অবৈধভাবে মোবাইল ফোন কিনে কারাগারে

PriyoTech's picture

(প্রিয় টেক) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া মোবাইলফোন কিনে ফেঁসে গেছেন মিজানুর রহমান। এখন তিনি একটি জোড়া খুনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে পিরোজপুর কারাগারে আছেন। তিন মাস ধরে তিনি এই কারাগারে। তাঁর বাড়ি পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার মেঘপাল গ্রামে। তিনি মাছ বিক্রি করে সংসার চালান।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে স্বরূপকাঠি উপজেলার সেহাঙ্গল গ্রামে মা শিউলি ও মেয়ে সুবর্ণা আক্তার খুন হন। খুনিরা এ সময় সেখান থেকে একটি মোবাইলফোন নিয়ে আসে। গত ১৬ মে মিজানুর রহমানকে পুলিশ একটি মোবাইলফোনসহ আটক করে মা-মেয়ে খুনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

গ্রেপ্তার হওয়ার পর পিরোজপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে মিজানুর তাঁর জবানবন্দিতে বলেন, আমার মোবাইলফোন একদিন বাজারে হারিয়ে যায়। পরে আমি সয়না গ্রামের মিলন দাসের কাছ থেকে সিম্ফোনি ব্র্যান্ডের একটি পুরোনো সেট ১৪০০ টাকায় কিনি।

মিজানের ভাই জাকির শেখ বলেন, ১৬ মে পুলিশ এসে খবর দিয়ে মিজানের কাছে জানতে চায়, মোবাইলফোনটি তিনি কোথায় পেয়েছেন। এ সময় তিনি পুলিশকে জানান, সয়না গ্রামের মিলন দাসের কাছ থেকে তিনি সেটটি কিনেছেন। তখন পুলিশ মিজানকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে মিলনকে তার বাড়ি থেকে আটক করে এবং সবার উপস্থিতিতে মিজান মিলন দাসের হাতেই মোবাইলফোনটি তুলে দেন। পরে মিলনের কাছ থেকে পুলিশ মোবাইলফোনটি নিয়ে নেয় এবং তাদের থানায় নিয়ে যায়।

পিরোজপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে কাউখালী উপজেলার কাঠালিয়া কারিগরি কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র মিলন দাস বলে, শরিফুল নামে তার এক সহপাঠীর সঙ্গে একদিন সে পাশের স্বরূপকাঠি উপজেলার সুন্দর গ্রামে বেড়াতে যায়। সেখানে গিয়ে রুমন ও হূদয়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরিচয় হওয়ার কিছুদিন পর সে হূদয়ের কাছ থেকে মোবাইলফোনটি ১৬০০ টাকায় কিনে নেয়। এরপর সে মিজানের কাছে ১৪০০ টাকায় সেটটি বিক্রি করে দেয়।

মিজানের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম জানান, বিচারকের কাছে জবানবন্দিতে মিলন দাস মিজানের কাছে সিম্ফোনি সেটটি বিক্রির কথা স্বীকার করেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা স্বরূপকাঠি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুলতান মাহমুদ বলেন, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মা-মেয়ে খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় তাকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে মিলন দাসসহ (মোবাইল বিক্রেতা) নয়জনের বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

পিরোজপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, উদ্ধার হওয়া মোবাইলফোনটি খুন হওয়া শিউলিদের পরিবারের সদস্যরা ব্যবহার করতেন।

Tags: