বিসিএসের আলোচনা : আউটসোসিং প্রতারণা বিষয় আরো কঠিন হওয়া উচিত

(প্রিয় টেক) বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) এর আয়োজনে ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়ে গেল জাতীয় বাজেট ২০১২-২০১৩ এর প্রেক্ষিতে বিসিএসের প্রতিক্রিয়া এবং আউটসোর্সিং প্রতারণা নিয়ে দিকনির্দেশনা সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলন। সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির কার্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিসিএস সভাপতি মো: ফয়েজউল্যাহ্ খান।
এ সময় মোঃ: ফয়েজউল্যাহ্ খান এবারের বাজেটকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করে সরকারকে অভিনন্দন জানান। তবে তিনি বলেন যে, সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে প্রতিশ্রুতি দেশবাসীকে দিয়েছে সেই তুলনায় বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তিকে যথাযথভাবে অগ্রাধিকার দেয়া হয়নি। আমরা অর্থমন্ত্রীর কাছে তথ্য-প্রযুক্তির উন্নতির জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করে ছিলাম। তার যথাযথ বাস্তবায়ন আমরা পাই নি।

জাতীয় বাজেট ২০১২-১৩ সংক্রান্ত প্রতিক্রিয়া এবং আউটসোর্সিং নিয়ে প্রতারণা সংক্রান্ত বিষয়ে বিসিএসের পরিচালক মোস্তাফা জব্বার আলোচনায় করেন। তিনি তার আলোচনায় বলেন, 'বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে, কিছু অসাধু মাল্টি লেভেল মার্কেটিং চক্র আউটসোর্সিং এর নামে সাধারণ জনগণ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে। তথ্যপ্রযুক্তির জাতীয় সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি মনে করে, এ ব্যাপারে তরুণ প্রজন্মকে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা জরুরী।'
তিনি আরো বলেন, 'বেশ কিছুদিন ধরেই আউটসোর্সিং শব্দ তরুণ প্রজন্মকে বেশ উৎসাহিত করছে। সেই শব্দটি হলো। মাঝে মাঝে কারও কারও সফলতার ইতিহাস মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার ফলে অনেকেরই আশাবাদ আরও বড় হয়েছে।'
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গার্টনারের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বের ৩০টি আউটসোর্সিং দেশের মধ্যে বাংলাদেশের স্থান রয়েছে। এছাড়া বেসরকারিভাবে বলা হচ্ছে যে, প্রায় ৫০ হাজার ছেলেমেয়ে আউটসোর্সিং করছে এবং তাদের মাঝে প্রায় ৫০০০ অত্যন্ত সক্রিয় আছে। এদের গত বছরের আয় প্রায় ১১ মিলিয়ন ডলার বলেও প্রচার করা হচ্ছে। যা ২০১২ সালে ৩০ মিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে।
আলোচনায় আরো জানানো হয়, আউটসোর্সিং হলো বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য একটি পরম সম্ভাবনাময় খাত। কিন্তু এই সম্ভাবনাময় খাত কিছু দুষ্টচক্রের প্রতারণার কারণে আজ হুমকির সম্মুখীন। তরুণ প্রজন্ম আজ দিকভ্রান্ত। আউটসোর্সিং নামধারী বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে সদস্য হতে একজনকে পাঁচ হাজার টাকা থেকে সাড়ে আট হাজার টাকা নিবন্ধন ফি জমা দিতে হয়েছে। এরপর সেই সদস্যকে আয় করার জন্য অনলাইনের প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় ঢুকে তাঁদের নির্ধারিত কিছু বিজ্ঞাপনে ক্লিক করতে হয়েছে। এভাবে একজন সদস্যকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০০টি ক্লিক করলে তাঁর হিসেবে এক ডলার করে জমা হয়েছে। এ ধরণের প্রতিষ্ঠানগুলোর হাত থেকে আমাদের সকলকে আরো বেশী সাবধান থাকতে হবে। এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজন হলে আইন প্রয়োগ করতে হবে।
আলোচনা অনুষ্ঠানে আরো অংশগ্রহণ করেন বিসিএসের সহ-সভাপতি মোঃ. মঈনুল ইসলাম, মহাসচিব মো. শাহিদ-উল-মুনীর, কোষাধ্যক্ষ জাবেদুর রহমান শাহীন, পরিচালক মজিবুর রহমান স্বপন ও সফটওয়্যার অ্যান্ড আইটি এনাবেল্ড স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য মো. রফিকুল ইসলামসহ অনেকে। এবং বাংলাদেশের স্বনামধন্য প্রচার ও গণমাধ্যমের বিভিন্ন সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।










