মার্কিন নৌবাহিনীর ম্যাকগাইভার রোবট

PriyoTech's picture

(প্রিয় টেক) মার্কিন নৌবাহিনীর অর্থায়নে মার্কিন গবেষকদের একটি দল কাছাকাছি প্রাপ্ত দ্রব্য ব্যবহার করে সমস্যার সমাধান বা বিপদ থেকে রক্ষা পাবার উপায় বের করতে সক্ষম এমন একটি রোবট তৈরি করার চেষ্টা করছে। এ গবেষণার জন্য নৌবাহিনী জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিকে ৯ লক্ষ মার্কিন ডলার প্রদান করেছে।

জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ম্যাকগাইভারের নামানুসারে রোবটটির নাম রাখা হয়েছে ম্যাকগাইভার বট।

বর্তমানে কোন বস্তু কিভাবে ব্যবহার করলে বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে সে বিষয়ে রোবটটিকে জ্ঞাত করার জন্য সফটওয়্যার নির্মাণ করাটাই গবেষকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যাপক এবং প্রকল্প প্রধান মাইক স্টিলম্যান বলেন, " আমাদের লক্ষ্য ৮০'র দশকের জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ম্যাকগাইভারের মত হাতের কাছে পাওয়া যায় এমন দৈনন্দিন বস্তু এবং উপকরণ ব্যবহার করে বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে সক্ষম এমন একটি রোবট তৈরি করা।"

ইতোপূর্বে যে সকল গবেষণা হয়েছে সেখানে রোবটকে বস্তু সনাক্ত করার ক্ষমতা প্রদান করলেও এগুলো কি করতে পারে সে ব্যাপারে কোন তথ্য প্রদান করা হয় নি।

রেক্স এমন একটি সফটওয়্যার তৈরি করতে চান যা প্রথমে বস্তুকে চিহ্নিত এবং পরবর্তীতে এই বস্তু দিয়ে কি কি করা যায় তা নির্ণয় করতে পারবে। যেমন- কোন কিছুর উপরে উঠতে হলে বাক্সের স্তূপ তৈরি করা, ময়লা-আবর্জনা ব্যবহার করে ব্রিজ অথবা হাতে পাওয়া যাচ্ছে না এমন বস্তু ধরার জন্য চেয়ার ব্যবহার করা ইত্যাদি।


মাইক স্টিলম্যান এবং গোলেম কিং

প্রকল্পের শেষপর্যায়ে প্রয়োজনবোধে সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে এই ধরণের কাজ করা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। কোডটি কাজ করছে কিনা তা জানার জন্য গবেষকেরা স্টিলম্যানের গবেষণাগারে নির্মিত রোবট গোলেম ক্র্যাং এ লোড করা হবে বলে আশা করছেন।

আশা করা হচ্ছে এর ফলে আটকা পরা কর্মকর্তাদেরকে উদ্ধারের জন্য অন্যের জীবনকে ঝুঁকির সম্মুখীন করার বদলে এই উপস্থিত বুদ্ধি সম্মত রোবটকে ব্যবহার করা যাবে।

তবে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইনফরমেটিক্সের অধ্যাপক বারবারা ওয়েব ব্যাপারটা এত সহজ নয় বলে উল্লেখ করেন। তার মতে কোন বস্তু ওজন নিতে পারবে কি না বা লিভার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে কিনা তা শুধুমাত্র দেখার মাধ্যমে নির্ণয় করা সম্ভব নয়। আসলেই বস্তুটি দিয়ে কি করা সম্ভব সে ব্যাপারে বুঝতে হলে এর সঙ্গে শারীরিক যোগাযোগ করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

প্রাণীরা কিভাবে টুল ব্যবহার করে তা থেকে এই প্রকল্পটি শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে বলে মনে করেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে আরেকজন বিশেষজ্ঞ। শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রোবটিক্স অনুষদের অধ্যাপক নোয়েল শার্কি বলেন, "নাগালের বাইরে থাকা কলা সংগ্রহের জন্য একটি বাদর লম্বা লাঠির সহযোগিতা এবং আটকা পড়া খাবার সংগ্রহের জন্য কাক তার বাকিয়ে থাকে।"

গবেষণাটি অত্যন্ত জটিল বলে অভিহিত করেন তিনি তবে এর সাফল্য এ ক্ষেত্রকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।