নবায়নকৃত লাইসেন্স হস্তান্তর আজ, অপারেটরদের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করবে না বিটিআরসি

priyodesk's picture

(প্রিয় টেক) নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে চলা দীর্ঘ ৯ মাসের টানাপোড়ন শেষে আজ নবায়নকৃত টুজি লাইসেন্স হাতে পাচ্ছে চার সেলফোন অপারেটর। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু এ লাইসেন্স হস্তান্তর করবেন। এদিকে দেনা-পাওনা পরিশোধে চার অপারেটর গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও সিটিসেলকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে বিটিআরসি। তবে এ নিয়ে অপারেটরদের সঙ্গে কোনো সমঝোতা চুক্তিতে যাচ্ছে না কমিশন।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ বলেন, সরকারের নির্দেশে লাইসেন্স নবায়ন করা হচ্ছে। দেশে বিদ্যমান আইন অনুযায়ীই দেনা-পাওনা পরিশোধ করতে হবে অপারেটরদের। ৩১ আগস্টের মধ্যে কিস্তির টাকা জমা দিতে হবে তাদের। লাইসেন্স নবায়নে অপারেটর ও বিটিআরসির মধ্যে কোনো ধরনের সমঝোতা হচ্ছে না। সরকার ও সংসদীয় কমিটির অব্যাহত চাপে লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও অপারেটরদের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে রাজি হয়নি বিটিআরসি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে অপারেটরদের সঙ্গে বিটিআরসি এ ধরনের চুক্তি করতে পারে না বলে জানান তিনি।

তবে লাইসেন্সের কার্যকারিতা হিসেব করা হবে গত বছরের ১১ নভেম্বর থেকে। তাদের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের ১০ নভেম্বর।

গত বছরের নভেম্বরে গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও সিটিসেলের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর থেকে নানা জটিলতায় এত দিন আটকে ছিল চার অপারেটরের টুজি লাইসেন্স নবায়ন। প্রতিষ্ঠানগুলো বিটিআরসির অন্তর্বর্তী অনুমোদনের মাধ্যমে সেবা দিয়ে আসছিল। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম কিস্তির ৪৯ শতাংশ টাকা জমা দেয়ার ১৮০ দিন পর দ্বিতীয় কিস্তির ২৯ শতাংশ এবং এর এক বছর পর বাকি ২২ শতাংশ টাকা জমা দেয়ার কথা অপারেটরদের। লাইসেন্স নবায়নে চার অপারেটরকে মোট ৭ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা ফি দিতে হবে।

প্রথম কিস্তিতে ৩ হাজার ১৮৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা গত বছরের নভেম্বরেই জমা দেয় অপারেটররা। তবে এ সময় ভ্যাট ও মার্কেট কম্পিটিশন ফ্যাক্টর (এমসিএফ) বাবদ ৭৮৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা কেটে রাখে চার অপারেটর। বর্তমানে এ টাকা নিয়ে গ্রামীণফোন ও রবির মামলা আপিল বিভাগে এবং বাংলালিংকের মামলা হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রথম কিস্তির টাকা জমা দেয়ার পরই লাইসেন্স নবায়ন হওয়ার কথা। কিন্তু মামলার কারণে প্রক্রিয়াটি আটকে যায়।

এদিকে গত ২৪ জুলাই টুজি লাইসেন্স নবায়ন ফি ও তরঙ্গ বরাদ্দ ফির দ্বিতীয় কিস্তির টাকা চেয়ে চার অপারেটরকে চিঠি দেয় বিটিআরসি। দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ, বকেয়া পাওনা ও বিলম্ব ফিসহ গ্রামীণফোনকে মোট ১ হাজার ৫২২ কোটি ৫৫ লাখ, বাংলালিংককে ৭৭২ কোটি ৫১ লাখ, রবিকে ৭২৭ কোটি ৮৯ লাখ এবং সিটিসেলকে ১৬৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা দিতে বলা হয়েছে।

অর্থসংকটের কারণে এ টাকা দেয়ার সময় বাড়ানোর আবেদন করে অপারেটররা। তবে সময় বাড়ানোর আবেদনে সাড়া দেয়নি বিটিআরসি। এ নিয়ে গত ২৬ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়। বৈঠকে এ সমস্যার দ্রুত সমাধানে পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করা হয়। অন্যদিকে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা জমা দেয়ার শেষ দিনেও কোনো অপারেটরই লাইসেন্স নবায়নের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা জমা দেয়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈঠকের পর বিটিআরসি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও অপারেটরদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তির প্রস্তাব করা হয়। টুজি লাইসেন্স নবায়ন এবং দেনা-পাওনা পরিশোধের বিষয়ে সমঝোতা চুক্তির রূপরেখার খসড়া তৈরি করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে লাইসেন্স নবায়নে যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল সে বিষয়গুলোসহ মোট ১২টি শর্ত রয়েছে এ খসড়ায়। বৈঠকে আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে অপারেটরদের মামলা তুলে নেয়া ও লাইসেন্স নবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়। আর বিটিআরসির সব পাওনা অপারেটররা ৩১ আগস্টের মধ্যে পরিশোধ করবে বলে এতে সিদ্ধান্ত হয়।

পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও বিষয়টির সমাধানে পদক্ষেপ নিতে সুপারিশ করে। তবে সরকারের লিখিত নির্দেশ না পেলে দেনা-পাওনা পরিশোধ না করে লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না বলে জানায় বিটিআরসি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ আগস্ট বিটিআরসিকে এক চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। এতে দেনা-পাওনা পরিশোধের বিষয়ে অপারেটরদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে সাত দিনের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন করতে বলে মন্ত্রণালয়।

গত ২ আগস্ট চার অপারেটরকে লাইসেন্স নিতে চিঠি দেয় বিটিআরসি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উপযুক্ত প্রতিনিধি পাঠানোর কথা বলা হয় চিঠিতে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার চার প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা বিটিআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেন।

এর আগে বিটিআরসি সমঝোতার খসড়া পর্যালোচনা করছে এবং পর্যালোচনার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির চেয়ারম্যান। সংস্থাটির সূত্রে জানা গেছে, মূলত লাইসেন্স নবায়নে আইনগত বিভিন্ন ধরনের সমস্যা এড়াতে সমঝোতায় আসতে চাইছে না বিটিআরসি।

সৌজন্যে: বণিক বার্তা