পৃথিবীর সুখী দেশের তালিকায় ১১তম বাংলাদেশ। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রশ্ন: কতটা সুখে আছে বাংলাদেশ?

পৃথিবীর শীর্ষ সুখী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ জায়গা করে নিয়েছে। এ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১১তম। যুক্তরাজ্যের বেসরকারি সংস্থা নিউ ইকোনমিকস ফাউন্ডেশন ২০০৬ সাল থেকে প্রতিবছর সুখী দেশের তালিকা প্রকাশ করছে। মানুষের গড় আয়ু, সুখ-সমৃদ্ধি এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পরিবেশগত প্রভাবসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হ্যাপি প্লানেট ইনডেক্স শীর্ষক এই তালিকা তৈরি করা হয়। গত বুধবার এই তালিকা প্রকাশ করার পর দেশের সোস্যাল মিডিয়াগুলোতে প্রশ্ন উঠেছে কতটা সুখী আমাদের বাংলাদেশ? কেউ কেউ এই তালিকাকে স্যালুট দিলেও অনেকেই বলছেন এখানে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে।

বাদল দিনের গান লিখেছেন, সুখে ১১ নম্বর। এতো সুখ কোথায় রাখি?। আমি জানি না এই সুখের জরিপটা তারা কিভাবে করছে। তবে আমার যতটুকু মনে হচ্ছে, তারা এই জরিপটা চালিয়েছে আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের উপর। কারন একমাত্র রাজনীতিবিদদের ছাড়া আমাদের দেশের খুব কম মানুষই আছে যারা সুখী। এবং সেই সুখী মানুষের সংখ্যা এতই নগণ্য যে সেখানে জরিপ চলে না। আমাদের দেশে এখনো অনেক মানুষ আছে যাদের মাথা গুঁজার ঠাই পর্যন্ত নাই, খুলা আকাশের নিচে তাদের বসবাস, রাস্তা ঘাঁট, ফুটপাত যাদের ঘুমের একমাত্র স্থান। এছাড়াও রাস্তা ঘাঁটে বের হলেই ছিনতাই, সন্ত্রাসী হামলা, মারা মারি, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্ম নিয়ে বেহায়া পনা, আর হাজারো সমস্যায় আমাদের এই সমাজ তথা পুরো দেশ টাই আজ অশান্তিতে ভরা। অথচ এতো কিছুর পরেও নাকি আমরা সুখে ১১ নম্বর!
আহমেদ রশীদ এটাকে সাফল্য উল্লেখ করে লিখেছেন, উন্নত দেশগুলোকে পিছিয়ে ফেলে বাংলাদেশ সুখি দেশ হিসেবে ১১তম : আমাদের সরকার। তার ভাষায় সার্বিক উন্নয়ন ও সফলতার মাধ্যম দিয়ে সরকার আজ অনেক এগিয়ে এবং যার প্রেক্ষিতে উন্নত বিশ্বকে পিছিয়ে ফেলে বাংলাদেশ আজ একটা মানসম্মত তালিকায় অবস্থান করেছে । আর এসবই সম্ভব হয়েছে সরকার ও জনগণের উন্নয়নে সহবস্থান। কারণ একটু শান্তি ও সুখী দেশ প্রতিষ্ঠায় লক্ষ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের মাধ্যম দিয়ে আমাদের এ সুখি সমৃদ্ধি দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিতি লাভ করেছে। আমরা চাই এ উন্নয়ন অব্যাহত থাকুক এবং এ দেশ যেন বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে এ কামনা সকলের।
হাকিম নামের একজন ব্লগার লিখেছেন, সুখী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ১১তম আর আমেরিকা ১০৫। তার লেখায় মন্তব্য করতে গিয়ে অনেকে লিখেছেন, ধানের মনপ্রতি উৎপাদন খরচ গড় ৫৫০টাকা।কৃষকের বিক্রয় মুল্য ৪৫০টাকা।সরকারের ক্রয়মুল্য ৭০০টাকা ভোক্তার ক্রয়মুল্য ৮০০টাকা।
অতএব বাংলাদেশের প্রায় সবাই ফরিয়া।ও ১১তম সুখি দেশ। আরেকজন লিখেছে, জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বের নিদর্শন এটা। ঝড়ে বক পড়ে, ফকিরের কেরামতি বাড়ে।
সাইদুল হাসান এর বিশ্বের সুখী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১১তম-( সুখে দেশ ভরে গেছে) ! লেখায় ব্লগাররা লিখেছেন, নিশ্চয়ই আনন্দের সংবাদ ! আমিও আনন্দিত কিন্তু আমি ক্ষুদার্ত থাকতে চাই না । আমার টাকা যদি গুপ্ত বাবুদের বাসার দিকে যায় তাইলে আমি আনন্দিত হতে পারি না । অবাক হইলাম!!!! আমি খবরটা কৌতুককর মনে করে হাসলাম । খবরটা পড়েছি। ভাবছি সেটা নিয়েই। সুখে আছি নাকি??
নাঈম আহমেদের লেখা, সুখী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ১১তম এর মন্তব্যে মানিক লিখেছে, যায় হোক ঘুমাতে যাবার পুর্বে ভাল একটি কৌতুক শুনে গেলাম। ভাল ঘুম হবার আশা করি। দুর্বার নামের ব্লগার বলেছেন, যে রিপোর্টটা বানিয়েছে তারে ধরে এক দিন ঢাকার রাস্তায় বসায়ে রাখতে হবে, দেখা যাবে চামড়া সাদা বলে রাতের মধ্যেই গায়েব! তারপর দিন মোটা অঙ্কের চাদা। না দিলে চির গায়েব, মাগার লাশটাও খুঁজে পাবে না। পরের দিন আবার আরেকটারে পাঠাবে সরেজমিনে ভিজিট করার জন্য। এই কাজটা করা ছাড়া আমাদের দেশের কেউ সঠিক তদন্ত করবার পারবে না। শালার দেশের পোড়া কপাল এই কিছু কুলাঙ্গার বুকে ধারন করার জন্য।
নুর ফ্য়জুর রেজা লিখেছেন, সুখী মানুষের র্যােঙ্কিং এবং শুভঙ্করের ফাঁকি। তার ভাষায়, বাংলাদেশের র্যাwঙ্কিং এর বিশ্লেষণে গেলে আমরা দেখতে পারি যে রযাi8ঙ্কিংটা করা হয়েছে তিনটা উপাত্তের গড় থেকে। প্রথম উপাত্তঃ কতটূকু ভালো আছে দেশের মানুষ (Experienced well being)। দ্বিতীয় উপাত্তঃ গড় আয়ু (Life expectancy)। তৃতীয় উপাত্তঃ ব্যবহৃত প্রাকৃতিক শক্তি (Ecological footprint)। আমরা যে র্যা ঙ্কিং নিয়ে এত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছি তা আসলে আমাদের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরে না। বরঞ্চ এটা আমাদের জন্য একটা অশনি সংকেত। এটা ঠিক যে জাতিগতভাবে আমরা অনেক অতিথিবৎসল এবং অল্পতেই তুষ্ট সম্প্রদায়। কিন্তু বাস্তবতা শুধু "সাদা মন" নিয়ে চলে না। নিজেকে সাময়িকভাবে সুখী ভাবলেও ভবিষ্যতে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে তা নিয়ে ভাবাটা অত্যন্ত জরুরী। নোমান নমি ব্লগার তার কমেন্টে লিখেছেন, বাংলাদেশ সুখী দেশে ১১ তম এটাতে অবাক হবার কিছু নেই। কারন এদেশে তিন ঘন্টা পর কারেন্ট আসলে মানুষ বিশ্বজয়ের হাসি হাসে, সাকিব ছক্কা মারলে খুশী হয়,আবুল কথা বললে খুশী হয়।










