প্রতারণার পুশ সেল বন্ধ করতে নীতিমালা করতে যাচ্ছে বিটিআরসি। ইন্টারনেটেই গণশুনানি

(প্রিয় টেক) মোবাইল ফোন অপারেটররা যাতে অযাচিতভাবে গ্রাহককে ওয়েলকাম টিউন, গান বা অন্যান্য ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস গছিয়ে দিতে না পারে তার জন্যে নীতিমালা করতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। একই সঙ্গে পুরনো বেশ কিছু নীতিমালাও কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে তারা। এ সংক্রান্ত খসড়া নীতিমালার একটি কপি গণশুনানির জন্যে বিটিআরসি’র ওয়েব সাইটে দেওয়া হয়েছে। সেখানে দুটি ই-মেইল ঠিকানা (rhassan@btrc.gov.bd ও sunjib@btrc.gov.bd) দেওয়া হয়েছে। যাতে গ্রাহক চাইলে তাদের মতামতও দিতে পারেন।
বিটিআরসি জানিয়েছে, গ্রাহকদের মতামত নেওয়ার পর এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে তারা এসংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত করবে।
দেখা গেছে, অপারেটররা কখনো কখনো একটি অফার নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে (৭ দিন/ ১৫ দিন/ ৩০ দিন) ফ্রি দিয়ে পরে গ্রাহককে কিছু না জানিয়ে সেবাটি চালু করে দেয়। সবচেয়ে মুসকিলের কথা হল একবার একটি সেবা গছাতে পারলে সেখান থেকে আর বেরিয়ে আসার সুযোগই পাচ্ছে না গ্রাহক। ফলে দিনের পর দিন গাটের পয়সা গুনে যেতে হয় অসহায় গ্রাহকটিকে। আবার কোনও কোনও অপারেটরে গ্রাহক সেবায় ফোন করে সেটি বন্ধ করতে গেলে, গ্রাহক সেবায় কল করার জন্য মিনিট প্রতি চার্জ করা হয়। এটা অনেকটা শাখের করাতের মতো অবস্থা দাড়িয়েছে।
এক্ষেত্রে বিটিআরসি বলছে, গ্রাহক অপট-ইন বা রেজিস্ট্রেশন করলেই তাকে সেবাটি দেওয়া যাবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রচারিত বিজ্ঞাপনে সেবাটি গ্রহন করার পদ্ধতির পাশাপাশি ডি-রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি বা এখান থেকে বেরিয়ে আসার পদ্ধতিও সমান গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করতে হবে।
তাছাড়া গ্রাহক যদি ভয়েস এবং এসএমএস-এর বাইরে আর কোনো সেবা না চায় তাহলে `STOP ALL’ লিখে সকল সার্ভিস থেকে যাতে বেরিয়ে আসতে পারে সেই ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।
বিটিআরসি’র প্রাথমিক প্রস্তাবে রয়েছে, কোনো সেবা দেওয়ার ৭২ ঘন্টা আগে একবার এবং ২৪ ঘন্টা আগে আরো একবার নোটিফিকেশন দিতে হবে।
প্রিপেইড গ্রাহকদের আউট গোয়িং কলের ক্ষেত্রে প্রতিবার কল শেষ হওয়ার পর কলটির জন্যে খরচ হওয়া টাকা-মিনিট এবং গ্রাহকের বর্তমান ব্যালান্স জানাতে হবে। তাছাড়া বর্তমানে একাধিক অপারেটর প্রতি ঘন্টা/মিনিট/মাসে সর্বোচ্চ কথা বলার জন্যে পুরস্কার দিলেও ভবিষ্যতে এটি করা যাবে না বলে খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে। শট কোড বা হেল্পলাইন নম্বর থেকে ফোন করার ক্ষেত্রে গ্রাহককে বিভ্রান্ত করা বা তার সময় ক্ষেপন করা যাবে না।
বন্ধ সিম চালু করার ক্ষেত্রে অপারেটররা এখন অনেক সুবিধা দিতে চাইছে। এক্ষেত্রে মূল গ্রাহক ছাড়া অন্য কাউকে সিম রিপলেসমেন্ট দেওয়া যাবে না। বন্ধ সংযোগে বোনাস বা অফার যাতে মূল গ্রাহকই পেতে পারে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির মাধ্যমে অপারেটরকে নিশ্চিত করতে হবে। তাছাড়া একটি সিম মাত্র একবারই বিক্রি করা যাবে। তাছাড়া বন্ধ সংযোগ ফিরে পেতে চাইলে গ্রাহকের কাছ থেকে নতুন করে সিমের দাম নেওয়া যাবে না।
কোনো গ্রাহক কল করলে তার রিং ব্যাংক টোন শুরু হওয়ার পূর্বে মোবাইল অপারেটরের নিজস্ব বিজ্ঞাপন প্রচারিত হতে থাকে। একই সঙ্গে গ্রাহকের মিসড কল অ্যালার্ট চালু থাকলেও সেখানেও বিজ্ঞাপন শুনতে হয়। গ্রাহক কাষ্টমার কেয়ারে ফোন করলে সেখানেও বিভিন্ন প্রমোশনাল বিজ্ঞাপন শুনতে হয়। বিটিআরসি বলছে, এগুলো প্রতারণার শামিল। খসড়া নীতিমালায় তারা বলছেন, এধরণের প্রতারণা করা যাবে না।
প্রি-পেইড সংযোগের রিচার্জের ক্ষেত্রেও আউট গোয়িংয়ের সর্বোচ্চ মেয়াদ বেঁধে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে নীতিমালায়। এতে বলা হয়েছে, ১০০ টাকা রিচার্জে সর্বনিন্ম ৩০ দিন দিতে হবে। একই ভাবে ২০০ টাকায় ৪৫ দিন, ৩০০ টাকায় ৬০ দিন, ৫০০ টাকায় ১২০ দিন, ১০০০ টাকায় ৩৬০ দিনের মেয়াদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সর্বশেষ রিচার্জের দিন থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে ওই সংযোগে একটি কল বা এসএমএস না আসলে সংযোগটি সাময়িকভাবে বন্ধ করা যাবে।
বিটিআরসি বলছে, ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় গ্রাহকদের। তারা বলছে, ২০০৪ সালে প্রতি মেগাবাইট ব্যান্ডউইথের মহৃল্য ছিল ৭২ হাজার টাকা। তখন অপারেটররা প্রতি কিলোবাইট দুই পয়সা হারে বিক্রি করত। আর এখন প্রতি মেগাবাইট ব্যান্ডউইথের মূল্য ছিল ৮ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। এখনো গ্রাহককে একই দামে ব্যান্ডউইথ কিনতে হচ্ছে।
পি ওয়ান লিখে ব্যবহার করা এই পদ্ধতির কারণে মাসে গ্রাহকরা কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলেও জানিয়েছে বিটিআরসি। তারা বলছে, এই পি ওয়ান প্যাকেজের মাধ্যমে এক মাসে ২৫ হাজার টাকা বিল ওঠার খবরও তারা পেয়েছেন। গ্রাহককে এভাবে প্রতারিত হতে দেওয়া যায় না। এক্ষেত্রে বিটিআরসি কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে।
পি ওয়ান প্যাকেজের মাধ্যমে মাসে গ্রাহক সর্বোচ্চ ১০০ টাকা ব্যবহার করতে পারবে। ১০০ টাকা পেরিয়ে গেলেই তার প্যাকেজিটি অন্য প্রচালিত প্যাকেজে চলে যাবে। তবে পরবর্তী মাসের প্রথম দিন থেকে এটি আগের প্যাকেজে চলে আসবে গ্রাহক।
প্রিয় টেকের পাঠকদেরকে এই বিষয়ে বিটিআরসি-কে ফিডব্যাক দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো। দয়া করে আপনাদের মতামতগুলো উপরোক্ত ইমেলে পাঠিয়ে দিন। পাশাপাশি, অন্যদেরকে পাঠাতে বলুন।













