নিরাপত্তা রোবট তৈরি করলো এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

(প্রিয় টেক) সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) এর ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ইন্সটিটিউট অফ এনার্জি, এনভায়রনমেন্ট, রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইইইআরডি) প্রজেক্ট এক্সপোজিশন-২০১২। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদই অংশগ্রহণ করে। পৃথক পৃথক স্টলে অনুষদগুলো প্রদর্শন করে তাদের স্ব-উদ্ভাবিত প্রকল্পসমূহ। তবে এবারও কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল অনুষদের (সিএসই) মূল আকর্ষণ ছিল রোবট। এবার তারা তৈরি করে "ডোরেমন সার্ভেলেন্স রোবট"।

প্রকল্পটি তৈরি করে অনুষদের চতুর্থ বর্ষের আবদুল্লাহ-আল-নাসের, রিয়াজূল ইসলাম জনি, শাকিল খান রাজু এবং রাইয়েনা আলম ঝিলিক। প্রকল্পটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সিএসই বিভাগের প্রভাষক এ এস জাফরুল্লাহ্ মমতাজ এবং জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মোঃ আরিফ রেজা আনোয়ারী।
ডোরেমন সার্ভেলেন্স রোবট এর বিস্তারিত জানতে চাইলে প্রভাষক জাফরুল্লাহ্ মমতাজ বলেন, এটি তৈরির মূল উদ্দেশ্য হল মনুষ্য প্রহরীর অবর্তমানে কিংবা পরিবর্তে, বাসা অথবা যে কোনো ধরনের প্রতিষ্ঠানের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এটি পুরোপুরি ভয়েস কমান্ডে পরিচালিত। ব্যাটারি চালিত রোবটটি যেন স্বাধীনভাবে চারপাশে চলাফেরা করতে পারে সেজন্য রয়েছে তিনটি চাকা। এর মধ্যে দু'টি ব্যবহার করা হয় গতির জন্য; আর অপরটি ব্যবহার করা হয় ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য। আশেপাশের পরিবেশ-পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য রয়েছে নানা ধরনের সেন্সর। উচ্চতাপ পর্যবেক্ষণ করার জন্য রয়েছে থার্মাল সেন্সর, সব ধরনের বস্তুর চলাফেরা পর্যবেক্ষণের জন্য রয়েছে পিআইআর(প্যাসিভ ইনফ্রা-রেড) সেন্সর এবং ক্যামেরা।
যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে ডোরেমন সার্ভেলেন্স রোবট তার নিয়ন্ত্রণকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করবে মোবাইল ফোনে এসএমএস এর মাধ্যমে। উদাহরণ স্বরূপ, অগ্নিকান্ডের মতো দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে এটি তার নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং অগ্নিনির্বাপণ কর্তৃপক্ষ উভয়ের কাছে এস এম এস পাঠিয়ে বিপদ সম্পর্কে অবগত করে। একই সাথে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। একই ভাবে, চুরি-ডাকাতির মতো ঘটনাই এটি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ কর্তৃপক্ষ উভয়ের কাছে এসএমএস এর মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দেয়।
ডোরেমন সার্ভেলেন্স রোবট এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে জাফরুল্লাহ্ মমতাজ আরও বলেন, বর্তমান প্রজেক্টটি সর্বমোট দু’টি মাইক্রোপ্রসেসর উপর নির্ভরশীল; যার একটি এর চলাচল, উপাত্ত সংগ্রহে সাহায্য করে এবং অপরটি এই সংগৃহীত উপাত্ত পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করে। ডোরেমন সার্ভেলেন্স রোবট এর নতুন যে প্রজন্ম আসবে, সেটিতে প্রসেসর থাকবে একটি। অন্যদিকে, এটি ইংরেজি ভয়েস কমান্ডের পরিবর্তে চলবে সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় দিক-নির্দেশনায়। অন্যদিকে সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করার জন্য এস এম এস এর পাশাপাশি এম এম এস পাঠানোরও ব্যবস্থা থাকবে এবং ইন্টারনেট এ পুরো আপডেট পাওয়া যাবে। যদি সব ধরনের আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা অব্যাহত থাকে তবে চমক দেখানো সময়ের ব্যাপার মাত্র।
আইইইআরডি এর তিন দিন ব্যাপী এই আয়োজনে ইউএপি’র পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে ছিল উদ্ভাবকদের প্রাণের মেলা। আয়োজনের প্রথমদিনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন অধ্যাপক ডক্টর এম নুরুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ডক্টর আইনুন নিসাত। পুরো আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন, ইউএপি'র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী, প্রো ভিসি প্রফেসর ড. এম আর কবীর।













