নিউইয়র্ক থেকে ঢাকা পাড়ি দিন মাত্র দুই ঘণ্টায়!

(প্রিয় টেক) নিউ ইয়র্ক থেকে ঢাকার দূরত্ব ৭৯২৪ মাইল বা ১২,৭৪৯ কিলোমিটার। বোয়িং ৭০৭ এ এই দূরত্ব পার হতে সময় লাগে প্রায় ১৮ ঘণ্টা। এখন আমি যদি বলি, এই পথ আপনি মাত্র দুই ঘণ্টায় পাড়ি দিতে পারবেন, তাহলে আপনি কি বলবেন, কল্পনা? নাকি যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত থান্ডারবার্ড পাপেট শো'র বিমানগুলোর কথা মনে পড়ে যাবে? না এ আমার অলিক কল্পনা বা থান্ডারবার্ডের কোন বিমান নয় বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিকবাহিনীর তৈরি করা হাইপারসনিক এক্স-৫১এ ওয়েভরাইডার নামক বিমানটির কথা আমি বলছি। বিমানটির ডিজাইন এবং কার্যপ্রণালী দেখলে আপনার বিখ্যাত ট্রেসি আইল্যান্ডের কথা মনে যাবে; মনে হবে এ বিমান এই দ্বীপ ছাড়া আর কোথাও থেকে উড়তে পারে না! কিন্তু কল্পনাকে হার মানিয়ে আবারো বিজ্ঞানীরা আমাদেরকে উপহার দিলেন এই হাইপারসনিক গতির বিমানটি।

হাইপারসনিক এক্স-৫১এ ওয়েভরাইডার নামক বিমানটি বৈপ্লবিক 'স্ক্র্যামজেট' ইঞ্জিন ব্যবহার করে যা এক সেকেন্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ গতি ৪,৫০০ মাইল তুলতে সক্ষম। বিমানটি বর্তমানে মার্কিন সামরিকবাহিনীর অধীনে রয়েছে।

ছুটির সময় দেশে ফেরার যে কষ্ট তা নিমিষেই ভুলিয়ে দিবে শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ গতির এই বিমান। ঢাকা আসতে সময় লাগবে মাত্র দুই ঘণ্টা বা তারও কম। আরে ভাই কি করেন, এখনই টিকিট বুকিং দিয়ে লাভ নেই, বিমানটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়েই রয়েছে!

সর্বশেষ প্রযুক্তিতে নির্মিত এই বিমানটিকে আজ ক্যালিফোর্নিয়ার মোহাভে মরুভূমিতে অবস্থিত এডওয়ার্ডস বেজ থেকে বি৫২ বিমানের পাখার নিচে বেধে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর নিয়ে যাওয়া হবে এবং পরীক্ষামূলক ভাবে সাগরের উপরে ছুড়ে দেয়া হবে।

স্থানটি প্রশান্ত মহাসাগরের পয়েন্ট মুগু শৈলান্তরীপের কাছাকাছি। প্রায় ৫০ হাজার ফিট থেকে জেটটি ছেড়ে দেয়া হবে এবং ছেড়ে দেয়ার পর পরই রকেট ইঞ্জিনটি চালু হবে এবং মাক ৪.৫ গতির সৃষ্টি করবে। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে সব কিছু যদি ঠিকঠাক মত হয় তাহলে পরবর্তীতে এয়ারক্র্যাফটটির ইঞ্জিন চালু হয়ে যাবে এবং গতি মাক ৬ কে ছাড়িয়ে নিয়ে যাবে এবং এ সময় বাহনটি ৭০ হাজার ফিট উপরে উঠে যাবে। আর এই সব কিছু ঘটবে মাত্র ৩০০ সেকেন্ডের মধ্যে! যদিও এটাই হবে বাহনটির জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেবার ঘটনা, কিন্তু এর অন্তিম দৃশ্যটি করুণ। পরীক্ষা শেষে বিমানটি সমুদ্রে ক্র্যাশ করবে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে বিমানটি পানি থেকে উদ্ধারের কোন পরিকল্পনা তাদের নেই!
বিমানের গতি প্রযুক্তির পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়ে থাকে হাইপারসনিক প্রযুক্তিকে। বিমান বাহিনীর গবেষণা কেন্দ্রের উচ্চ গতি সিস্টেম বিভাগের প্রযুক্তি পরিচালক রবার্ট মার্সিয়ার জানিয়েছেন, "সমানুপাতিক হাইপারসনিক গতি পেতে হলে পাখা প্রযুক্তি নির্ভর বিমানের স্থানে জেট প্রযুক্তির বিমানের প্রয়োজন।"

হাইপারসনিক বিমান প্রকল্পটি যুগ্মভাবে অর্থায়ন করছে নাসা এবং পেন্টাগন। নতুন যুদ্ধাস্ত্র এবং সামরিক স্টেলথ এয়ারক্র্যাফট হিসেবে একে ব্যবহার করার আশা করছে প্রতিষ্ঠান দুটি।
গ্লোবালসিকিউরিটি.অর্গ নামের একটি সামরিক সংবাদের ওয়েবসাইটের সূত্রমতে ওয়েভরাইডার প্রকল্পের পেছনে আনুমানিক $৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হতে পারে।
বর্তমানে যাত্রীবাহী সর্বোচ্চ গতির বিমান হিসেবে পরিচিত সেসনা সাইটেশন টেন, যার সর্বোচ্চ গতি ৭০০ মাইল/ঘণ্টা বা মাক ০.৯।
সাধারণত একটি বস্তুর বেগের অনুপাতের উপর ভিত্তি করে মাক মাপা হয়ে থাকে। বিমানের ক্ষেত্রে শব্দের বেগের উপরে নির্ভর করে মাপা হয়ে থাকে। সেই হিসেবে মাক ১ মানে প্রতি ঘণ্টায় ৭৬১.২ মাইল গতি।
স্ক্র্যামজেটকে এয়ারব্রেথিং এয়ারক্র্যাফট হিসেবে ধরা হয়। গতির জন্য এই বাহনগুলো জ্বালানি এবং অক্সিজেন বহন করার বদলে শুধু হাইড্রোজেন জ্বালানি বহন করে থাকে। আর দাহয়ের জন্য যে অক্সিজেনের প্রয়োজন তা সরাসরি বায়ুমণ্ডল থেকে টেনে নেয়।
ইঞ্জিনের সামনে বাতাসকে জোড় করে ঠেলে দেয়া হয়ে থাকে এবং হাইড্রোজেনকে এই সময় বাতাসের প্রবাহের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। এ সময় গ্যাসগুলো সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় তাপমাত্রা খুব বেশি বেড়ে যায় আর আগুণ জ্বলে উঠে।
এর ফলে প্রচণ্ড রকমের ধাক্কার সৃষ্টি হলে জেট বিমানটির মধ্যে সম্মুখ গতির সৃষ্টি হয় এবং কনকর্ড বিমানের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১,৩৫০ মাইল গতিকে ছাড়িয়ে যায়।
নতুন প্রযুক্তি এই হাইপারসনিক বিমানগুলো বাস্তবে পরিণত হলে তা আঘাত হানার পর দ্রুত শত্রু পক্ষের কবল থেকে সটকে পড়তে পারবে বলে আশা করছে পেন্টাগন।










