অনলাইনেও হ্যারিকেন স্যান্ডির তাণ্ডব

Mizanur Rahman Sohel's picture

(প্রিয় টেক) যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার বেগে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় স্যান্ডির তাণ্ডবে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বিধ্বস্ত ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এসব এলাকা। বিদ্যুৎ না থাকায় এখন পর্যন্ত সে দেশের ১০ অঙ্গরাজ্য ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক এবং মোবাইল ফোনের টাওয়ার নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Sandy-03.jpg

এদিকে নিউইয়র্ক ভিত্তিক কয়েকটি নিউজ ও ব্লগ সাইট ডাটাগ্রাম, হাফিংটন পোস্ট, গাঁওকার, আইএসপি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাজফিডসহ অনেক অনলাইন সেবা প্রতিষ্ঠানে হারিকেন স্যান্ডির তাণ্ডবে বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া বৃহত্তম মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ভেরাইজন কমিউনিকেশনস কয়েকটি এলাকায় তাদের সেবা সাময়িক ভাবে বন্ধ রেখেছে।

যুক্তরাজ্যের ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন (এফসিসি) বলছে, জেনারেটরের সাহায্যে এখনো কিছু এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার চালু রাখা হয়েছে এবং জ্বালানী শেষ হওয়ার আগেই পুনরায় জ্বালানী সরবরাহের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

Sandy-04.jpg

ল্যান্ডফোন নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কোনো মতো টিকে রয়েছে। যা ভার্জিনিয়া থেকে ম্যাসাচুসেটস পর্যন্ত সেবা দিতে পারছে। তবে এফসিসি বলছে, খুব সামান্য গ্রাহকই এ সেবা পাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কি পরিমান মানুষ রয়েছে তা অনুমান করতে পারছে না এফসিসি।

এফসিসি চেয়ারম্যান জুলিয়াস জেনাসওয়াস্কি বলেছেন, সামান্য খারাপ অবস্থায় থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে সার্ভিসের জন্য কল সেন্টারের ৯১১ নম্বর এখনো সচল রয়েছে। স্যান্ডির কারণে কল সেন্টার গুলো নাস্তানাবুদ অবস্থায় থাকলেও অপারেটরদের স্বয়ংক্রিয় সেবা ৯১১ গ্রাহকরা গ্রহণ করতে পারছে।

সোমবার ম্যানহাটানের দক্ষিণাঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল। এসময় ওয়াল স্ট্রিট এলাকায় ফোন কোম্পানীগুলো ডিজেল জেনারেটর স্যুইচ দিয়ে তথ্য কেন্দ্র গুলো সচল রাখতে সক্ষম হয়।

Capture1.JPG

তবে বিদ্যুৎ এবং জেনারেটর ব্যাকআপ না থাকার কারণে নিউইয়র্ক ভিত্তিক জনপ্রিয় নিউজ ও ব্লগ সাইট Gawker, Huffington সহ আরো অনেক জনপ্রিয় ইন্টারনেট পোর্টাল বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে গাঁওকার এখন পর্যন্ত বন্ধ হয়ে থাকলেও হাফিংটন পোস্ট ইতিমধ্যেই অনলাইনে ফেরত আসতে সক্ষম হয়েছে বলে খবর দেওয়া হয়। তবে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে হাফিংটন পোস্ট আবারো বন্ধ হয়ে গেছে। ওয়েবহোস্ট ডাটাগ্রামের ইনকর্পোরেশন বলছে, আমাদেরও ব্যাকআপ শেষ হয়ে গিয়েছিল পরে পাম্পিং জ্বালানী দিয়ে আমরা পুনরায় অনলাইন সেবা দিতে শুরু করেছি। কিন্তু তাদের এই ঘোষণার পর আবারো তাদের সেবা বন্ধ হয়ে গেছে। তারা জানিয়েছে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানকারী ৩টি সংস্থাও অকেজো হয়ে পরে আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম মোবাইল ফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ভেরাইজন কমিউনিকেশনস ম্যানহাটান অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার কারণে তাদের মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থিত "টেলিকম হোটেল" সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। তবে সোমবার যখন বিদ্যুৎ লাইন কাটা ছিল তখন নিউইয়র্কে অবস্থিত গুগলের প্রধান কার্যালয় মোটামুটি ভালো অবস্থায় ছিল।

Sandy-05.jpg

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনেট মনিটরিং করেন এমন একটি সংস্থা রেনেসি কর্পোরেশন বলছে, নিউ জার্সি এবং নিউ ইয়র্ক হচ্ছে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ট্রাফিক জন্য ট্রানজিট পয়েন্ট, আর এই বিপর্যয়ের কারণে ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্থ হয়ে পরেছে।

নিউইয়র্কের আরেকটি বৃহত্তম ক্যাবল কোম্পানি টাইমস ওয়ার্নার ক্যাবল ইনকর্পোরেশন বলছে, নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ের কোনো তথ্য না থাকার কারণে এবং বিদ্যুৎ না থাকার কারণে গ্রাহকরা ক্যাবল সার্ভিস পাচ্ছে না। এটিএন্ডটি ইনকর্পোরেশন বলছে, ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় দ্রুত অনুসন্ধান করে নেটওয়ার্ক পুনরুদ্ধার করা হবে।

Sandy-06.jpg