মঙ্গল গ্রহে পা রাখলো নাসার কিউরিসিটি রোভার

PriyoTech's picture

(প্রিয় টেক) যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তৈরি রোবট অভিযাত্রী নিয়ে মহাকাশযান কিউরিসিটি আজ সোমবার বেলা ১১ টার দিকে মঙ্গলের মাটিতে নামে। মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করতেই নাসা এই অভিযান চালায়। পৃথিবী থেকে ২৬ নভেম্বর যাত্রা শুরু করেছিল কিউরিসিটি। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা জানিয়েছে, তাদের তৈরি বিশালাকায় এ রোবট অভিযাত্রী তার সুদীর্ঘ ৫৭ কোটি কিলোমিটারের অভিযাত্রার শেষে সফলভাবে মঙ্গলের বুকে নামতে পেরেছে।

s

মঙ্গলের কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করতে থাকা নাসার ওডিসি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কিউরিসিটি পৃথিবীতে একটি সংকেত পাঠিয়ে নিশ্চিত করেছে এটি নিরাপদে নেমেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাদেনার প্রোপালসান ল্যাবরেটিরির কর্মীরা কিউরিসিটির এ সাফল্য আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করে।

কিউরিসিটির তোলা ছবি:

অবতরণের কয়েক মিনিটের মধ্যে স্বল্প রেজ্যুলুশনের ছবি পাঠায় রোভার। ছবিতে রোভারের চাকা এবং দিগন্তের দৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। রঙিন ছবি কয়েক দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা করছে নাসা।

নাসার গবেষকেরা কিউরিসিটির তোলা প্রথম ছবিটি দেখতে পান ১১ টা ৩৪ মিনিটে এবং আনন্দে মেতে ওঠেন। ১১ টা ৪১ মিনিট থেকে ‘টুইট’ করা শুরু করেছে এ রোবট যানটি। এর আগে ১১ টা ২৬ মিনিট থেকে গবেষকেরা তথ্য পেতে শুরু করেন। সাড়ে ১১ টার সময় থেকে তাঁরা কাউন্টডাউন শুরু করেছিলেন।

পৃথিবী থেকে যাত্রা শুরু এবং ৫৭০ মিলিয়ন কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবার পরের অংশকে বিজ্ঞানীরা ‘ভয়ংকর সাত মিনিট’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এই টুকু সময় রোভার কিছু উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কার্য সম্পাদন এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালানোর মাধ্যমে গতি ২০ হাজার কিলোমিটারের নিচে নিয়ে আসবে এবং নমনীয়তার সাথে মাটিতে চাকা ফেলবে।

পৃথিবী প্রান্তে থাকা কিউরিসিটির বাকি দলটিকে ওডেসির কাছ থেকে সংকেত পাবার জন্য ১৩ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। তথ্যানুযায়ি রোভার মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে অবতরণ করে ০.৬ এম/এস গতিতে।


কিউরিসিটির সাফল্য আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করছে নাসার কর্মীরা

মঙ্গল গ্রহে পাঠানো চতুর্থ রোভার হচ্ছে কিউরিসিটি। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন অন্য সকল রোভারের চাইতে এর আকৃতি এবং সূক্ষ্মতা অন্য সকল প্রকল্পকে ম্লান করে দিবে।

রোভারের সবচেয়ে বড় যন্ত্রটির আকৃতিই ১৯৯৭ সালে যে রোভার পাঠানো হয়েছিল তার থেকে চারগুণ বড়। রোবটটি গেল ক্রেটারের মাঝে থাকা সেন্ট্রাল মাউন্টেন এলাকাটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহার করা হবে। এলাকাটির উচ্চতা পাঁচ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে নাসা।

উপরে ওঠার সাথে সাথে পাহাড়ি পাথরগুলোর উপর পরীক্ষা চালাবে রোভার। মূল লক্ষ্য অবশ্য গ্রহটিতে কখনো প্রাণের সৃষ্টি হয়েছিল কিনা তা জানার চেষ্টা করা।

মঙ্গল অভিযানে এ পর্যন্ত পাঠানো বিভিন্ন মহাকাশযানের মধ্যে কিউরিসিটিই সবচেয়ে বড় এবং অত্যাধুনিক। এটি মঙ্গলের বুকে পাওয়া গভীর গর্তের ভেতরের পাথর নিয়ে পরীক্ষা চালাবে এবং ওই গ্রহে অণুজীবের নিদর্শন আছে কি না, তা অনুসন্ধান করবে। কিউরিসিটির এ অভিযানে ব্যয় হচ্ছে ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

s

s
a) কিউরিসিটি তার অবতরণের স্থানের পাথরের বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা চালাবে। রোবটটির সর্বোচ্চ গতি ৪ সিএম/সে
b) এতে রয়েছে ১৭ টি ক্যামেরা। ক্যামেরাগুলো লক্ষ্য নির্ধারণ করবে এবং লেজার সেই পাথরগুলো ভাঙ্গার মাধ্যমে এর কেমিস্ট্রি নির্ণয় করবে।
c) প্রাপ্তি যদি উল্লেখ যোগ্য হয় তাহলে কিউরিসিটি তার যান্ত্রিক হাতটি নমুনার আরো কাছে নিয়ে যাবে। হাতে অণুবীক্ষণ যন্ত্র রয়েছে।
d) পাথর অথবা মাটি থেকে নেয়া নমুনাগুলো আরো ভালোভাবে পরীক্ষা করার জন্য রোভারের দেহের ভেতরে থাকা হাই-টেক অ্যানালিসিস ল্যাবের মধ্যে পাঠানো হবে।
e) অ্যান্টিনার মাধ্যমে ফলাফল পৃথিবীতে পাঠানো হবে। ফেরত বার্তায় রোভারকে অন্য স্থানে যাবার নির্দেশ দেয়া হবে।



Streaming Live by Ustream