মোবাইল গ্রাফিক্স বিপ্লব: এলো আর্মের আট-কোর বিশিষ্ট মোবাইল জিপিউ

(প্রিয় টেক) মোবাইল চিপ নির্মাতা আর্ম মোবাইল ডিভাইসের সাথে ব্যবহারের জন্য দ্বিতীয় প্রজন্মের গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট ডিজাইন করেছে বলে ঘোষণা দিয়েছে। নতুন টি-৬০০ সিরিজটির অবকাঠামো ৫০% দক্ষতা বৃদ্ধি করবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেটগুলো আরো গ্রাফিক্স-ইন্টেনসিভ ভিডিও গেম এবং ছবি এডিট করার অ্যাপগুলো আরো দ্রুত কাজ করবে। এই প্রযুক্তি ভিত্তিক প্রথম পণ্যটি ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে উল্লেখ করেছে আর্ম।

স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এস ৩তে ব্যবহার করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কোয়াড-কোর মালি ৪০০ জিপিইউ। আর এই গ্রাফিক্স কার্ড ইউনিটটি কিছু অনবদ্য বেঞ্চমার্ক এর সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এ বছরের শেষ নাগাদ আমরা নতুন প্রজন্মের মালি জিপিইউ দেখতে পাবো।
যার মাঝে মধ্যম মানের মালি ৪৫০ ছাড়াও থাকছে কোয়াড কোর টি ৬০৪ এবং আট-কোর বিশিষ্ট টি ৬৫৮। এই জিপিইউ গুলো আর্মের মিডগার্ড অবকাঠামো ভিত্তিক
এর সাথে আরো তিনটি গ্রাফিক্স প্রসেসর এর ঘোষণা দিয়েছে আর্ম, টি ৬২৪ (কোয়াড), টি ৬২৮ এবং টি ৬৭৮ (আট কোর)।
৫০% দক্ষতা বৃদ্ধি হলেও সিলিকনের আকৃতি এবং বিদ্যুৎ খরচ বাড়ছে না বলে উল্লেখ করেছে আর্ম। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য গেম কনসোলের মত দক্ষতা নিংরে নেয়া, ৪কে (৪০০০ রেজ) এবং ৮ কে ভিডিওগুলো প্রক্রিয়াকরণ করা সাথে সাথে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং স্মার্ট টিভির ইউজার ইন্টারফেসে ৬০ এফপিএস এর মসৃণতা নিয়ে আসা।

বিশেষ করে টি ৬৭৮, প্রিমিয়াম মানের এই জিপিইউটি তৈরি করা হয়েছে ট্যাবলেট ডিভাইসকে নির্দিষ্ট করে। আট-কোর ছাড়াও কোর প্রতি ম্যাথ ক্রাঞ্চিং অ্যারিথমেটিক লজিক ইউনিটের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হয়েছে। যার কারণে এর কম্পিউট করার ক্ষমতা (একক গিগাফ্লপস) টি ৬২৪ অপেক্ষা চার গুণ অধিক।
চিপগুলোতে নতুন আরেকটি বৈশিষ্ট্য এনেছে আর্ম। প্রতিষ্ঠানটি তার জিপিইউ এর সামান্য অংশ (২%) সংরক্ষিত রেখেছে নতুন একটি গ্রাফিকাল কম্প্রেশন কোডেক চালানোর জন্য। এই কোডেকটি সম্পূর্ণভাবে আর্মের তৈরি এবং উন্মুক্ত স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে খ্রোনোসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অ্যাডাপ্টিভ স্কেলেবল টেক্সচার কম্প্রেশন (এ.এস.টি.সি) নামক কোডেকটি গেম এবং অ্যাপডেভেলপাররা যে "ফ্র্যাগমেন্টেশন অফ স্ট্যান্ডার্ড" সমস্যার সম্মুখীন হন তা দূর করতে সহায়তা করবে।
বর্তমানে একজন ডেভেলপারকে বিভিন্ন অবকাঠামোতে বিভিন্ন স্তরের টেক্সচার কম্প্রেশন পাবার জন্য ভিন্ন ভিন্ন কোডেক পছন্দ করতে হয়। যেমন ধরুন, ডেস্কটপের জন্য পছন্দ করলেন পিক্সেল প্রতি ৮-বিট কোডেক কিন্তু মোবাইলের জন্য ব্যবহার করতে হল সম্পূর্ণ ভিন্ন ৪-বিট কোডেক ব্যবহার করতে হয়। এই ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করবে এ.এস.টি.সি, আর্ম জানিয়েছে সকল ধরণের টেক্সচার, কালার স্ট্যান্ডার্ড এবং বিটরেট সমর্থন করায় এটি নতুন স্ট্যান্ডার্ডে পরিণত হবে এবং যার কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।
এ.এস.টি.সিকে নতুন বৈপ্লবিক অ্যালগোরিদম হিসেবে উল্লেখ পূর্বক আর্ম জানিয়েছে এটি সফটওয়্যার ডিজাইনকারীকে একই পরিমাণ তথ্য প্রদানের মাধ্যমে আগের চাইতে অনেক বিস্তারিত ছবি তৈরি করা অথবা আরো অনেক কম তথ্য প্রদানের মাধ্যমে বর্তমান মানের ছবি তৈরি করা সম্ভব হবে। দ্বিমাত্রিক, ত্রিমাত্রিক এবং এইচডিআর সহ বিভিন্ন ফরম্যাটের ছবি এই কোডেকটি সমর্থন করবে।
আর্মের পণ্য ব্যবস্থাপক স্টিভ স্টিল বলেন, ভোক্তাদের দৃষ্টিতে ব্যাপারটা আমরা যদি দেখি তাহলে পাবো দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি এবং উচ্চ মানের ছবি। "টেক্সচার কম্প্রেশন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কারণ তথ্য যত বেশি আদান-প্রদান করবেন তত বেশি শক্তি খরচ হবে, আর তাই তথ্য যত কম আদান-প্রদান করা যাবে তত ব্যাটারির স্থায়িত্বকাল তত বৃদ্ধি পাবে।"
প্রতিষ্ঠানটি তার এই প্রযুক্তি লাইসেন্সের মাধ্যমে অন্যদেরকে ব্যবহার করতে দিবে বলে জানিয়েছে।
মোবাইল ডিভাইসের কেন্দ্রিয় প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্র (সিপিইউ) ডিজাইনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বসেরা হলেও জিপিইউ ক্ষেত্রে একদম নতুন। বর্তমানে ইমাজিনেশন টেকনোলজি নামক একটি প্রতিষ্ঠান মোবাইল গ্রাফিক চিপ নির্মাতা হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়। দুইটি প্রতিষ্ঠানই যুক্তরাজ্য ভিত্তিক।
তবে আর্ম বা ইমাজিনেশন নিজেরা কোন পণ্য নির্মাণ করে না। বরং প্রতিষ্ঠাণ দুটি তাদের প্রযুক্তির লাইসেন্স বিক্রয় করে অর্থ উপার্জন করে থাকে।, মোবাইল ডিভাইস নির্মাতা এই ডিজাইন এর সাথে অন্যান্য প্রযুক্তি যুক্ত করে নিজ নিজ ডিভাইস তৈরি করে থাকে।
আর্ম বনাম ইমাজিনেশন:
আর্ম জানিয়েছে স্যামসাং এর জনপ্রিয় গ্যালাক্সি এস থ্রি সহ পাঁচটির মধ্যে একটি অ্যানড্রয়েড ডিভাইস তাদের গ্রাফিক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে।
সেদিক থেকে জন পেডির করা একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে ২০১১ সালে নির্মিত স্মার্টফোনগুলোর আর্ধেকই ব্যবহার করেছে ইমাজিনেশনের গ্রাফিক্স প্রযুক্তি। যার মাঝে অ্যাপলের আইপ্যাড এবং আইফোন রয়েছে।
আর্ম জানিয়েছে তার প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এর সিপিইউ এবং জিপিইউ একত্রে কাজ করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। যা তার প্রতিদ্বন্দ্বির চিপসেটে থাকে না।
আর্মের কৌশলগত বিপণন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন স্মিথ বলেন, "আমরা যত জটিল প্রসেসর এর দিকে অগ্রসর হব -সিপিইউ এবং জিপিইউ উভয় ক্ষেত্রেই - এই দুইয়ের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করা তত বেশি জরুরি হয়ে উঠবে।"

সঠিক নির্দেশটি সিপিইউ অথবা জিপিইউ এর কাছে সঠিক পৌছে দেয়ার মাধ্যমে ভোক্তা লক্ষ্য করবে অধিক ব্যাটারি স্থায়িত্ব আর ডিভাইস নির্মাতারা থাকতে পারবে মোবাইল ডিভাইসের জন্য যে নির্দিষ্ট পাওয়ার বাজেট রয়েছে তার মাঝে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে তাদের তৈরি মালি জিপিইউ ইতোমধ্যে এলজি, সনি, স্যামসাং এবং শার্পের মত নির্মাতার তৈরি টেলিভিশনের চিপসেট নির্মাণে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। টিভি বাজারের ৭০% এখন তার দখলে। আর তাই নতুন প্রজন্মের গ্রাফিক্স প্রসেসর মানে টেলিভিশনগুলো উচ্চ গ্রাফিক্সের গেম এবং নানা ধরণের মিডিয়া আরো দক্ষতার সাথে প্রদর্শন করতে সক্ষম হবে।













