সনির নতুন প্রফেশনাল ক্যামকোর্ডার নেক্স-ইএ৫০ ইউএইচ

(প্রিয় টেক) টিভি অনুষ্ঠান এবং প্রফেশনাল ভিডিওগ্রাফারদের জন্য বিশ্বখ্যাত ইলেকট্রনিক নির্মাতা সনি নিয়ে এলো এনএক্সক্যাম সিরিজের নতুন লেন্সপরিবর্তনযোগ্য ক্যামকোর্ডার নেক্স-ইএ৫০ ইউএইচ। ক্যামেরাটির সাথে দেয়া হয়েছে ১৮-২০০মিমি সার্ভো জ্যুম লেন্স। এই প্রথম ই-মাউন্ট লেন্সে সার্ভো জ্যুম সংযুক্ত করা হল। নেক্স-ইএ৫০ ইউএইচ ক্যামকোর্ডারে ব্যবহার করা হয়েছে নতুন এপিএস-সি এক্সমর সিমস সেন্সর যা ১০৮০পি দৃশ্য সর্বোচ্চ ৬০ এফপিএস এ ধারণ করতে সক্ষম।

সিনেমা মাণের ভিডিও তৈরি করতে সক্ষম হবার কারণে ভিডিওগ্রাহকদের মধ্যে এইচডিএসএলআর অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে, বৃহৎ ইমেজ সেন্সর, প্রফেশনাল মানের এইচডি ভিডিও গ্রহণ এবং উচ্চ-রেজ্যুলুশনে স্থিরচিত্র তোলার মত বৈশিষ্ট্যগুলো ভিডিওগ্রাফারদেরকে আকর্ষণ করেছে। আর এই চিন্তাধারাকে সামনে রেখে নেক্স-ইএ৫০'র ডিজাইন করা হয়েছে এবং এপিএস-সি সেন্সর, ই-মাউন্ট লেন্স এবং ডিএসএলআর মানের স্থিরচিত্র উত্তোলনের সাথে ক্যামকোর্ডারের আকৃতি, সার্ভো জ্যুম লেন্স, টাইমকোড এবং প্রফেশনাল শব্দ ধারণ ক্ষমতার সমন্বয় ঘটিয়ে এই ক্যামকোর্ডারের মান উন্নয়ন করা হয়েছে।

সনির সার্ভো জ্যুম ভিত্তিক প্রথম ই-মাউন্ট লেন্সের জন্য নেক্স-ইএ৫০ এ রয়েছে রকার-স্টাইল জ্যুম লিভার। যারা প্রফেশনাল ক্যামকোর্ডার ব্যবহার করে থাকেন তাদের কাছে রকার জ্যুম অত্যন্ত পরিচিত। কিন্তু পরিবর্তনযোগ্য লেন্সের ক্ষেত্রে সুবিধাটি অনেক ক্ষেত্রেই কোন কাজে লাগে না, বিশেষ করে যখন প্রাইম লেন্স বা ম্যানুয়েল জ্যুম ব্যবহার করছেন তখন। সনির মতে রকার জ্যুমের কারণে ব্যবহারকারী পাবে লুজলেস ডিজিটাল জ্যুমের সুবিধা। রেজ্যুলুশনের উপর কোন প্রভাব না ফেলে বাস্তব সময়ে ইমেজ সেন্সরকে ক্রপ করার মাধ্যমে দৃশ্যের অ্যাঙ্গেল পরিবর্তন করা সম্ভব হবে। ক্যামেরাটির নেটিভ রেজ্যুলুশন ১০৮০পি'র অধিক হবার কারণে এই বিশেষ সুবিধাটি গ্রহণ করা যাবে বলে উল্লেখ করেছে সনি।
নতুন ক্যামকোর্ডারটি সনির নিজস্ব মেমরি স্টিক প্রযুক্তি ছাড়াও এসডি/এসডিএইচসি/এসডিএক্সসি মেমরি ফরম্যাট সমর্থন করে। এছাড়া এফএমইউ সংযোগ ব্যবস্থা থাকার কারণে সনির এইচএক্সআর- এফএমইউ ১২৮ ফ্ল্যাশ মেমরি ইউনিট ব্যবহার করতে পারবেন। যার ধারণা ক্ষমতা ১২৮ গিগাবাইট। ক্যামকোর্ডারটি একই সাথে এসডি এবং এইচএক্সআর- এফএমইউ ১২৮ ভিডিও ধারণ করতে সক্ষম।

এইচডিএসএলআর ক্যামেরা প্রফেশনাল মানের স্থিরচিত্র ক্যামেরার পাশাপাশি ভিডিও তুলতে সক্ষম হিসেবে ধারণা করা হলেও নেক্স-ইএ৫০ ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টোটা। অর্থাৎ, প্রফেশনাল মানের ভিডিও ক্যামেরা হওয়া সত্ত্বেও এটি ভালো স্থিরচিত্র তুলতে সক্ষম। ১৬ মেগাপিক্সেল এপিএস-সি সিমস সেন্সরটি স্থিরচিত্র তোলার ব্যাপারে বেশ দক্ষ আর এর সাথে ডিএসএলআরের দেহ, ডেডিকেটেড শাটার রিলিজ বাটন, রোলিং শাটার আর্টিফ্যাকটস বন্ধ করার জন্য মেকানিক্যাল শাটার বাটন এবং ফ্ল্যাশের জন্য হট শ্যুর ব্যবস্থা থাকার কারণে নেক্স ভিডিওগ্রাহকদের কাছে সোনায় সোহাগা বলে বিবেচিত হতে পারে।
ক্যামকোর্ডারটি সনাতন ক্যামকোর্ডারের মত দেখতে না হলেও ডায়োপটার টিউব ভিউফাইন্ডার, শটগান মাইক্রোফাইন্ডার এবং ১৮-২০০মিমি সার্ভো জ্যুম লেন্স সহ ক্যামেরাটি নিমিষেই যে কোন ক্যামকোর্ডার প্রেমীর দৃষ্টি কেড়ে নিতে সক্ষম হবে। ক্যামেরাটি যথাসম্ভব আরামদায়কভাবে কাঁধে ঝোলানোর জন্য সোল্ডার প্যাডটির অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবেন। রয়েছে টপ হ্যান্ডেল, পরিবর্তন যোগ্য হ্যান্ডগ্রিপ, এবং শক অ্যাবজরবিং মাইক্রোফোন মাউন্ট। আকৃতি বিশাল হলেও ওজন অত্যন্ত কম।
নেক্স সিরিজের অন্যান্য ক্যামেরার মত নেক্স-ইএ৫০ইউএইচ এভিসিএইচডি ফরম্যাটে ভিডিও ধারণ করে। এছাড়া স্লোমোশন ভিডিও সহ এনটিএসসি এবং প্যাল উভয় ফরম্যাটে ভিডিও ধারণ করতে পারবেন।
লেন্স পরিবর্তনযোগ্য এই ক্যামকোর্ডারের প্রথমবারের মত ই মাউন্ট সার্ভো জ্যুম লেন্স ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। অপটিক্যাল স্টেডি শট এবং ১৬ মেগাপিক্সেলে এ স্থির চিত্রও তুলতে সক্ষম ক্যামেরাটি। ৬০ এফপিএস এ ১০৮০পি ভিডিও ধারণ এবং সংরক্ষণের জন্য এসডি অথবা এসএসডি ব্যবহার করতে সক্ষম। ক্যামকোর্ডারটির মূল্য ৪৫০০ মার্কিন ডলার।













