দেশের ৪ মোবাইলফোন পরিচালকের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করেনি এনবিআর

(প্রিয় টেক) দেশের চারটি মোবাইলফোন পরিচালকের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৭০০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করতে পারেনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। অভিযুক্ত চারটি কোম্পানি হলো গ্রামীণফোন লিমিটেড, টি এম ইন্টারন্যাশনাল (বর্তমানে রবি), প্যাসিফিক বিডি টেলিকম লিমিটেড (সিটিসেল) এবং সেবা টেলিকম প্রাইভেট লিমিটেড (বর্তমানে বাংলালিংক)। এ জন্য আজ রোববার সরকারি হিসাব-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে বলে বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মহীউদ্দীন খান আলমগির সাংবাদিকদের জানান।
বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, ২০০৬ সালের আগস্ট থেকে ২০০৭ সালের মার্চ পর্যন্ত চারটি মোবাইল ফোন কোম্পানি সিমকার্ড ও রিমকার্ডের বিক্রয়মূল্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) পরিশোধ করেনি। এতে সরকারের ৭৪১ কোটি ৬১ লাখ ৪৩ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। আদায়যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও এই টাকা কেন আদায় করা হয়নি, এ বিষয়ে কমিটি তিন মাসের মধ্যে এনবিআরের কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে। একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দলিলপত্র কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।
এদিকে বৈঠকে এনবিআরের চেয়ারম্যান উপস্থিত না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে কমিটি এবং পরবর্তী বৈঠকে উপস্থিত না থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সংসদ অবমাননার অভিযোগ আনা হবে বলে কমিটি সূত্র জানায়।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মহীউদ্দীন খান আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, "কমিটি বিশ্লেষণ করে দেখেছে, এনবিআর চারটি মোবাইলফোন কোম্পানির কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করেনি। যতটুকু ক্ষিপ্রতা ও আনুগত্যের সঙ্গে কাজ করার কথা, তারা সেটা করেনি। তারা বলছে, উচ্চ আদালতের একটি আদেশের কারণে এই কর আদায়ের প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে আছে। কিন্তু তা ঠিক নয়। ওই সময় করা রিটটি আপিল বিভাগ স্থগিত করে দেন। ট্যারিফ মূল্যের আদেশটি বাতিল করা হয়নি।”
কমিটি এনবিআরকে এ বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা দিতে বলেছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, “তৎকালীন সরকারের (চারদলীয় জোট ও সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার) আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন তারাও এই কাজে গাফিলতি করেছেন।"
“পুরো বিষয়টির ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য এনবিআর চেয়ারম্যানকে বৈঠকে হাজির থাকতে বলা হলেও তিনি আসেন নি। তার না আসায় কমিটি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে আগামী বৈঠকে না আসলে সংসদ অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।”
কমিটির সদস্য মো. আলী আশরাফ, মো. আব্দুস শহীদ, ড. টি আই এম ফজলে রাব্বি চৌধুরী, মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক, খান টিপু সুলতান ও ফরিদা আখতার বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়া মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।













