মোবাইল স্বাস্থ্য সেবা এম-হেলথ কার্যক্রম চালু

(প্রিয় টেক) জাতীয় পরিসরে আপনজন মোবাইল স্বাস্থ্য এম-হেলথ সবার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হওয়ার পর জাতীয় পরিসরে এটি চালু হল। ইতিমধ্যে ১৭ টি জেলায় ৫৪০ জন কমিউনিটি এজেন্ট গ্রাহক নিবন্ধনের কাজ শুরু করেছে। আপনজন ব্র্যান্ডের অধীনে এটিই প্রথম সেবা। এই সেবার আওতায় গর্ভবতী মা ও এক বছর বয়সের নীচে শিশুর মায়ের জন্য স্বাস্থ্য ও সুস্থ থাকার যাবতীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক যৌথ উদ্যোগ মোবাইল অ্যালায়েন্স ফর মেটারনাল অ্যাকশন (মামা)-এর আওতায় ইউএসএআইডি বাংলাদেশে মোবাইল ফোনে মাতৃ স্বাস্থ্যসেবার এই উদ্যোগ নেয়। আন্তর্জাতিক এই উদ্যোগ আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশসহ তিনটি দেশে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই উদ্যোগের আন্তর্জাতিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহ হল জনসন অ্যান্ড জনসন, এম-হেলথ অ্যালায়েন্স, ইউএন ফাউন্ডেশন এবং বেবি সেন্টার এলএলসি।
বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে একটি উদ্ভাবনী অর্থনৈতিক মডেল ব্যবহারের মাধ্যমে আপনজনই হবে মোবাইলফোন ভিত্তিক প্রথম অর্থনৈতিকভাবে টেকসই স্বাস্থ্য পরামর্শসেবা যা জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। গর্ভবতী ও নবজাতকের মা এবং তাদের পরিবারের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার কমানো এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। মোবাইল ফোন ব্যবহারের মাধ্যমে মাতৃ ও শিশু মৃত্যু-হ্রাস করা এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
এই সেবায় শুধুমাত্র মা ও গর্ভবতীই নয়, সেই সাথে তাদের অভিভাবক হিসেবে স্বামী, শাশুড়ি, মা এবং অন্যকেউ অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। আশা করা যাচ্ছে এই সেবাটি সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৪ ও ৫ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।আশা করা হচ্ছে ২০১৫ সাল নাগাদ দশ লক্ষ গ্রহীতার কাছে আপনজন সেবা পৌঁছে যাবে। বর্তমানে বৃহৎ চারটি মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে পাওয়া গেলেও খুব শীঘ্র মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এই সেবাটি পাওয়া যাবে।
তৃণমূল পর্যায়ে দরিদ্র মায়েদের এই সেবা অন্তর্ভুক্ত করতে উদ্যোগের দেশীয় অংশীদারসমূহ ব্র্যাক, এমচিপ (মা-মনি) সূর্যের হাসি (এসএসএফপি), সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানি (এসএমসি), ফেয়ার প্রাইস ইন্টারন্যাশনাল (তথ্যকল্যাণী) এর মাধ্যমে এই সেবাটির প্রচারণা ও নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় ৫ হাজারের এর অধিক মাঠ কর্মী এবং ৬ হাজার স্বাস্থ্যকেন্দ্র এই সেবা প্রদানের জন্য পর্যায়ক্রমে সম্পৃক্ত হবে। সার্বক্ষণিক গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে এই সেবা নিবন্ধন, গ্রাহকের যে কোন জিজ্ঞাসা এবং অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরামর্শের মাধ্যমে স্বাস্থ্যগত আচরণ পরিবর্তন করতে মায়েদের পাশাপাশি পরিবারের স্বামী, মা, শাশুড়িসহ আপন জনেরা এই সেবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দরিদ্র মায়েদের জন্য এই সেবা বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমানে শতকরা ২৭ ভাগ গ্রাহক এই সেবা উপভোগ করছেন। ২০১৫ সালের মধ্যে প্রতিবছর ২০ লাখ মাকে এই সেবা আওতায় আনা হবে।












