মাইক্রোসফটের ডিজিটস: হ্যান্ড-জেশ্চার চিহ্নিত করার নতুন সেন্সর

(প্রিয় টেক) কব্জিতে পরিধানযোগ্য এবং বাস্তব সময়ে ব্যবহারকারীর হাতের অঙ্গভঙ্গিকে ত্রিমাত্রিক মডেলে তৈরি করতে পারে এমন একটি সেন্সর তৈরি করেছে মাইক্রোসফট। ব্যবহারকারীকে হাতের ইঙ্গিতের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা প্রদান করবে এমন একটি মোবাইল ডিভাইস নির্মাণের প্রচেষ্টা স্বরূপ তৈরি করা হয়েছে ডিজিটস।

বাজারে পাওয়া যায় এমন সেন্সর যুক্ত দস্তানা অপেক্ষা কম অস্বস্তিকর ভাবে নির্মাণ করা হয়েছে এই ডিভাইসটি। সেন্সরটি ভার্চুয়াল টিভি নিয়ন্ত্রক, পকেটে থাকা অবস্থায় মোবাইল ব্যবহারের একটি উপায় এবং ভিডিও গেম খেলার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।
নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্রিট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সহায়তায় ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোসফটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ল্যাবরেটরিতে ডিজিটস সেন্সরটি তৈরি করা হয়।
ইনফ্রারেড লাইট চিহ্নিত করতে সক্ষম এমন ক্যামেরা ভিত্তিক সেন্সর এবং সেন্সর প্রেরিত তথ্যকে ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে "সম্পূর্ণ স্নায়ু সমৃদ্ধ হাতের কঙ্কাল" এর একটি মডেল তৈরি করে। পরবর্তীতে এই মডেলটি ব্যবহারকারীর হাত কি করছে তা ব্যাখ্যা করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

ডিভাইসটি নির্মাণে একটি আইআর লেজার বিম ব্যবহার করা হয়েছে। এই লেজার বিম থেকে অতি পাতলা আলোকছটা ব্যবহারকারীর হাতের উপর ছুড়ে দেবার মাধ্যমে আঙ্গুল এবং বৃদ্ধাঙ্গুলির দূরত্ব মাপার মাধ্যমে এগুলো কোন অবস্থায় রয়েছে তা নির্ণয় করে।
আইআর লেজারের পাশাপাশি আইআর লাইট এমিটিং ডায়োড (লেড) এর একটি রিং ব্যবহার করে হাতকে আলোকোজ্জ্বল করার মাধ্যমে আঙ্গুলের অবস্থান নির্ধারণ করে।
প্রকল্পটির প্রধান ডেভিড কিম বলেন, "ডিজিটস সেন্সর কোন বাহ্যিক অবকাঠামোর উপর ভিত্তি করে কাজ করে না বলে ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট কোন গণ্ডীর মধ্যে আবদ্ধ থাকতে হয় না। এক ঘর থেকে অন্য ঘরে অথবা রাস্তায় হাঁটাচলার সময় তারা যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে।"
বাজারে পাওয়া যায় এমন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে পরীক্ষামূলক যন্ত্রটি তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু অনুকূল যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে নির্মাণ করলে এর মান আরো ভালো হবে বলে মনে করেন কিম। এছাড়া ডিজিটসকে পরবর্তীতে ঘড়ির আকৃতি দেবার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।
"সরল অঙ্গভঙ্গি এবং নাগালের বাইরে রেখেও একজন ব্যবহারকারী যেন অনায়াসে তার ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারে সে চেষ্টাই আমরা করছি।"
কোন ধরণের পণ্যের সাথে এই প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা যেতে পারে-
- কল্পিত ডায়াল ঘুরিয়ে রেডিও, টিভি বা মিউজিক প্লেয়ারের আওয়াজ বাড়ানো সম্ভব হবে;
- চোখের সামনে কল্পিত এক নাম্বার প্যাডের উপর আঙ্গুল দিয়ে ট্যাপ করার মাধ্যমে ফোন পকেট থেকে বের না করেই ডায়াল করতে পারবেন কাঙ্ক্ষিত নাম্বার;
- কন্ট্রোলার ছাড়া ভিডিও গেম খেলতে পারবেন;
- ট্যাবলেট কম্পিউটারের জন্য ত্রিমাত্রিক নিয়ন্ত্রণ সুবিধা। হাত মুঠো করার মাধ্যমে ছবি জ্যুম করা বা মুঠো খোলার মাধ্যমে ছবি ছোট করে আনা সম্ভব হবে।
এই সেন্সর ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরণের ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে গবেষক দল। কিন্তু গ্লিনডার বিশ্ববিদ্যালয়ের মানব-কম্পিউটার ইন্টার্যাকশনের পাঠক ড. রিচার্ড পিকিং এর মতে পরিধানযোগ্য ডিভাইসের পরিবর্তে সেন্সরটি যদি প্রতিটি যন্ত্রের সাথে বিল্ট-ইন অবস্থায় থাকে তাহলে ব্যবহারকারীরা অধিক পছন্দ করবে।

উদ্ভাবনটিকে আকর্ষণীয় এবং এর ব্যবহার ব্যাপক বলে অভিহিত করলেও এই ধরণের উদ্ভাবন পূর্বে গেম জগত ছাড়িয়ে বাস্তব দুনিয়ায় কোন প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া প্রযুক্তিটি কতটা নির্ভর যোগ্য? ক্যামেরাটি ক্যালিব্রেট করতে হবে কিনা? হটাত করে পরে গেলে অথবা সরিয়ে নিয়ে এলে কি হবে? ব্যবহার করা সহজ কি না? ইত্যাদি ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
প্রযুক্তিটি এখনই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তৈরি করার মত নয় বলে স্বীকার করে নিয়েছে মাইক্রোসফটের গবেষক দল।
বর্তমানে এর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য পিসির উপর নির্ভর করতে হয় বলে বাস্তব প্রয়োগ এখনি সম্ভব নয়। এছাড়া এই ডিভাইসের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তবে, গবেষকদের মতে আরো গবেষণার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলোর মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।div class=lidiv class=











