প্রযুক্তি ও আমি : আবির খান সানি

(প্রিয় টেক) জন্ম পাবনা সদরে, ছোট বেলা বেড়ে ওঠা সেখানেই। গ্রামের স্কুল থেকেই পাশ করেছেন এসএসসি। এরপর কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ এইচএসসি । বর্তমানে আইইউবিএটিতে ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি করছেন ওয়েব ডিজাইন ও গ্রাফিক্স ডিজাইন। প্রিয় প্রযুক্তি ও আমি’তে শুনবো আবির খান সানি'র প্রযুক্তি বিষয় বিভিন্ন কথা।

প্রিয় টেক : বাংলাদেশের প্রযুক্তি নিয়ে ভাবনা ?
আবির খান সানি: বাংলাদেশে অনেক মেধাবী আছে যাদের হাত ধরে বাংলাদেশের প্রযুক্তি অনেক দূর যেতে পারে। শুধু দরকার সঠিক দিকনির্দেশনা ও সুযোগ। আমার মনে হয় দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য যারা অভিজ্ঞ আছেন, তাদের আরও উদার হওয়া উচিৎ। আমাদের এই মেধা আর অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটাতে পাড়লে আমরা অনেক এগিয়ে যাবো এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ পরিচিতি পাবে।
বাংলাদেশের আউটসোর্সিং এর সাফল্য আমাদের এগিয়ে যাওয়ার একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অনেকেই আউটসোর্সিং-কে পেশা হিসাবে নিয়েছে। তারা পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করে ভাল উপার্জন করছে। সরকার যদি আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে তবে আমাদের সামনের পথ আরও মসৃণ হবে।
বর্তমানে আমরা যে সফটওয়্যারগুলো ব্যবহার করছি তার বেশীর ভাগেরই কপিরাইট নেই। এর ফলে আমরা বিভিন্ন সমস্যায় পরতে পারি। সফটওয়্যার পাইরেসি সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আমাদের ওপেন সোর্স সফটওয়্যারের দিকে নজর দেয়া উচিত।
প্রিয় টেক : বাংলাদেশের প্রযুক্তির ভালো দিকগুলো ?
আবির খান সানি: বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে প্রযুক্তিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ তার মধ্যে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ।
এখন মানুষ ইন্টারনেট বলতে শুধু ফেসবুক বোঝে না। ইন্টারনেটের সাহায্যে এখন পড়াশুনা করা, আউটসোর্সিং সহ আরও অনেক কাজ করা যায় এটা সকলেরই জানা।
সকল ব্যাংকের এখন বড় বড় হিসাবের বই-এর পরিবর্তে কম্পিউটার ব্যবহার করা হচ্ছে। চেক বই দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা তোলার পরিবর্তে কার্ডের/এটিএম-এর ব্যবহার করা হচ্ছে।
মোবাইল ফোন বা পোস্ট অফিস এর মাধ্যমে টাকা স্থানান্তর পদ্ধতিটি আরেকটি ভালো দিক। এস.এম.এস-এর মাধ্যমে বিভিন্ন ফর্ম পূরণ এবং ফলাফল প্রকাশ করার ফলে আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে।
প্রিয় টেক : আপনি কি কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন ?
আবির খান সানি: আমি মূলত ওয়েব ডিজাইন ও গ্রাফিক্স ডিজাইন তথা আউটসোর্সিংয়ের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করি। পাশাপাশি পড়াশোনার কাজে আর ফেসবুক তো আছেই।
প্রিয় টেক : আপনি কি কাজ করছেন?
আবির খান সানি: আমি গ্রাফিক্স ডিজাইন-এর তুলনায় ওয়েব ডেভেলপকে বেশি পছন্দ করি। কাজ করছি আহবান নেটওয়ার্ক (ahoban.com) এর সাথে। এছাড়া ফ্রিল্যান্সার.কম তো আছেই। আমি মোবাইল এর উপযোগী সামাজিক যোগাযোগ সাইট নিয়ে কাজ কাজ করেছি। আমার করা কিছু সাইট হল : Velentinebd.com, Hdadda.com, Wapyeard.com, Remixbd.net, Bdcafe24.com
সাইটগুলো মোবাইল এর জন্য করাতে ডব্লিউএমএল ব্যবহার করেছি।
প্রিয় টেক : সরকারের আর কি করা উচিত প্রযুক্তির উন্নতির জন্য?
আবির খান সানি: বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট এর দাম কমালে প্রযুক্তি আমাদের আরও নিকটে আসবে। ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধি করলে আমাদের এগিয়ে যাওয়া তরান্বিত হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে ইন্টারনেট সহজলভ্য ও উচ্চ গতির করা আর দাম কমানোর পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ এর নিশ্চয়তা দেয়ার বিকল্প নাই। আর সেই সাথে গ্রাম পর্যন্ত প্রযুক্তির আলো পৌঁছে দেয়া উচিৎ।
ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং বাংলাদেশের জন্য এক ব্যাপক সম্ভাবনাময় খাত। এখন পর্যন্ত এখান থেকে যা অর্জন সেটা পুরোটাই ব্যক্তিগত উদ্যোগের ফসল। সরকার এদিকে নজর দিলে খুব দ্রুত আমরা উন্নতি করতে পারব।
প্রিয় টেক : কি কি সামাজিক সাইট ব্যবহার করেন ?
আবির খান সানি: আমি ফেসবুক এবং আমার করা মোবাইল ওয়াপ কমিউনিটি গুলোতে যাই।
প্রিয় টেক : ব্যবহার করা সাইট গুলো নিয়ে কোন (ভালো বা খারাপ) অভিজ্ঞতা ?
আবির খান সানি: ফেসবুকে মাঝে মাঝে ফেক আইডি থেকে বাজে ম্যাসেজ, ওয়ালে বাজে ছবি এগুলো খুব ভোগায়।
প্রিয় টেক : প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ?
আবির খান সানি: বাংলাদেশের জন্য প্রযুক্তি এক অপার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। এই সম্ভাবনা আর মেধাকে কাজে লাগাতে পাড়লে আমরা অচিরেই অনেক দূর এগিয়ে যাবো। আর এর জন্য ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিংকে অনেক বেশী গুরুত্ব দেয়া উচিৎ। এই খাতে আমাদের সম্ভাবনা অনেক বেশী।
প্রিয় টেক : সর্বশেষ আপনার আর কিছু বলার থাকলে ?
আবির খান সানি: আমি মনে করি আমরা যদি সঠিক সুযোগ পাই তবে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যাবো। সে দিন খুব বেশী দুরে নয়, যে দিন বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ পরিচিতি পাবে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে।
প্রিয় টেক : প্রিয়কে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
আবির খান সানি: আপনাকে ও প্রিয় টেককে অনেক শুভেচ্ছা।












