প্রযুক্তি ও আমি : সাইফ রাসেল

PriyoTech's picture

(প্রিয় টেক) সাইফ রাসেল। যদিও অনলাইনে যে সকল নামে লেখে তার মধ্যে “রাসেল১৩” নামটাই বেশি ব্যবহার করে! এতদিন কাজ করেছেন টিউনারপেজ এর এডমিন হিসেবে! আপাতত কিছুদিন সেখানে নেই। আর ঠিক এই মহুর্তে একটা সম্পূর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল সাইট নিয়ে কাজ করছেন তিনি। আশা করছি খুব দ্রুত সবার সামনে সাইটটি উন্মোচন করবে সে । শুনবো তার কথা

বাংলাদেশের প্রযুক্তি নিয়ে আপনার ভাবনা?
একি সাথে আনন্দিত এবং হতাশ ! বাংলাদেশে প্রযুক্তি এখন খুব সহজলভ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, সরকার এ বিষয়ে অনেক চমৎকার সব উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করেছেন, আমি অবশ্যই এর সাধুবাদ জানাই ! কিন্তু দুঃখ লাগে যখন দেখি তারা এর সঠিক ব্যবহার আমাদের সামনে নিয়ে আসতে পারছেন না বা শুধু নামেই ডিজিটালাইজেশন করা হচ্ছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে!

দেশে উৎপাদিত নোটবুক “দোয়েল” এখনো সাধারণ মানুষের হাতে এসে পৌঁছায়নি (অতি নগণ্য পরিমাণের কথা বাদ দিলে) ! এবারের বিসিএস পরীক্ষায় কারিগরি ত্রুটির কারণে অংশগ্রহণ করতে পারছে না সাড়ে ১১ হাজার পরীক্ষার্থী ! মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহার করে রেজিঃ করার এই পদ্ধতি নিয়ে কর্তৃপক্ষের আগে থেকেই ভাবা উচিত ছিলো।

সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন পুরোপুরি প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে যাচ্ছে যা সত্যি আনন্দের সংবাদ, বাংলাদেশের একটি অন্যতম বড় সমস্যা বেকারত্ব এখন প্রযুক্তির কল্যাণে কমে যাচ্ছে, ঘরে বসেই এখন অনেকে পৃথিবীর বড় বড় সব প্রতিষ্ঠান এ কাজ করছেন!

আপনার কাছে দেশের প্রযুক্তির ভালো দিক গুলো কি ?
বাংলাদেশে এখন ওপেনসোর্স এবং ফ্রীওয়্যার এর আধিপত্য শুরু হয়েছে, যেটা সত্যি খুব আনন্দের, আমি এখন পারতো পক্ষে পাইরেটেড প্রডাক্ট, বিশেষ করে বাংলাদেশি পাইরেটে প্রডাক্ট বর্জন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি।

বাংলা ব্লগ, ফোরাম এবং কমিউনিটি সাইটগুলো প্রযুক্তিকে আমাদের দেশের একেবারে আনাচে কানাচে ছড়িয়ে দেবার যে মহান উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশংসার দাবি রাখে। আমি এমন একজনকে চিনি যিনি এক অজপাড়াগায়েঁ সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে কম্পিউটার চালান এবং ঐ রকম একটা পরিবেশে থেকেও তিনি wordpress শিখেছেন বাংলা ব্লগ সাইটের মাধ্যমে।

গ্রামে গ্রামে এখন জন তথ্যকেন্দ্র চালু করা হচ্ছে, যার ফলে গ্রামের সাদামাটা মানুষগুলোও এখন ইন্টারনেট প্রযুক্তির বদৌলতে এগিয়ে যাচ্ছেন সময়ের সাথে। যাদের পরিবারের কেউ বিদেশে ছিলো, যাদের এতদিন যোগাযোগের মাধ্যম ছিলো শুধুমাত্র ডাক বিভাগ, তারাও আজ ইমেইল এবং চ্যাটিং করছেন প্রিয়জনের সাথে! কৃষি শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে ইন্টারনেট ব্যবহার করার ফলে ফসলের কোন ক্ষতির কারন বুঝতে না পারলে তার ছবি তুলে মুহূর্তেই পাঠিয়ে দেয়া যাচ্ছে প্রযুক্তি জানা কৃষিজীবীদের কাছে। মোবাইলের মাধ্যমেই এখন মুহূর্তেই ডাক্তার পাওয়া যাচ্ছে দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে।

আপনি কি কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন?
আমি মূলত নানা ধরণের তথ্য অনুসন্ধান এবং যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ইন্টারনেট ব্যবহার করছি। এছাড়া খুব সামান্য পরিমাণে আউটসোর্সিং করছি ওডেস্কে। মাঝে মাঝে ব্লগ এবং ফোরামগুলোতে লিখার চেষ্টা করি। তবে ইন্টারনেটে মূল ব্যবহারটা হয়ে থাকে মূলত শিক্ষণীয় বিষয়গুলোতে, যেমন এখন আমি মোশন গ্রাফিক্স এবং জাভা শিখার চেষ্টা করছি, অবশ্যই আমাকে সাহায্য করছে ইন্টারনেট!

‌এছাড়া আর কি করছেন?
একটা wordpress-এর প্লাগ-ইনের গ্রাফিক্স ডিজাইন করছি, কিছু সাইটের গ্রাফিক্স নিয়ে কাজ করেছি। এছাড়া সম্পূর্ণ বাংলা একটি টিউটোরিয়াল ব্লগ সাইট তৈরি করছি।

আপনি কোন মডেলের মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার করেন?
আমি ২০০৭-এ প্রথম মোবাইল কিনি, benq-simens-এর ap75 এটা এখনো হাজার দুর্যোগের মধ্যেও অসাধারণ সেবা দিয়ে চলছে আমাকে। এছাড়া Vodafone 541 ব্যবহার করছি।

তবে ২ বছর আগে আমি প্রথম কম্পিউটার কিনি। প্রসেসর: পেন্টিয়াম ফোর ২.৪০ গিগাহার্জ, র‍্যাম ১ জিবি ডিডিআর ১, হার্ড ডিস্ক ১২০ জিবি।

সরকারের আর কি করা উচিত প্রযুক্তির উন্নতির জন্য?
আমার ধারণা প্রথমেই সরকারের উচিত ইন্টারনেট-এর খরচ কমিয়ে দেওয়া, তথ্য প্রযুক্তি খাতে আরো বিনিয়োগ এবং এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন করে তোলা। এছাড়া নবম দশম শ্রেণি নয়, অন্তত ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কম্পিউটার শিক্ষা পাঠ্যবই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

ফ্রীওয়্যার ব্যবহারের প্রতি সবাইকে উৎসাহিত করা, বিশেষ করে পাঠ্যবইতে ২১৯.৯৯ ডলারের উইন্ডোজ এর বদলে বিনামূল্যে বিতরণ করা লিনাক্স-এর ব্যবহার সম্পর্কে লিখা উচিত।

আপনি কি কি সামাজিক সাইট ব্যবহার করে?
আমি ফেসবুক এবং গুগল প্লাস ব্যবহার করছি।

প্রযুক্তি নিয়ে আপনার মজার প্রাপ্তি?
মজার কিছু বলতে গেলে বলতে হয়, স্বাধীনতা দিবস বা একুশে ফেব্রুয়ারিতে যখন আমার ডিজাইন করা প্রোফাইল ছবি কেউ ব্যবহার করে তখন নিজের খুব গর্ব হয়, এরকমই একটা আমার করা ডিজাইন একজন আমাকেই ব্যবহার করতে বলেছিলো! আরো ভালো লাগে যখন একেবারেই চিনি না এমন কেউ এসে আমাকে বলে যে তার সাইটের হেডার বা অন্য কোন ডিজাইন করে দিতে!

প্রযুক্তি কোন বিড়ম্বনা?
কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো বটেই, যখন নেটে সার্ফ করছি তখন হঠাৎ করে পর্ণো বিজ্ঞাপন চলে আসা বা ই-মেইলে কোটিপতি বনে যাওয়ার মতো বিষয়গুলোর সাথে রয়েছে ভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন। বিশেষ করে ফেসবুকে এখন প্রতিদিনই আমি অন্তত একটা করে মিথ্যে তথ্য সম্বলিত লেখা দেখতে পাই যা আবার লেখক শেয়ার করার জন্য সবাইকে উৎসাহিত করে চলেছেন। ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে বিভিন্ন সাইটে, প্রযুক্তির বদৌলতে পাইরেসি অনেক বেশি পরিমাণে বেড়ে গিয়েছে। ক্লিক করে লাখপতি হবার স্বপ্নে ঘুমিয়ে পড়ছে অনেক তরুণ-তরুণী, বা সারাদিন অনলাইন জগতে থেকে বাহিরের জগৎটাকে ভুলে যাচ্ছে অনেকে, এগুলো অবশ্যই কাম্য নয়।

প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভবনা?
এক কথায় অপরিসীম ।

বাংলাদেশ প্রযুক্তি খাতে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা অকল্পনীয়, খুব ভালো লাগে যখন দেখি বাংলাদেশের প্রযুক্তিবিদদের নিয়ে সারা পৃথিবীতে আলোরণ সৃষ্টি হয়, অ্যানিমেশন এ অস্কার বিজয়ী নাফিস বিন জাফর বা মাইক্রোসফট বা অন্য বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করা মানুষগুলোর দিকে তাকালে মনে হয় এরাও তো এই আমাদের দেশেই ছিলো, তারা পারলে আমরা কেনো পারবো না!

এছাড়া ফ্রীল্যান্সিং এ বাংলাদেশ চমৎকার সাফল্য অর্জন করছে, ওডেস্কে আমার জানা মতে বাংলাদেশ চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে, ফ্রীল্যান্সার বা অন্য আউটসোর্সিং সাইটগুলোতেও এখন বাংলাদেশিদের জয়জয়কার। ১৯৮৬ সালের এক হিসেবে দেখা যায় তখন বাংলাদেশের মাত্র ২ শতাংশ শিশুকে টিকাদান করা সম্ভব হয়েছে, আর আজকে সে পরিমাণ প্রায় ১০০%, এর কারন হাল ছেড়ে দেয়া হয় নাই! ঠিক একি ভাবে এই দেশের প্রযুক্তির প্রতিটা ক্ষেত্রে আমাদের হাল ধরে রাখতে হবে, কারন আমরা নিজেরাই জানি যে আমরা পারবো!
বিশ্বাস করুন, আমরা পারবো!

সময় এখন আমাদের এগিয়ে যাবার!

Tags: