ক্লাউডফ্লেয়ারের কল্যাণে ফিরে এলো উইকিলিকস

A.I.Sajib's picture

(প্রিয় টেক) প্রায় এক সপ্তাহ ডিডিওএস আক্রমণের ফলে বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি আবার অনলাইন হয়েছে সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকস। সংস্থাটি টুইটারে জানিয়েছে, ক্লাউডফ্লেয়ার নামের এক সেবার আওতায় যাওয়ার কয়েক মিনিট পরই তাদের সাইট ফিরে এসেছে।

সূত্র জানিয়েছে, এ মাসের শুরুর দিকে উইকিলিকস কিছু ইমেইল প্রকাশ করতে শুরু করে যা প্রাইভেট ইন্টেলিজেন্স ফার্ম স্ট্র্যাটফর গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স-এর কাছ থেকে হ্যাকারদের সংগঠন অ্যানোনিমাস হাতিয়ে নেয়। এছাড়াও অ্যাব্রেক্সিস নামের একটি ব্যক্তিগত কোম্পানির তৈরি সারভিলিয়েন্স প্রোডাক্ট ট্র্যাপওয়্যারের কাছ থেকে প্রাপ্ত গোপন ইমেইলও ফাঁস করতে শুরু করে উইকিলিকস। আর তখনই ডিডিওএস বা ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অফ সার্ভিস আক্রমণের মুখে পড়ে উইকিলিকস।

ডিডিওএস আক্রমণ হলো এমন এক ধরনের আক্রমণ যার মাধ্যমে আক্রমণকারীরা বিভিন্ন আইপি থেকে মূল সাইটের সার্ভারে ভুয়া রিকোয়েস্ট পাঠাতে থাকে। একই সময়ে মাত্রাতিরিক্ত রিকোয়েস্ট আসার ফলে সার্ভার ধীরগতির হয়ে পড়ে যার ফলে আসল ব্যবহারকারীরা সাইটে ঢুকতে চেষ্টা করলে সাইট খোলে না।

এই সমস্যা এড়াতে উইকিলিকস স্মরণাপন্ন হয় ক্লাউডফ্লেয়ার নামের একটি সেবার যারা স্প্যামিং এবং এ জাতীয় আক্রমণ থেকে সাইটকে সুরক্ষিত করতে পারে। তবে প্রাথমিকভাবে ক্লাউডফ্লেয়ার উইকিলিকসের রেজিস্ট্রেশন ব্লক করে দিলেও পরে সরাসরি যোগাযোগ করে উইকিলিকসকে সুরক্ষিত করে ক্লাউডফ্লেয়ার।

ক্লাউডফ্লেয়ার অনেকটা ক্লাউডে থাকা ফায়ারওয়ালের মতো কাজ করে। কোনো ভিজিটর যখনই ক্লাউডফ্লেয়ার দ্বারা সুরক্ষিত কোনো সাইট ভিজিট করতে যান, তখন তার অনুরোধ ক্লাউডফ্লেয়ারের সার্ভার ঘুরে তারপর মূল সাইটের সার্ভারে যায়। তবে ডিডিওএস-এর মতো অবৈধ বা ভূয়া অনুরোধগুলোকে ক্লাউডফ্লেয়ার তাদের সার্ভারেই ব্লক করে দিতে পারে যার ফলে ওয়েবসাইটের মূল সার্ভারের উপর চাপ কম পড়ে।

এ ব্যাপারে ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ প্রিন্স জানিয়েছেন, ইয়াহুর মতোই প্রচুর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা করায় তাদের প্রযুক্তি সহজেই ধরতে পারে কোনটি আসল ভিজিটর আর কোনটি স্প্যাম বা আক্রমণ। অবশ্য তিনি এই দাবী করলেও ক্লাউডফ্লেয়ারের অনেক সাইটে ঢুকতে গেলে আসল ভিজিটরকেও ক্যাপচা এন্ট্রি করতে হয় যা অনেক সময় বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তবে বিতর্কিত একটি সাইটকে সুরক্ষা দেয়ায় সরকারিভাবে কোনো চাপ আসবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রিন্স বলেন, তারা কোনো তথ্য বা সামগ্রী হোস্ট করছেন না তাদের সার্ভারে। বরং তারা নেটওয়ার্ক প্রোভাইডার হিসেবে কাজ করছেন। উইকিলিকস ছাড়াও এর আগে আরও বিভিন্ন বিতর্কিত সাইটকে সেবা দিয়েছে ক্লাউডফ্লেয়ার যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে হ্যাকারদের সংগঠন লুলজসেক, যেই সাইটটিতে ক্রমাগত ডিডিওএস আক্রমণ হতো।

এ ব্যাপারে প্রিন্সের বক্তব্য, "আমরা নিজেদের ডিডিওএস আক্রমণের দিকে ঠেলে দিই কেননা এভাবেই আমরা আমাদের নেটওয়ার্ককে আরো কার্যকর করে তুলতে পারি। এটা অনেকটা নিজেদের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার মতোই।"