প্রিয়.কম-কে লেখা সৌমেন সেনগুপ্তের খোলা চিঠি

(প্রিয় টেক) সাম্প্রতিক সময়ে পদত্যাগী রেল মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ছেলে সৌমেন সেনগুপ্ত তার মালিকানাধীন সেনগুপ্ত টেলিকমের অর্থের উৎস নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হন। সেখানে তিনি ৫ কোটি টাকার বিনিময়ে আইসিএক্স লাইসেন্স নেয়ার ব্যাপারে বিস্তারিত জানান দুদকের প্রতিনিধি দলকে।
সেই সাথে প্রিয় টেকের পাঠকদের জন্য একটি চিঠি দিয়েছেন। আমরা মনে করি, যেকোন নাগরীকের তার আত্মপক্ষ সমর্থন করার অধিকার রয়েছে। তাই, সৌমেন সেনগুপ্তের সেই চিঠিটি এখানে হুবহু তুলে ধরা হলো।

প্রিয় পাঠক,
আমি সৌমেন সেনগুপ্ত, সেনগুপ্ত টেলিকমিউনিকেশন প্রাইভেট লিমিটেডের একজন পরিচালক ও শেয়ার হোল্ডার। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন বিষয়ে বিভিন্ন গণ মাধ্যমে প্রচারিত, প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে এবং দুদকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আজ আমি দুদক কার্যালয়ে এসেছি আমার সম্পদ ও টেলিকম কোম্পানি সম্পর্কে অবহিত করতে।
দুদককে আমি জানিয়েছি আমার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত কোন সম্পদ নেই। পারিবারিক সে সহায় সম্পত্তি আছে তা আমার এবং আমার সজনদের জ্ঞাতসারেই আছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও জানা আছে। দুদককে আমি আরও জানিয়েছি যে, পেশায় আমি একজন আইটি বিশেষজ্ঞ। এ বিষয়ে কানাডায় উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে দেশে ফিরে এসেছি। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ পরিকল্পনার অধীনে টেলিকমিউনিকেশনে অগ্রগতির বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারের টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান তিনটি আইসিএক্স কোম্পানি থাকার পরও জনগণের সেবা বাড়ানোর জন্য নতুন আইসিএক্স লাইসেন্সের জন্য আবেদনপত্র আহ্বান করে। একজন আইটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমার আরও কয়েকজন দক্ষ আইটি বিশেষজ্ঞ এবং ক'জন ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাকে সাথে নিয়ে আমরা মাত্র ষাট হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে সেনগুপ্ত টেলিকমিউনিকেশন প্রাঃ লিঃ নামে একটি কোম্পানি গঠন করি। দেশের প্রচলিত আইন মতে এবং একজন নাগরিক হিসেবে ঐ কোম্পানি গঠন করে আমরা আইসিএক্স লাইসেন্সের জন্য আবেদন করি।
মোট ৫১ টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। বিটিআরসি সকল আবেদনপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ২২ টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্সের অনুমোদন প্রদান করে। সেনগুপ্ত টেলিকম ২২ টি প্রতিষ্ঠানের একটি। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী আমাদের কোম্পানির বিশেষজ্ঞ এবং ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে সর্বমোট ৫ কোটি ৫০ হাজার টাকা কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দেয়া হয়। এই কোম্পানির আমি একজন ওয়ার্কিং পার্টনার ও উদ্যোক্তা। পেশাগত দক্ষতা ও পরিশ্রমই আমার মূল বিনিয়োগ। এছাড়া খুবই নগণ্য পরিমাণ টাকা কোম্পানি গঠনের সময় আমি বিনিয়োগ করেছি। এর সবিস্তারিত দালিলিক প্রমাণ দুদকে জমা দিয়েছি।
প্রিয় পাঠক,
বিগত কিছুদিন ধরে কতিপয় গণমাধ্যমে টেলিকম ব্যবসার ৫ কোটি ৫০ হাজার টাকা আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে জমা দেয়াসহ আমার সম্পদের বিবরণের মনগড়া, অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক খবর ছাপা হয়েছে। এধরণের সংবাদ আমার ও আমার পরিবারের জন্য মানহানিকর। আমি আশা করব দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের সকলে প্রকৃত সত্য ও তথ্য তুলে ধরে সকলকে সহযোগিতা করবেন।
আমি দৃঢ় কণ্ঠে বলতে চাই - আমি একজন পরিশ্রমী আইটি বিশেষজ্ঞ, সৎ পথে উপার্জন ছাড়া অন্য কোন পথ আমার জানা নেই। তাই জ্ঞাত আয় বহির্ভূত কোন সম্পদও আমার নেই। থাকার প্রশ্নই উঠেনা। এ বিষয়ে দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন শেষে সকল বিভ্রান্তির অবসান হবে বলে আমার বিশ্বাস। আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।










