ক্যাননের প্রথম মিররলেস ক্যামেরা আসছে এই অক্টোবরে

(প্রিয় টেক) ক্যানন মিররলেস ক্যামেরা আনছে এই গুজব অবশেষে বাস্তবে পরিণত হল। সোমবার এক ঘোষণার মাধ্যমে ক্যানন নিয়ে এলো ক্যানন এম ক্যামেরা। তবে ক্যামেরাটির জন্য আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে অক্টোবর মাস পর্যন্ত। মিররলেস ক্যামেরাগুলোতে সনাতন আয়না না থাকার কারণে দেহ ছোট হয়ে এলেও (তবে পয়েন্ট অ্যান্ড শ্যুট অপেক্ষা একটু বড়) ছবির মান এসএলআর এর কাছাকাছি। তবে আয়না না থাকার কারণে পাবেন না ভিউ ফাইন্ডার ফলে শুধু এলসিডি দেখেই ছবি কম্পোজ করতে হবে আপনাকে।

নতুন ক্যামেরাটি দেখতে অনেকটা ক্যাননের জি সিরিজ এর মত বলে উল্লেখ করেছে ইউএসটুডে। গিজমোডো এবং সিনেট একে টিফোরআই আর এনগ্যাজেট একে পাওয়ারশট জিওয়ান এক্স এবং এস ১০০ এর মধ্যবর্তী বলে উল্লেখ করেছেন। তবে প্রধান পার্থক্য হচ্ছে নতুন ক্যামেরাটি লেন্স পরিবর্তনযোগ্য (এমআইএলসি)। ক্যামেরাটি সহজে পকেটে নিয়ে ঘোরা যাবে বলে উল্লেখ করে ইউএসটুডে।

লেন্স পরিবর্তনযোগ্য এই ক্যামেরাটিতে ক্যানন নতুন "এম" মাউন্ট ব্যবহার করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি এই মাউন্ট ভিত্তিক দুটি লেন্স বের করেছে, ২২ মিমি এফ/২.০ প্যানকেক ওয়াইড অ্যাঙ্গেল এবং ১৮-৫৫মিমি এফ/৩.৫-৫.৬ জুম লেন্স ($৩০০)। তবে পুরানো ক্যানন লেন্স এই ক্যামেরার সাথে ব্যবহার করার জন্য অ্যাডাপটার পাওয়া যাবে। যার মূল্য $২০০ ডলার ধার্য করা হয়েছে।


ইওএস এম ক্যামেরাটির তুলনা করা যায় প্রতিষ্ঠানটির তৈরি হাইব্রিড সিমস সেন্সর টিফোরআই এর সাথে। কিন্তু গিজমোডো জানিয়েছে নতুন ক্যামেরাটি টিফোরআই অপেক্ষা ছোট। তবে একই মানের কন্টিনিয়াস লাইভ ভিউ অটোফোকাস (ভিডিও সহ), দক্ষ ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রিন (৩” স্মাজ রেজিস্টেন্স) এবং ১৮ মেগাপিক্সেল এপিএস-সি ইমেজ সেন্সর এবং ডিজিক ফাইভ ইমেজ প্রসেসর রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে সাইটটি।
এনগ্যাজেট সূত্রে জানা গিয়েছে ক্যামেরাটি লেন্স সহ (২২ মিমি এফ/২.০) ওজন ১৪.২ আউন্স, যেখানে টিফোরআই এর ওজন ২৭.৪ আউন্স এবং জিওয়ানএক্স এর ওজন ১৯ আউন্স।

ক্যামেরাটি নির্মাণে ক্যানন ব্যবহার করেছে ম্যাগনেসিয়াম এবং স্টেনলেস স্টিল যা অনেকটা পাওয়ার শট এস ১০০ এর মত, গিজমোডোর মতে, “ক্যানন যেন সেন্সরের চারিদিকে একটা বক্স তৈরি করেছে।” (ভালো অর্থে) আকৃতি ছোট রাখার রহস্য হিসেবে নতুন মাউন্টকে দায়ী করেছে গিজমোডো।

এছাড়া এই ক্যামেরাতে বিল্ট ইন ফ্ল্যাশ নেই তবে এই ক্যামেরার সাথে ব্যবহার করার জন্য ছোট আকৃতি একটি ফ্ল্যাশ নির্মাণ করেছে ক্যানন। প্রতিষ্ঠানটির বিখ্যাত স্পিডলাইট সিরিজের অন্তর্ভুক্ত এই ফ্ল্যাশটি ৯০ইএক্স নামে পরিচিত এবং মূল্য $১৫০ ডলার, তবে হটশ্যু থাকায় আপনার পুরনো ফ্ল্যাশও এর সাথে ব্যবহার করতে পারবেন।

ক্যামেরাটির সাথে ক্যানন টাচস্ক্রিন হিসেবে ব্যবহার করেছে তার দ্বিতীয় প্রজন্মের টাচস্ক্রিন প্রযুক্তি। এদিকে মিররলেস ক্যামেরাগুলো সাধারণত ছোট হবার কারণে বাটনগুলো চাপ দেয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পরে, কিন্তু ইওএস এম এ বাটনের সংখ্যা অত্যন্ত কম থাকায় সমস্যায় পরতে হচ্ছে না। আর এক্ষেত্রে ক্যাননকে সহায়তা করেছে উন্নত মানের স্পর্শপর্দাটি। তবে টিফোরআই এর স্ক্রিনটি নানাদিকে ঘোরানো সম্ভব হলেও এম এর স্ক্রিনটি ফিক্সড।

নতুন সেন্সর ভিত্তিক অটোফোকাস সিস্টেমটি ফেজ এবং কন্ট্রাস্ট উভয় পদ্ধতি ব্যবহার করে ক্রমাগত দ্রুত ফোকাস করতে সক্ষম। বিশেষ করে ভিডিও করার সময় এই প্রযুক্তিটি অত্যন্ত কার্যকর, রুমের একটি সাবজেক্ট থেকে অন্য সাবজেক্টে নিয়ে যাবার সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্রুত ক্যামেরাটি নতুন বিষয়টি ফোকাস করবে।

এছাড়া নতুন এম লেন্সে এসটিএম (স্টেপিং মোটর) প্রযুক্তি ব্যবহার করার কারণে এগুলো পূর্ব প্রযুক্তির অটোফোকাস মোটর শব্দহীন হওয়ায় ভিডিওর করার সময় লেন্সের আওয়াজ মিশ্রিত হবে না। ইওএস এম এ বিল্ট-ইন স্টেরিও মাইক এবং বাহ্যিক মাইক্রোফোন ব্যবহারের সুবিধা থাকলেও হেডফোন জ্যাক নেই।
ভিডিও হবে ১৯২০X১০৮০পি এবং ২৪, ২৫, এবং ৩০ ফ্রেম রেটে।

২২ মিমি কিট লেন্সটি এফ/২.০ হবার কারণে শাটার স্পিড বেশি থাকা অবস্থাতেও অন্ধকারে ছবি তোলা সম্ভব হবে। ক্যামেরাটির সর্বোচ্চ আইএসও গতি ১২,৮০০। ফলে ছবি অধিক অন্ধকারে এবং গতিশীল বিষয়ের ছবি অনায়াসে তোলা যাবে। কন্টিনিয়াস মুডে ক্যামেরাটি প্রতি সেকেন্ডে ৪.৩ ফ্রেম তুলতে সক্ষম।

ক্যামেরাটি ক্যানন প্রেমী এবং ইওএস ব্যবহারকারীদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে । বিশেষ করে নতুন এম লেন্সের পাশাপাশি অ্যাডাপটারের মাধ্যমে পুরনো লেন্স ব্যবহারকরার সুবিধা থাকায় অনেককে লেন্স নতুন ভাবে ক্রয় করতে হবে না কিন্তু পেয়ে যাবে এসএলআর মানের কম্প্যাক্ট একটি ক্যামেরা। অক্টোবর মাসে ২২মিমি লেন্স কিট সহ ক্যামেরাটি $৮০০ ডলারে পাওয়া যাবে।
ক্যানন তার জাপান সাইটে কিছু ভিডিও এবং ছবি পোস্ট করেছে। আগ্রহীরা দেখে নিতে পারেন।










