আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড: বাংলাদেশের প্রথম রুপা জয়

(প্রিয় টেক) আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে প্রথমবারের মতো রৌপ্য পদক পেয়েছে বাংলাদেশ দল। ১টি রৌপ্য, ২টি ব্রোঞ্জ, এবং ২টি অনারেবল মেনশন লাভ করেছে বাংলাদেশ গণিত দল। বাংলাদেশের পক্ষে ২৫ নম্বর পেয়ে প্রথম রুপার পদক পেল ধনঞ্জয় বিশ্বাস। প্রতিযোগিতাটিতে এ পর্যন্ত সেরা সাফল্য দিয়েই এবারের অলিম্পিয়াড শেষ করল বাংলাদেশ।

আর্জেন্টিনার মার ডেল প্লাটা শহরে অনুষ্ঠিত ৫৩তম আইএমওর চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হয় স্থানীয় সময় রোববার দুপুরে। এর আগে বিচারকদের চূড়ান্ত সভায় ফল অনুমোদিত হয়।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা ১৪ থেকে ২০ নম্বর পেয়েছে তারা ব্রোঞ্জ, ২১ থেকে ২৭ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীরা রুপা এবং ২৮ ও এর বেশি নম্বরপ্রাপ্তরা স্বর্ণপদক জিতেছে। ধনঞ্জয় বিশ্বাস ২৫, নূর মোহাম্মদ এবং সৌরভ দাশ ১৫ নম্বর পেয়েছে। বাংলাদেশ দলের অন্য দুই সদস্য পেয়েছে সম্মানজনক স্বীকৃতি।
প্রবীণ গণিতবিদ অধ্যাপক খোদাদাদ খান প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘গণিতের এই কঠিন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের এই সাফল্য অনেক বড় খুশির খবর। অভিনন্দন ধনঞ্জয়কে, অভিনন্দন বাংলাদেশ গণিত দলকে।’
বাংলাদেশের এবারকার যাত্রা অষ্টমবারের মতো। ১৯৫৯ সাল থেকে আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজন শুরু হয়। ২০০৪ সালে গ্রিসে অনুষ্ঠিত ৪৫তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান যোগ দেন। বাংলাদেশ সেখানেই আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে। ২০০৫ সালে মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত ৪৬তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে প্রথম অংশ নেয়।

আনন্দিত বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালও। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক ই-মেইল বার্তায় শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে আগামীতে আরও ভালো করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সদস্য ও বুয়েটের অধ্যাপক এম কায়কোবাদ বলেন, ‘এই অর্জন অনেক আনন্দের, অনেক গর্বের। আন্তর্জাতিক এই মেধার লড়াইয়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা আবারও প্রমাণ করল তাদের যোগ্যতা। গণিত নিয়ে যে যাত্রা শুরু করেছিলাম আমরা, তার আরও একধাপ পূর্ণ হলো এই পদকের মাধ্যমে।’ রুপাজয়ী ধনঞ্জয় বিশ্বাস এবার চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। ধনঞ্জয়ের মা স্বপ্না রানী দে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে দিন-রাত সব সময় অঙ্ক নিয়ে পড়ে থাকত। খেলাধুলা-আড্ডা কিছুই করত না। তার সব পরিশ্রম ও সাধনা সত্যি হলো এই অর্জনের মাধ্যমে। অনেক খুশি হয়েছি।’
সন্তানের এই সাফল্যে গর্বিত বাবা মিলন কান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘এই খবরটার জন্য কয়েক দিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম। সেই স্বপ্ন পূরণ হলো।’
আইএমওতে বাংলাদেশের শিশুকাল কাটলেও এরই মধ্যে আমাদের অর্জন খুব একটা খারাপ নয়। ২০০৯ সালে জার্মানির ব্রিমেনে আইএমওর সুবর্ণজয়ন্তীর ৫০তম আয়োজনে সামিন রিয়াসাত ও নাজিয়া চৌধুরী প্রথমবারের মতো অর্জন করে দুটি ব্রোঞ্জ পদক, ২০১০ সালে কাজাখস্তানের আস্তানায় অনুষ্ঠিত ৫১তম আইএমওতে তারিক আদনান এবং ২০১১ সালে নেদারল্যান্ডের আমস্টারডামে ৫২তম আইএমওতে ধনঞ্জয় বিশ্বাস ব্রোঞ্জ পদক পায়। গত ছয় বছরে চারটি ব্রোঞ্জ পদক এবং ১৩টি ‘অনারেবল ম্যানশন’ অর্জন করেছে বাংলাদেশের খুদে গণিতবিদেরা।

এবারের অলিম্পিয়াডে দলগত সাফল্যে দীর্ঘদিনের চ্যাম্পিয়ন চীনকে পেছনে ফেলে এই প্রথমবার দক্ষিণ কোরিয়া প্রথম স্থান দখল করেছে। গতকাল রোববার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এবারের আইএমও শেষ হওয়ার কথা।














