'ইন্টারনেটে মত প্রকাশের স্বাধীনতা' শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

priyodesk's picture

(প্রিয় টেক) গণতান্ত্রিক সমাজে মুক্ত চর্চা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিকল্প নেই। ইন্টারনেটে বা অনলাইনে তথ্য বিনিময়, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার ধারাকে অব্যাহত রাখা জরুরি। সরকারের প্রস্তাবিত অনলাইন নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে জনগণের মত প্রকাশের অধিকারকে নিয়ন্ত্রণ বা কোণঠাসা করা হবে। গতকাল শনিবার ভয়েস আয়োজিত ‘ইন্টারনেটে মত প্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেছেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নির্বাহী সম্পাদক আফসান চৌধুরী বলেন, সরকারের প্রস্তাবিত অনলাইন নীতিমালা সুশাসন ও গণতন্ত্রের আন্দোলনকে কয়েক ধাপ পিছিয়ে দেবে। অন্যান্য দেশ যেখানে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মত প্রকাশের অধিকারকে নিশ্চিত করছে, সেখানে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকতে পারে না।

বৈশাখী টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, সংবিধান রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিককে মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথাও সংবিধানে বলা আছে। কিন্তু সরকারের প্রস্তাবিত অনলাইন নীতিমালা সংবিধানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নিয়ন্ত্রণমূলক এই নীতিমালা ইন্টারনেটে মানুষের মত প্রকাশকে বাধাগ্রস্ত করবে।

জাতিসংঘের বিশেষ রিপোর্টিয়ার ফ্রাঙ্ক লা রুয়ের মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক প্রতিবেদনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ইন্টারনেট স্বাধীনতায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।

‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস’ এর ২০১১-১২ সালের প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, মত প্রকাশের এমন নাজুক অবস্থার মধ্যেও যদি নতুন করে বাক স্বাধীনতা রুখবার নীতিমালা করা হয়, তাহলে অনলাইননির্ভর সংবাদ এজেন্সি ও সাইটগুলো এ নীতিমালার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ও বৈষম্যের শিকার হবে।

ইসপাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান মঞ্জু বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ইন্টারনেট সেবাভুক্ত করা উচিত।

আইটি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জব্বার বলেন, প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কথা চিন্তা করেই মত প্রকাশের সুযোগ উন্মুক্ত রাখা উচিত।

সাপ্তাহিক-এর সম্পাদক গোলাম মোর্তোজা বলেন, বাকস্বাধীনতা রোখার জন্য নীতিমালা করা হয়, তা হলে অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলো বৈষম্যের শিকার হবে।

ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইএসপি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আখতারুজ্জামান, আর্টিকেল ১৯-এর দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিনিধি তাহমিনা রহমান, সাংবাদিক সেলিম সামাদ প্রমুখ।