অষ্ট্রেলিয়াতে চলছে মাইক্রোসফট ইমাজিন কাপ

PriyoTech's picture

(প্রিয় টেক) ৬ জুন থেকে ডার্লিং হারবার ঘেঁষা সম্মেলন কেন্দ্রটিতেই বসেছে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় সফটওয়্যার তথা তথ্যপ্রযুক্তি সমাধান তৈরির প্রতিযোগিতা ‘ইমাজিন কাপ’। শীর্ষ সফটওয়্যার নির্মাতা মাইক্রোসফট কর্পোরেশন এর আয়োজক। ৭৫টি দেশের ১০৬টি দল এতে অংশ নিচ্ছে।
এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের নবীন প্রযুক্তিবিদেরা ‘অন্নপূর্ণা’ নামের কৃষি বিষয়ক একটি সফটওয়্যার নিয়ে চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিচ্ছেন।

ইমাজিন কাপ উদ্বোধন করেন অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস প্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী অ্যাড্রিয়ান পিকোলি। এ সময় তিনি বলেন, দুই কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশ অস্ট্রেলিয়ায় ৪০ জন নোবেল বিজয়ী আছেন। সার্ভিক্যাল ক্যানসারের ওষুধ ও বায়োনিক চোখের মতো অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি উদ্ভাবনের কথাও বললেন মন্ত্রী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ডের ভিডিও বক্তব্য দেখানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তার ভিডিও বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা স্বপ্ন দেখি মুক্ত সমাজ গড়ার, যেখানে সৃজনশীল প্রযুক্তি একটা বড় ভূমিকা রাখবে।’
জমজমাট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেষে বক্তারা বলেন, আজকের তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাইক্রোসফট দেখছে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নির্মাতাদের। এই তরুণেরা বদলে দেবেন আগামী দিনের বিশ্ব। এই জন মাইক্রোসফট সব সময় তরুণদের সাথে আছে। আগামীতে থাকবে।

এবার ১০ বছর পূর্তি হলো ইমাজিন কাপের। ২০০৩ সালে স্পেনের বার্সেলোনায় বসেছিল এর প্রথম আসর।
মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে বলা হয়, তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে তারা পৃষ্ঠপোষকতা ও অনুপ্রেরণা দিয়ে যাবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাইক্রোসফটের কৌশলগত এবং উঠতি ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের কর্পোরেট ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল লিউইন, মাইক্রোসট ডেভেলপার অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম ইভানজালিজম গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়ালিদ আবু-হাবদা, মাইক্রোসফট অস্ট্রেলিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিপ মারলোসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

ইমাজিন কাপে এবার বিজয়ীদের মোট এক লাখ ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়া সব প্রতিযোগী পাবেন মাইক্রোসফটের চেয়ারম্যান বিল গেটস ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিভ বালমারের সই করা সনদপত্র। এ ছাড়া প্রথম দিন অংশগ্রহণকারীকে একটি করে নকিয়া লুমিয়া স্মার্টফোন দেওয়া হয়।
সফটওয়্যার ডিজাইন প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি ৭২টি দল অংশ নিচ্ছে।


বাংলাদেশের টিম ইঞ্জিন ‘অন্নপূর্ণা’ নামের সফটওয়্যার নিয়ে চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিচ্ছে। অন্নপূর্ণা প্রতিযোগিতায় সফটওয়্যার দিয়ে কিভাবে বিভিন্ন এলাকার মাটির অবস্থা বুঝে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঠিক বীজ নির্বাচন, সার ও কীটনাশকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী দলটিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন।

গত বছরের ইমাজিন কাপে বাংলাদেশ ‘পিপলস চয়েস’ পুরস্কার পেয়েছিল।