প্রযুক্তিগত দূর্বলতার কারণে বাংলাদেশ পুরোপুরি ইউটিউব বন্ধ করতে পারছে না

PriyoTech's picture

(প্রিয় টেক) গত সোমবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে সব ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) থেকে ইউটিউব ব্লক করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও এখনো বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ইউটিউব দেখা যাচ্ছে। গত দুই দিনে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা - বিটিআরসি’র এমন অকার্যকর নির্দেশ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিটিআরসি বলছে, তাদের নির্দেশ শতভাগ কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে তারা এও বলছেন যে, প্রযুক্তিকে থামিয়ে রাখা খুব মুশকিল। সে কারণে কিছু সমস্যা হচ্ছে।

"ইনোসেন্স অফ মুসলিমস" চলচ্চিত্রে মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সাঃ) বিকৃতভাবে উপস্থাপনের ভিডিও ফুটেজ যাতে বাংলাদেশে দেখা না যায় সে জন্যে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিটিআরসি। বিটিআরসি’র মৌখিক নির্দেশে তখন ইউটিউ বন্ধ করা হয়।

কিন্তু বিগত ৪৮ ঘন্টায় সেটি কার্যকর না হওয়ায় নানাবিধ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। সবচে বড় যে প্রশ্নটি উঠে এসেছে তাহলো, বাংলাদেশ কি তাহলে কারিগরীভাবে এই কাজটি করার মতো যোগ্যতা রাখে না? যেখানে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো মুহুর্তেই ইউটিউব কিংবা অন্য যেকোনও সাইট বন্ধ করে দিতে পারে, সেখানে বাংলাদেশ এই কাজটি কেন করতে পারছে না, সেই প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। এতে দেশের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নিয়ে সন্দেহের দানা বেঁধেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক মাস আগেও দেশে মাত্র দুটি আইআইজি ছিল। এখন সেখানে আরো নতুন ৩৭টি যুক্ত হয়েছে। এতোগুলো সংস্থা এক সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা বিটিআরসি’র পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাছাড়া ইতিমধ্যে যারা অপারেশনে এসেছেন তাদের সকলে হয়তো বিটিআরসি’র মৌখিক নির্দেশ সমান গুরুত্ব দেয়নি। কিংবা তারা ঠিক জানেই না কিভাবে একটি ওয়েবসাইটকে ব্লক করতে হয়। সে কারনেই ইউটিউব এখনো খোলা থাকতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিটিআরসি'র একজন কর্মকর্তা আক্ষেপ করে প্রিয়.কম-কে বলেছেন, এতোগুলো আইআইজি লাইসেন্স দেয়ার ফল আমরা এখন হাতে-কলমে ভোগ করতে শুরু করেছি। সরকারী একটি সিদ্ধান্তকে আমরা বাস্তবে রূপ দিতে পারছি না। জাতি হিসেবে এর থেকে লজ্জার আর কী থাকতে পারে! এর মাধ্যমে এটাই প্রমাণ হলো যে, দেশ হিসেবে নেটওয়ার্কিং খাতে আমরা এখনও প্রস্তুত নই।

তবে বিটিআরসি’র ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন আহমেদ বলেন, তাদের নির্দেশ না মানার কোনো কারণ নেই। কোথাও কোথাও নতুন নতুন আইপি দিয়ে দুষ্টরা ইউটিউব খুলে থাকতে পারে বলেও জানান তিনি। তবে সেটা জানতে পারলেই তা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে বছরখানেক আগে একবার ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। তখন এ নিয়ে দেশে সমালোচনার ঝড় বলে গেলেও এবার ইউটিউব বন্ধ করা নিয়ে তেমন সমালোচনা হচ্ছে না। তবে এখন ইউটিউব প্রযুক্তিগতভাবে বন্ধ করতে না পারায় উল্টো সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, সবগুলো আইআইজি এখনও ইউটিউব বন্ধের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।