ইমাজিন কাপের সেরা প্রকল্প প্রদর্শনী

(প্রিয় টেক) ইমাজিন কাপের সেরা ১০ প্রকল্প প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হলও। গত ২৮ এপ্রিল রাজধানীর ধানমন্ডির দৃক আইসিটি সেন্টার প্রদর্শন করা হয় এই প্রকল্পের সেরা প্রদর্শনী গুলো। দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীতে বিপুল সংখ্যায় দর্শকদের আগমন ঘটে।

প্রদর্শনী সম্পর্কে জানতে চাইলে আয়োজকরা বলেন, প্রচলিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পৃথিবীর বড় বড় সমস্যা সমাধানে বিশ্বব্যাপী শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে ২০০৩ সালে শুরু হয় সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট প্রতিযোগিতা ‘মাইক্রোসফট ইমাজিন কাপ’। এটি বাংলাদেশে দ্বিতীয় মাইক্রোসফট ইমাজিন কাপের আয়োজন।
এ বছর জুলাই মাসে দশম বারের মতো অস্ট্রেলিয়ার সিডনীতে আয়োজিত হবে মাইক্রোসফট ইমাজিন কাপ ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফাইনাল। চলতি বছরেও দেশে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আয়োজন শুরু হয়েছে। এবারে দেশজুড়ে প্রায় ৩০০টি দল অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করে এবং ১৪টি দলের আবেদন প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করা হয়। অবশেষে ১০ টি দল তাদের প্রকল্প সফলভাবে তৈরি করতে সক্ষম হয় । তাদের নিয়ে আমাদের এই আয়োজন।

প্রদর্শন করা বাংলাদেশের চূড়ান্ত পর্যায়ে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ছিলও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অ্যাংরি কোডার।’ যাদের প্রকল্পের নাম ‘স্মার্ট অ্যাগ্রো’। এরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্য, মাতৃ মৃত্যু, শিশু মৃত্যু, ফল-ফসলের ব্যাপক রোগবালাই ও পরিবেশ বিপর্যয়ের মত সমস্যার সমাধানে এটি মোবাইল ফোন ভিত্তিক একটি সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন।
অংশ নেওয়া আহসানুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ‘অস্ট ফোরবিট’ বিকলাঙ্গদের জন্য উদ্ভাবন করেছে ‘হেল্পিং সিস্টেম ফর ফিজিক্যালি ডিজেবল পিপল ইউজিং ভয়েস প্রসেসিং’ নামের সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সমাহার।

ইমাজিন পাকের প্রদর্শনীতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ‘ডেক্সচারাস’ উদ্ভাবন করেছে ‘সেইভ এনার্জি, সেইভ দা গ্রিন’ নামের একটি বুদ্ধিমান সিস্টেম যা নবায়নযোগ্য ব্যবহার করে একটি টেকসই প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ আইটি’র দল ‘আইআইটি ফোনিক্স’র উদ্ভাবন ‘বেটার টুগেদার’। এটি একটি ইন্টারনেট ভিত্তিক সিস্টেম, যেটি তথ্য প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে সাহায্য করবে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ‘লেপ্রিকন’ তাদের উদ্ভাবনী ‘প্রজেক্ট বিটল’ দিয়ে ফসলের রোগ চিহ্নিত করে কৃষকদের সঠিক প্রতিষেধক ব্যবহার করার উপদেশ দিয়ে খাদ্য সমস্যা সমাধানে সাহায্য করতে চায়।
ইউনাইডেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির দল ‘ইউআইইউ ডায়নামিক্স’। তাদের প্রকল্পের নাম ‘হাতে খড়ি’। শিশু-কিশোর, যুবক এবং বয়স্কদের জন্য একটি শিক্ষা মূলক সফটওয়্যার।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দল এমওআর এর প্রকল্প ‘আই কন্ট্রর্ল্ড কার্সর’ যেটি চোখ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি সিস্টেম এবং এর মাধ্যমে শারীরিক প্রতিবন্ধীরা স্বাভাবিক মানুষের মত প্রযুক্তির ব্যবহার করতে পারবে।
বুয়েট, এআইইউবি এবং নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গড়া দল ‘ইঞ্জিন’র উদ্ভাবন জিআইএস ভিত্তিক সফটওয়্যার ‘অন্নপূর্ণা’ যা মোবাইল ফোনের সাহায্যে কৃষককে জমির উপযুক্ততা অনুযায়ী আধুনিক ও উচ্চ ফলনশীল প্রজাতির বীজ ও সার সুপারিশ করতে সক্ষম।
‘জিরো আওয়ার’ পটুয়াখালী প্রযুক্তি ও প্রকল্প বিশ্ববিদ্যালয়ের দল এবং তাদের প্রকল্প মোবাইল ফোনের অ্যাপ্লিকেশন ‘পকেট সুইচ’ যা বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করতে সাহায্য করবে।
ইউনাইডেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আরেকটি দল ‘ইউআইইউ স্ট্রাগলার্স’ তারা অংশ নিয়েছে ‘ইউআইইউ বাংলা ওসিআর’ নিয়ে যা স্ক্যান করা বিভিন্ন ডকুমেন্ট থেকে বাংলা ভাষা চিহ্নিত করতে সক্ষম এবং এর মাধ্যমে বাংলায় ছাপা বিভিন্ন বই বা পত্রিকার ডিজিটাল সংস্করণ তৈরি করা যাবে সহজেই।
উল্লেখ্য, এবারে আয়োজনের সেরা দলটি যাবে দশম বারের মতো অনুষ্ঠিত ইমাজিন কাপে অস্ট্রেলিয়াতে। সেখানে ইমাজিন কাপের বিশ্ব প্রতিযোগিতার আসর বসবে। এ ছাড়া আমাদের সেরা ১০টি প্রকল্পের মধ্য থেকে তিনটি দলের ১২ জন প্রতিযোগী পাবে একটি করে দোয়েল ল্যাপটপ। প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ড আগামী ৪ এবং ৫ মে। সেখানে এই ১০টি প্রকল্প থেকে বিচারকদের রায়ে বিজয়ী নির্বাচন করা হবে। আগামী ৯ মে চূড়ান্ত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানের আরো ছবি পাবেন ফেসবুক পেজে।










