স্কাইড্রাইভ বনাম গুগল ড্রাইভ, কে এগিয়ে?

oritro.ahmed's picture

(প্রিয় টেক) দুই টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট এবং গুগল এর পণ্যগত ঠাণ্ডা যুদ্ধটা অনেকটা সময় ধরেই বিরাজ করছে। মাইক্রোসফট এর উইন্ডোজ তো গুগল এনেছে ক্রোমিয়াম অপারেটিং সিস্টেম। গুগলের জিমেইল আছে তো মাইক্রোসফট এর আছে লাইভ, হটমেইল। গুগল এর প্রধান সার্ভিস সার্চ ইঞ্জিন, মাইক্রোসফট এনেছে বিং।

এরপর যখন সাইবার স্পেস এবং ক্লাউড নিয়ে লড়াইটা শুরু হয় তখন উভয়েই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের পরীক্ষা দিতে নেমে পড়ে। যুদ্ধে এবার গুগল ড্রাইভ বনাম মাইক্রোসফট এর স্কাইড্রাইভ

তবে চলুন দেখে আসি, কে আসলে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে।

স্পেস:

প্রথমেই দেখে আসি আপনার পকেট থেকে কিছু না খসিয়ে এই দুই প্রযুক্তি পরাশক্তি আপনাকে কি দিতে পারে?

গুগল ড্রাইভে আপনি প্রাথমিক ভাবে ৫ গিগাবাইট স্পেস পাবেন। এরপর আপনি সেখান থেকে ২৫ গিগাবাইট স্পেস এ আপগ্রেড করতে পারেন চাইলে। সেটাও ফ্রিতে।

তবে এখানে মাইক্রোসফট এর স্কাইড্রাইভ আপনাকে দেবে ৭ গিগাবাইট যায়গা, এবং যে সকল ব্যবহারকারীর ইমেল আইডি ২২ শে এপ্রিল ২০১২ এর আগে খোলা হয়েছে, তারা ফ্রিতে ২৫ গিগাবাইট এ আপগ্রেড করতে পারবেন। যদি না করে থাকেন, করে ফেলুন এখনি।

এবার আসুন আপনি ডলার খরচ করলে তারা আপনাকে কি দেবে সেটা দেখা যাক।

স্কাইড্রাইভের পেইড প্ল্যান গুলো নিম্নরুপঃ

  • ১০ ডলার/ বছর এ আপনি পাচ্ছে অতিরিক্ত ২০ গিগাবাইট
  • ২৫ ডলার/ বছর এ আপনি পাচ্ছে অতিরিক্ত ৫০ গিগাবাইট
  • ৫০ ডলার/ বছর এ আপনি পাচ্ছে অতিরিক্ত ১০০ গিগাবাইট

আর গুগল ড্রাইভের ক্ষেত্রে:

  • ২.৫ ডলার / মাস এ আপনি পাচ্ছেন অতিরিক্ত ২৫ গিগাবাইট
  • ৪.৯ ডলার / মাস এ আপনি পাচ্ছেন অতিরিক্ত ১০০ গিগাবাইট

তাছাড়া গুগল ড্রাইভে আপনি চাইলে কাষ্টোমাইজ প্যাকেজ বা নিজের ইচ্ছে মতোও নিতে পারেন। এ ছাড়া ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান এর ক্ষেত্রে ১৬ টেরাবাইট পর্যন্ত স্পেস কেনার সুবিধা আছে।

আপনি গুগল ড্রাইভের পেইড প্ল্যান ব্যবহার করা মাত্র আপনার জিমেইলের স্পেস ২৫ গিগাবাইটে আপগ্রেড হয়ে যাবে, ফ্রিতে।

ফাইল:

এখানে কিছুটা হলেও এগিয়ে আছে গুগল ড্রাইভ। গুগল ড্রাইভ ৩০ টি ফাইল ফরম্যাট সাপোর্ট করে যার অর্থ এই সকল ফরম্যাট ব্রাউজারে ওপেন করা সম্ভব। ভিজিটর এর কম্পিউটারে এদের চালানোর মতো প্রোগ্রাম থাক বা না থাক। এর মধ্যে ভিডিও ফাইল, ফটোশপ ডকুমেন্ট ( PSD ), ইলাস্ট্রেটর ডকুমেন্ট ( AI) ও আছে।

স্কাইড্রাইভের ক্ষেত্রে ফাইল ফরম্যাট সাপোর্টের লিস্ট এতো বড় না হলেও, আপনি ভিডিও ফাইল গুলো ব্রাউজারেই চালাতে পারবেন।

তবে সমস্যা হলো আপনি এই দুই ক্লাউডস্পেসের কোনটাতেই মিউজিক ফাইল চালাতে পারবেন না। সে জন্য আপনাকে মিউজিক ফাইল গুলো আপনার পিসিতে ডাউনলোড করতে হবে এবং লোকাল প্লেয়ারের মাধ্যমে চালাতে হবে।

উভয় সার্ভিসই ওপেন ডকুমেন্ট ফরম্যাট সাপোর্ট করে। আপনার পিসিতে ডকুমেন্ট ফাইল কিংবা স্প্রেডশিট তৈরির জন্য আলাদা কোন সফটওয়্যার না থাকলেও সমস্যা নেই, আপনি স্কাইড্রাইভ কিংবা গুগল ড্রাইভে বসেই এই ফাইল গুলো তৈরি করতে পারবেন।

উভয় সার্ভিসেই ফাইল কনভার্ট করা হয়, তারপর এডিটিং এর সুবিধা দেওয়া হয়। স্কাইড্রাইভে আপনি বোঝার আগেই কাজটি সম্পন্ন হয়ে যাবে তবে, গুগল ড্রাইভে আপনাকে জিজ্ঞেস করা হবে আপনি কনভার্ট করতে চান কিনা?

ফাইলের সর্বোচ্চ আকারঃ

স্কাইড্রাইভে যদি আপনি ব্রাউজার এর সাহায্যে আপলোড করতে চান তাহলে আপনি সর্বোচ্চ ৩০০ মেগাবাইট সাইজের ফাইল আপলোড করতে পারবেন। কিন্তু যদি আপনি স্কাইড্রাইভের ডেক্সটপ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করেন, তাহলে সর্বোচ্চ ২ গিগাবাইট পর্যন্ত ফাইল আপলোড করতে পারবেন।

গুগল ড্রাইভের ক্ষেত্রে পিসিতে ডেক্সটপ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে আপনি সর্বোচ্চ ১০ গিগাবাইট সাইজের ফাইল আপলোড করতে পারবেন। তবে ব্রাউজার এর ক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট সাইজ উল্লেখ করা নেই। তবে সেটাও ১০ গিগাবাইট বলেই ধারনা।

নিরাপত্তা:

স্কাইড্রাইভ এর ক্ষেত্রে যে কোন ফাইলের জন্য আগে থেকে নির্ধারণ করা প্রাইভেসি সেটিংস "Share with Me" যার অর্থ এটা শুধু আপনি দেখতে পারেন। আপনি সেখান থেকে বদলে "Anyone Having Links" দিতে পারেন যার অর্থ আপনি যাকে এর লিঙ্ক দেবেন শুধু সেই দেখতে পারে, অথবা "With Everybody" যার অর্থ এটা সবার জন্য উন্মুক্ত।

সমস্যা হলো, স্কাইড্রাইভের ফোল্ডার এর প্রাইভেসি সেটিংস তার চাইল্ড ফোল্ডার এর জন্য বহাল থাকে। ধরুন আপনি priyo নামের একটা ফোল্ডার করলেন, সেটার প্রাইভেসি দিলেন "Share with Me", এরপর তার ভেতরে একটা ফোল্ডার করলেন tech. এক্ষেত্রে tech ফোল্ডার এর জন্য আলাদা ভাবে প্রাইভেসি দেওয়ার সুযোগ নেই। priyo ফোল্ডার এর প্রাইভেসি এটার জন্যও বহাল থাকবে এবং এটা একটা সমস্যা বটে।

এই দিক দিয়ে গুগল ড্রাইভ বেশ এগিয়ে। এখানে আপনি আলাদা ভাবে প্রতিটি ফাইল এবং ফোল্ডার এর প্রাইভেসি দিতে পারেন, সেটার মাদার ফোল্ডার এর প্রাইভেসি কোন ধরনের প্রভাব ফেলবে না। এক্ষেত্রে আপনি চাইলে শুধু নিজের জন্য, সবার জন্য অথবা নির্ধারিত কিছু মানুষের দেখার ব্যবস্থা দিতে পারেন।

ডেক্সটপ অ্যাপ্লিকেশন:

উভয়েরই ডেক্সটপ অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। সেখানে কিছু সুবিধা এবং অসুবিধাও রয়েছে। যেমন:

  • স্কাইড্রাইভ অ্যাপ্লিকেশন যখন আপনি বন্ধ করে দেবেন, আপনাকে একটা ওয়ার্নিং দেখানে যে আপনি পরবর্তীতে আপনার ফোল্ডার/ফাইল গুলো সিনক্রোনাইজ করতে পারবেন না। কিন্তু বস্তুত এটা আসলে ভুল। আপনি পরবর্তীতে চাইলে আবার অ্যাপ্লিকেশনটি চালু করে সিনক্রোনাইজ করতে পারেন। ফলে যখন আপনি ভারী কোন কাজ করছেন যেমন ভিডিও এডিটিং কিংবা সাউন্ড নিয়ে, তখন আপনি চাইলে অ্যাপ্লিকেশন অফ রাখতে পারেন। এসে আপনার প্রসেসিং মেমরি সঞ্চয় হবে।
  • অপরদিকে গুগল ড্রাইভে এ ধরনের কোন সমস্যা নেই। আপনি যখন ইচ্ছে বন্ধ করুন, যখন ইচ্ছে চালু করুন, এটা সে অনুযায়ী সিনক্রোনাইজ করবে। কোন ধরনের ঝামেলা নেই।

আবার, ফাইল আপলোড এর ক্ষেত্রে চিত্রটা একটু ভিন্ন। যেমন:

  • গুগল ড্রাইভের ডেক্সটপ অ্যাপ্লিকেশন এর তুলনায় স্কাইড্রাইভের ডেক্সটপ অ্যাপ্লিকেশন অনেক দ্রুত আপলোড করতে পারে। সম্ভবত স্কাইড্রাইভের ফাইল কমপ্রেসর এ ক্ষেত্রে গুগল ড্রাইভের চেয়ে শক্তিশালী। একটা ছোট ফোল্ডার গুগল ড্রাইভে সিনক্রোনাইজ হতে যে সময় নেই, তুলনামূলক ভাবে স্কাইড্রাইভে কম সময় নেয়।

তেমনি এদের কাজ করার পন্থাতেও ভিন্নতা রয়েছে।

  • স্কাইড্রাইভ যখন কোন কাজ করছে, সিনক্রোনাইজ কিংবা কোন ধরনের পরিবর্তন তখন আপনি এর আইকনের নিচের চলন্ত বারটা দেখলেই সহজে বুঝতে পারবেন। কিন্তু গুগল ড্রাইভ এ ক্ষেত্রে কোন ধরনের নোটিফিকেশন দেয় না। আপনি অ্যাপ্লিকেশন এর ট্রের ওপর মাউস নিয়ে গেলেই একমাত্র বুঝতে পারবেন সেটা কাজ করছে কিনা?
  • ব্যবহার এর ক্ষেত্রেও এই দুইয়ে রয়েছে কিছু পার্থক্য:

    • আপনি আইফোন এবং উইন্ডোজ ফোনে স্কাইড্রাইভ অ্যাক্সেস করতে পারলেও গুগল ড্রাইভ করতে পারবেন না। আবার অ্যানড্রয়েড এ গুগল ড্রাইভ অ্যাক্সেস করতে পারবেন, স্কাইড্রাইভ করতে পারবেন না ।
    • আপনি স্কাইড্রাইভের ডেক্সটপ অ্যাপ ম্যাক এবং উইন্ডোজ থেকে ব্যবহার করে সরাসরি ডেক্সটপ থেকে ছবি আপলোড করতে পারলেও গুগল ড্রাইভে পারবেন না। আবার অ্যানড্রয়েড থেকে একমাত্র গুগল ড্রাইভেই ছবি আপলোড করা সম্ভব।
    • স্কাইড্রাইভে আপনি আপনার ফাইল রিমোট অ্যাক্সেস করতে পারলেও গুগল ড্রাইভে পারবেন না।