জীবনের প্রতিটি মূহুর্ত ক্যামেরাবন্দী করতে আসছে মেমোটো লাইফলগিং ক্যামেরা

A.I.Sajib's picture

(প্রিয় টেক) স্মার্টফোনের কল্যাণে আমাদের জীবন এখন বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের উপর নির্ভর হয়ে পড়েছে। যোগাযোগের জন্য ইমেইল, কাগজের ক্যালেন্ডারের বদলে ক্যালেন্ডার অ্যাপ্লিকেশন, বিভিন্ন নোট নেয়ার জন্য এভারনোটের মতো বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ইত্যাদির উপর এখন আমরা অনেকটাই নির্ভর। এছাড়াও বিভিন্ন ব্লগিং সেবার মাধ্যমে আমরা যেমন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের মনে রাখার মতো ঘটনাগুলো লিখে রাখতে পারি ফোন থেকেই, তেমনি ভিডিও ধারণ করেও ইউটিউবের মতো ভিডিও-শেয়ারিং সাইটে আপলোড করে সংরক্ষণ করতে পারি সবসময়ের জন্য।

কিন্তু আপনার জীবনের প্রায় সবগুলো মুহূর্তকে যদি ক্যামেরাবন্দী করা যেত, তাহলে কেমন হতো? সম্প্রতি মেমোটো নামের ছোট একটি ক্যামেরা ঠিক সেই কাজটাই করার জন্য তৈরি হয়েছে। ডাক টিকিট আকারের এই ক্যামেরা প্রতি ৩০ সেকেন্ডে একটি করে ছবি তুলতে পারে। এটি ব্যবহারকারীরা পরিধেয় কাপড় বা গহনার সঙ্গেই আটকে রাখার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, এই ডিভাইসটি আপনার কাপড়ে লাগিয়ে রাখলে প্রতি ৩০ সেকেন্ড (হ্যাঁ, সেকেন্ড, মিনিট নয়) পরপরই এটি একটি করে ছবি তুলবে। ফলে আপনার দৈনন্দিন জীবনের কোনো ঘটনাই আর মিস হবে না।

মেমোটো-এর প্রধান নির্বাহী মার্টিন কার্লস্ট্রম বলেছেন, এই ক্যামেরার মাধ্যমে আপনি প্রথমে আপনার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরায় ধারণ করতে পারবেন ও তারপর সেসব ছবি দেখার মাধ্যমে সেই মুহূর্তের অনুভূতিগুলোকে আবার ফিরিয়ে আনতে পারবেন।

১.৪ ইঞ্চি আকারের মেমোটো ক্যামেরা ৫ মেগাপিক্সেল রেজুলেশনের ছবি তুলতে সক্ষম। সেই সঙ্গে ছবি কখন ও কোথায় তোলা হয়েছে সেই তথ্যও প্রতিটি ছবির সঙ্গেই সংরক্ষিত করা হয়। প্রতি ১২ ঘণ্টায় ১,৪৪০টি ছবি তোলার পর মেমোটো কোম্পানির ওয়েবসাইটে ছবিগুলো পাঠিয়ে দেয়। সেখানে ছবির সঙ্গে থাকা জিপিএস ও সময়ের ভিত্তিতে একে অ্যালবাম ও টাইমলাইনে রূপান্তর করা হয় যাতে পরবর্তীতে ব্যবহারকারী একে সাজানো অবস্থায় দেখতে পারেন।

পরিধেয় প্রযুক্তি এখনও আমাদের জীবনে ততোটা সহজলভ্য হয়ে ওঠেনি। গুগল তাদের গুগল গ্লাস নামক একটি প্রকল্পে কাজ করছে যার মাধ্যমে চশমা দিয়েই ছবি তোলা, ভিডিও চ্যাট করা বা গুগল প্লাসে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং করা সম্ভব। কিন্তু মেমোটোর প্রযুক্তির কাছে ইতোমধ্যেই গুগল প্লাসকে খানিকটা পুরনো আমলের মনে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে হাফিংটন পোস্ট। কেননা, গুগল গ্লাসেও ব্যবহারকারীকে নির্দেশ দিয়ে ছবি তুলতে হয়। অথচ মেমোটো আপনা-আপনিই ছবি তুলতে থাকে প্রতি ৩০ সেকেন্ডে। এতে করে সেসব ছবিও ধরা পড়ে যাবে যা হয়তো আপনি আপনার হাতের (কিংবা চোখে থাকা গুগল গ্লাসের) ক্যামেরায় ধরতে পারতেন না।

মেমোটো এখনও একটি প্রোটোটাইপ। কিকস্টার্টার নামের একটি ওয়েবসাইটে এই ক্যামেরার পেছনের কোম্পানি প্রোটোটাইপকে বাস্তবে রূপান্তরের লক্ষ্যে ফান্ড চালু করেন। প্রাথমিকভাবে ৭৫ হাজার ডলারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও কয়েক ঘণ্টায়ই তারচেয়ে বেশি টাকা উঠে যায়। ২৪ ঘণ্টা পর ১,১২৮জন সাপোর্টার মিলে ২,১০,০০০ ডলার দিয়ে মেমোটোকে সাপোর্ট করার কথা জানান।

প্রস্ততকারকরা জানিয়েছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি নাগাদ এটি বাজারে আসতে পারে। আর এর দাম হতে পারে $২৭৯ ডলারের আশেপাশেই।