহের জন্য দরপত্রে অংশ নিয়ে শতভাগ কারিগরি শর্ত পূরণ করে সর্বনিম্ন দরদাতা হয়। এরপরও কাজটি টেশিসকে না দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি অফিস পরিদর্শন করছেন সাহারা খাতুন। সেই ধারাবাহিকতায় সোমবার টঙ্গির টেশিস কারখানা পরিদর্শন করেন। টেশিস ল্যাপটপ ছাড়াও প্রি-পেইড ইলেকট্রিক মিটার মোবাইল ব্যাটারি ও চার্জার, ডিজিটাল টেলিফোন সেট, পিবিএক্স সেট, ইত্যাদি তৈরি ও বাজারজাত করছে। টেশিসের বৈঠকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে টেশিস উৎপাদিত পণ্য (টেলিফোন সেট, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, ইলেকট্রিক মিটার) ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। এ সময় তিনি টেশিসের দোয়েল ল্যাপটপ উত্পাদনসহ অন্যান্য প্লান্ট, ডিজিটাল টেলিফোন সেট, মোবাইল ব্যাটারি ও চার্জার এবং প্রি-পেইড ইলেকট্রিক মিটার প্লান্ট পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন উৎপাদন ইউনিট ঘুরে দেখেন।

মন্ত্রী বলেন, টেলিযোগাযোগ এক সময় সেবা ছিল। এখন সেটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। সেকারণে এটি শিল্পের মর্যাদা পেয়েছে। তবে সরকারি কোম্পানিগুলোকে সেবা এবং ব্যবসা একই সাথে করতে হয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েও টেশিসকে কাজ না দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে টেশিসকে যতভাবে সহযোগিতা করার প্রয়োজন তার সবই আমরা করবো। টেশিস কারখানা পরিদর্শন কালে সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, টঙ্গী পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন।