হাইটেক পার্কসহ ২ প্রকল্পেও বিশ্বব্যাংকের অর্থ অনিশ্চিত

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের প্রতিশ্রুত এক হাজার কোটিরও বেশি টাকা প্রাপ্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সকল প্রক্রিয়া শেষ করে গত ফেরুয়ারি মাস থেকে আলোচ্য টাকা ছাড় করার কথা ছিল। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে পরে জানানো হবে। এদিকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) বিশ্বব্যাংক মৌখিকভাবে জানিয়েছে তারা ঐ দুটি প্রকল্পে আপাতত অর্থায়ন করছে না। ইআরডির দায়িত্বশীল সূত্র এ খবর নিশ্চিত করেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর বেশি কিছু জানাননি তিনি।

জানা যায়, বেসরকারি খাত উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্পের (পিএসডিএসপি) আওতায় হাইটেক পার্কে চলাচলে সুবিধার জন্য ঢাকা-কালিয়াকৈর শাটল ট্রেনপথ নির্মাণসহ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক ৫৫০ কোটি টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এ অনুযায়ী দুইপক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সব প্রস্তুতি শেষ হলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে গত মার্চ মাসে বিশ্বব্যাংক বেঁকে বসে। বিষয়টির আর্থিক অনুমোদনের জন্য বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় উত্থাপনের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। উল্টো বিশ্বব্যাংক থেকে জানানো হয়েছে বিষয়টি পরবর্তী সময় জানানো হবে। দুই বছর মেয়াদি এই প্রকল্প নতুন অর্থ বছর থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। ইআরডির একটি সূত্র জানিয়েছে প্রকৃতপক্ষে বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পের অর্থায়ন স্থগিত করেছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে চিঠি দিয়ে মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানিয়ে দেবে বিশ্বব্যাংক।
অপরদিকে ‘লেভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড গভর্নেন্স’ প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংক ২০০৭ সালে সরকারের সঙ্গে ৫০৯ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনসহ যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করা হয়। প্রকল্পের বিপরীতে প্রতিশ্রুত টাকা ছাড়ের অনুমোদন করার সময় বিশ্বব্যাংক বোর্ড সভায় আর উত্থাপন করা হয়নি বলে জানিয়েছেন কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক ড. জ্ঞানেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। এই প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল গত ফেরুয়ারি মাসে। কিন্তু গত মার্চ মাস থেকে বিশ্বব্যাংক এ বিষয়ে ‘ধীরে চল নীতি’ গ্রহণ করে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আর কোনো যোগাযোগ করেনি তারা। তবে ইআরডির মাধ্যমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানতে পেরেছে যে, বিশ্বব্যাংক এসব প্রকল্পে আর বিনিয়োগে আগ্রহী নয়।
সূত্র জানায়, পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের অধীনে ৩০ হাজার মানুষকে প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন করা, আইসিটির ক্ষেত্রে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৩ থেকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা ছিল এ প্রকল্পের লক্ষ্য। ইউএনডিপি আইসিটির ক্ষেত্রে এই নির্দেশিকা নির্ণয় করে। এছাড়া পাঁচ বছর পর আইসিটি খাত থেকে প্রতিবছর ৫০ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল এই প্রকল্পের সুবিধা হিসেবে।
একটি সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়ে এগোচ্ছে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে তা অনেকটাই সফল হতে পারতো। কিন্তু এই প্রকল্পের অর্থায়ন বিশ্বব্যাংক আপতত অনানুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত রেখেছে বলে দায়িত্বশীল সূত্র জানায়। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে উপজেলা পর্যায়ে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবস্থায় শতভাগ সাফল্য অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। কোরিয়া সরকারের ২৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলা ইন্টারনেট কানেকটিভিটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর জন্য প্রয়োজন প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ। যা বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে করার কথা।
প্রসঙ্গত বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৩৫টি প্রকল্প চালু রয়েছে। এসব প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের বিনিয়োগ রয়েছে ৪৩৫ কোটি টাকা। এছাড়া আরও কিছু প্রকল্পে এক হাজার ৪৫০ কোটি টাকার ঋণ নেয়া আছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য করতে বলা হলে সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, কোন পর্যায়ে বিশ্বব্যাংক কী পরিস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তা বিস্তারিত না জেনে মন্তব্য করা যাবে না। তবে বিশ্বব্যাংক এবং সরকারের মধ্যে যদি কোনক্ষেত্রে বোঝাপড়ার অভাব হয়, তাহলে তা দূর হওয়া প্রয়োজন। কেননা, শুধু একটি দুটি প্রকল্পের মধ্যে বিষয়টি সীমাবদ্ধ নয়। অনেক প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন থাকে। সেজন্য বিশ্বব্যাংকের চাহিদাগুলো ভালভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে। তিনি বলেন, সরকারও নিশ্চয় দেশের স্বার্থের অনুকূলে হয় না—এমন কোনো কাজ করবে না।
সৌজন্যে: শ্যামল সরকার, ইত্তেফাক












