হৃদয় জোড়া দেবার জন্য ব্যবহার করা হবে স্প্রে প্যাচ

PriyoTech's picture

(প্রিয় টেক) হৃদয় জোড়া দেবার পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন ১০ হাজার ভোল্টের ত্রিমাত্রিক বৈদ্যুতিক স্প্রেয়ার এবং হৃদ কোষ এর মাধ্যমেই ভেঙ্গে যাওয়া হৃদয় জোড়া দেয়া সম্ভব হবে। বুঝতেই পারছেন এখানে ক্ষতিগ্রস্ত হৃদযন্ত্র ঠিক করার কথা বলা হচ্ছে, আপনার ভাঙ্গা হৃদয় জোড়া দেবার কথা নয়।

বিজ্ঞানীরা আশা করছে এর মাধ্যমে স্পন্দন কোষের একটি পাতলা আচ্ছাদন তৈরি করা সম্ভব হবে যা ব্যবহার করে হৃদযন্ত্রের ক্ষতিগ্রস্ত অংশকে ঠিক করা যাবে। হৃদরোগের কারণে মৃত্যুর হার এখন আগের চেয়ে অনেক কমে গিয়েছে। কিন্তু, এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হৃদযন্ত্র নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষের হার বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক ফলে গবেষকদের মধ্যে এই বিষয় নিয়ে গবেষণা হারও বৃদ্ধি পেয়েছে।

হৃদযন্ত্রের কোন পেশীর টুকরা যখন মারা যায় তখন সে স্থানটি ঢাকা পরে কঠিন স্কার দিয়ে। কিন্তু এই ধরণের কোষগুলো স্পন্দিত হয় না, ফলে হৃদপিণ্ডের জন্য রক্ত সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পরে। আর এ ধরণের রুগীর কাছে দৈনন্দিন কাজগুলোও হয়ে পরে ম্যারাথন দৌড়ের মত ক্লান্তিকর।

আর এ কারণের ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন এর গবেষকরা একটি প্যাচ উন্নয়নের প্রচেষ্টায় রয়েছেন। হৃৎপিণ্ডের উপর চাদরের মত পাতলা স্তরে হৃদ-কোষের প্রলেপ দেবার মাধ্যমে স্পন্দনে সহায়তা অথবা হৃদযন্ত্রের ভেতরে থাকা স্কার টিস্যুর উপর সরাসরি স্প্রে করা যাবে।

স্প্রে অন:
লন্ডনের জানালাহীন এক ল্যাবরেটরিতে যন্ত্র-প্রকৌশলী ড. সুয়ান জয়সিং তৈরি করেছেন এই বায়ো-ইলেকট্রিক স্প্রেয়ার।

সিরিঞ্জটি প্রথমে হৃদ-কোষ দিয়ে ভরানো হয়। ভবিষ্যতে কোষগুলো রুগীর হৃদযন্ত্র থেকে এবং কৃত্রিম ভাবে তৈরি করা হবে অথবা রুগীর স্টেম সেলকে হার্ট সেলে পরিবর্তন করা হবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

এগুলো পরবর্তীতে একটি সূচের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত করা হবে। কিন্তু পাতলা, নির্দিষ্ট স্থানে এবং সঠিক মাত্রায় প্রয়োগের জন্য প্রয়োজন বিশেষ কোন পদ্ধতি, নইলে হৃদ-কোষগুলো তৈরি হবে না। আর সে ব্যাপারে সাহায্য করছে ১০ হাজার ভোল্ট।

সূচের মধ্যে দিয়ে ১০ হাজার ভোল্ট প্রবাহিত করার মাধ্যমে একটি বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি করা হবে যা কোষগুলোকে নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক স্থানে স্প্রে করার জন্য সাহায্য করবে।

এর ফলে সূক্ষ্ম জেটের ধারার সৃষ্টি হবে এবং তা ভেঙ্গে গিয়ে অসংখ্য ফোঁটায় রূপান্তরিত হবে। আর এই ফোঁটাগুলোই পাতলা চাদরের সৃষ্টি করবে বলে উল্লেখ করেন ড. সুয়ান।

তিনি বলেন, "সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হচ্ছে আমরা বিভিন্ন প্রকারের কোষকে সেল সাসপেনশনের মধ্যে যোগ করতে পারি এবং সম্পূর্ণরূপে কার্যকরী ত্রিমাত্রিক কার্ডিয়াক টিস্যুতে পরিণত করতে পারি।"

অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে প্যাচের উপর স্পন্দনরত কোষ দেখা সম্ভব বলে জানিয়েছে বিবিসি। গবেষকেরা প্যাচটি আসলেই ক্ষতিগ্রস্ত হৃদপিণ্ডে স্পন্দন তৈরিতে সহায়তা করে কি না তা জানার জন্য প্রাণীর উপর পরীক্ষা করবে।

ড. অ্যানাস্তাসিস স্টিফানু অবশ্য আশা করছে তাদের তৈরি কার্ডিয়াক শিটটি ক্ষতিগ্রস্ত হার্টের অবস্থা কিছুটা হলেও উন্নত করতে পারবে।

"আমাদের প্রত্যাশা দীর্ঘমেয়াদে প্রযুক্তিটির উন্নয়ন আমাদেরকে দিবে ক্ষতিগ্রস্ত হৃদযন্ত্রকে ঠিক করার সুবিধা যেন হৃদরোগে আক্রান্ত রুগীকে আর দাতা হার্টের জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে না।"

তিনি আরো বলেন, "হৃদযন্ত্রটি গঠিত হয়েছে বিভিন্ন প্রকারের কোষের সমন্বয়ে, আর তাই আমরা এমন একটা প্রযুক্তি তৈরি করতে পারবো বলে মনে করছি যা কয়েক প্রকারের কোষ সঠিক সংখ্যায় সমন্বিত করার মাধ্যমে বাস্তবেই কার্ডিয়াক কোষ তৈরি করা সম্ভব হবে।"

ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের মেডিকেল ডাইরেক্টর অধ্যাপক পিটার ওয়েসবার্গ বলেন, "হার্ট পেশী তৈরি করার কাজটি বিশাল এক চ্যালেঞ্জ এবং এর প্রক্রিয়াকরণে প্রয়োজন বিভিন্ন কোষ এর মিশ্রণ এবং সঠিকভাবে একের পর এক ক্রমানুসারে থাকবে এমন রক্ত প্রণালী।"

"এই গবেষণার মাধ্যমে গবেষকেরা দেহের বাইরে হৃদযন্ত্রের একটি টুকরা তৈরির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা আশা করছি এমন একটা দিন খুব শীঘ্রই আসবে যখন এই টুকরোগুলো হৃদযন্ত্রের উপরে স্থাপনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হৃদযন্ত্রটিকে আবার কার্যকরী করে তোলার মাধ্যমে লাখো জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে।"


বর্তমানে হৃদয় জোড়া দেবার কোন উপায় ডাক্তারদের কাছে নেই। হার্ট অ্যাটাকের কারণে একবার হৃদযন্ত্রের পেশী ক্ষতিগ্রস্ত হলে কোনদিন সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু আশা রয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন। আর এই গবেষণার জন্য প্রয়োজন £৫০ মিলিয়ন পাউন্ড। প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে আগামী দশ বছরের মধ্যে তারা এই অবস্থার পরিবর্তন করতে সক্ষম হবে তারা।