ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা নিয়ে এলো গিগাপিক্সেল ক্যামেরা

(প্রিয় টেক) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলীরা এমন একটি ক্যামেরা উন্মোচন করেছে যা "নজিরবিহীন বিবরণ" সহ ছবি তুলতে সক্ষম। উত্তর ক্যারোলিনার ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের দলটির দেয়া তথ্যানুযায়ী, অ্যাওয়ার ২ নামক পরীক্ষামূলক যন্ত্রটি ৫০, হাজার মেগাপিক্সেল বা ৫০ গিগাপিক্সেল (হ্যাঁ, গিগাপিক্সেল!) রেজ্যুলেশনে ছবি তুলতে সক্ষম। একক একটি ডিভাইসের মাঝে থাকা ৯৮টি ক্ষুদ্র ক্যামেরাকে সুসংগত করার মাধ্যমে এই অসাধ্য সাধন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্যামেরাটি প্রতিরক্ষামূলক নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হবে।
![]()
নির্মাণকারী দলটির দলনেতা হিসেব ছিলেন ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্র্যাট স্কুল অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এর অধ্যাপক প্রকৌশলী ডেভিড ব্র্যাডি এবং মাইকেল জে. ফিৎজপ্যাট্রিক এবং তাদের সাথে ছিলেন অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা।
আর গবেষণার কাজে অর্থায়ন করেছে মার্কিন সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডার্পা।
পরীক্ষামূলক ক্যামেরাটি ২.৫ ফিট বর্গক্ষেত্রকায় এবং যার গভীরতা ২০"। ক্যামেরাটি সম্পর্কে ব্র্যাডি বলেন, "প্রতিটি মাইক্রো ক্যামেরা তার ফিল্ড অফ ভিউ অনুযায়ী নির্দিষ্ট একটি এলাকার তথ্য গ্রহণ করে। কম্পিউটারের প্রসেসর এই তথ্যগুলো জোড়া লাগিয়ে একটি অত্যন্ত বিস্তারিত ছবিতে পরিণত করে। অনেক ক্ষেত্রে, ক্যামেরা চিত্রগ্রাহক ছবি তোলার সময় খেয়াল করেনি এমন অনেক বিস্তারিত তথ্য সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।"
![]()
এই ক্যামেরায় স্ফিয়ারিক্যাল লেন্স এবং ১০০ টি মাইক্রোক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি ক্যামেরায় রয়েছে ১৪ মেগাপিক্সেলের সেন্সর। এই ১০০ টি ক্যামেরায় তোলা ১০০টি ছবি একত্রিত করার মাধ্যমে অত্যন্ত বিস্তারিত ছবি তোলা সম্ভব হবে। বর্তমানে যে ক্যামেরাটি তৈরি করা হয়েছে তা এক গিগাপিক্সেল ছবি তুলতে সক্ষম। গবেষকেরা জানিয়েছে আরো ক্যামেরা যুক্ত করার মাধ্যমে ৫০ গিগাপিক্সেল ছবি তোলা সম্ভব।
১০০ পাউন্ড ওজনের এই ক্যামেরাটি ঠান্ডা রাখার জন্য প্রয়োজন বিশাল জায়গা এবং যন্ত্রপাতি।
![]()
দলটি এ বছরের শেষ নাগাদ ১০ গিগাপিক্সেলের রঙ্গীন সংস্করণ বের করতে পারবে বলে আশা করছে। এবং এর পর বের করা হবে ৫০ গিগাপিক্সেলের একটি। প্রতিটি ক্যামেরা তৈরি করতে বর্তমানে এক লক্ষ মার্কিন ডলার প্রয়োজন পরছে বলে জানিয়েছেন তারা। তবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে যখন বের করা হবে তখন এর মূল্য কমে এক হাজার ডলারে নেমে আসবে বলে আশা করছেন।
আজকাল বাজারে পাওয়া যায় এমন ক্যামেরাগুলো মোটামুটিভাবে ৮ থেকে ৪০ মেগাপিক্সেল পর্যন্ত ছবি তুলতে সক্ষম। সাধারণ অর্থে পিক্সেলের সংখ্যা যত বেশি হবে ছবির রেজ্যুলেশন তত বৃদ্ধি পাবে।
গবেষকদের বিশ্বাস আগামী পাঁচ বছরের মাঝে ক্যামেরার বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশগুলোর আকৃতি হ্রাস পাবে এবং আরো দক্ষ হয়ে উঠার কারণে পরবর্তী প্রজন্মের গিগাপিক্সেল ক্যামেরা খুব শীঘ্রই সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে যাবে। ২০১৩ সালের মধ্যে অল্প সংখ্যক ইন্ড্রাস্টিয়াল টাইপের গিগাপিক্সেল ক্যামেরা বের করার আশা রাখছেন গবেষকেরা। তবে জনসাধারণের জন্য ব্যবহারযোগ্য সংস্করণ বের করতে আরো বেশ কিছু বছর লেগে যাবে বলে মনে করেন তারা।
![]()











