স্যামসাংয়ের তিনটি মিররলেস ক্যামেরা

PriyoTech's picture

(প্রিয় টেক) স্যামসাং নানা কারণে বর্তমানে মোবাইল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবেই বেশি পরিচিত হয়ে উঠেছে। কিন্তু এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি গত কয়েক বছরে বেশ কিছু জনপ্রিয় টেলিভিশন, এবং বেশ কিছু আকর্ষণীয় ট্যাবলেট নিয়ে হাজির হয়েছে বিশ্ববাসীর সামনে। এই বাজার গুলোতে স্যামসাং কম বেশি বেশ জনপ্রিয় হলেও একটি স্থানে এখনো প্রতিষ্ঠানটি ঠিক উল্লেখযোগ্য স্থান করে নিতে পারেনি, সেটি হচ্ছে ডিজিটাল ক্যামেরার বাজার। যদিও এই সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি বেশ কিছু উদ্ভাবনমূলক স্থিরচিত্রগ্রাহক যন্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হলেও ক্যানন, নিকন, অলিম্পাস, প্যানাসনিক এবং সনির মত জাপানি ক্যামেরাগুলোর সামনে নিজেদেরকে আকর্ষণীয় করে তুলতে ব্যর্থ হয়। তবে, এশিয়ার বেশ কিছু অঞ্চলে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে এই ক্যামেরাগুলো। কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে খারাপ করার কারণ হিসেবে বলা যায় স্যামসাংয়ের পয়েন্ট অ্যান্ড শ্যুট ক্যামেরাগুলোর মনভোলানো চটকদার বিজ্ঞাপনের নিচে থাকা দুর্বল পারফরমেন্সকে। তবে এর মিররলেস ক্যামেরাগুলো অবশ্য অত্যন্ত দক্ষ হওয়ায় আইএলসি বাজারে ক্রমশ নিজেকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে স্থান করে নিচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি ক্যামেরার বাজারে যদি স্থান করে নিতে চায় তাহলে প্রয়োজন প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে বেশ কিছু আকর্ষণীয় মডেল। দরকার, ভালো লেন্স সহ $৪৯৯ ডলার মূল্যের প্রারম্ভিক মডেলের একটি ক্যামেরা। কিন্তু, দুঃখের বিষয় তারা নতুন যে তিনটি ক্যামেরা নিয়ে হাজির হয়েছে সেখানে $৫০০ ডলারের নিচে কোন আইএলসি ক্যামেরা নেই। এনএক্স ২০ এর মূল্য $১১০০ এবং এনএক্স ২১০ এর মূল্য $৯০০ ডলার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এনএক্স ১০০০ এর মূল্য এখনো স্যামসাং ঠিক করেনি কিন্তু অপর দু'টির মূল্যের হিসেবে যদি $৭০০ ডলার রাখা হয় তাহলে অবাক হবার কিছু নেই।

যদিও এই ক্যামেরাগুলোতে মূল্য অপেক্ষা অনেক বেশি বৈশিষ্ট্য রয়েছে - আবার বৈশিষ্ট্য নেইও বলতে পারেন! পুরোটাই নির্ভর করছে আপনার চাহিদার উপর। তবে, বাজারে যখন সনি নেক্স-সি থ্রি এবং অলিম্পাস ই-এম ফাইভের মত ক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরাগুলো যথাক্রমে $৬০০ এবং $১১০০ ডলারে বিক্রয় হচ্ছে সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে স্যামসাংয়ের শুধু মেগাপিক্সেল এর জয়গান করলে-তো হবে না সাথে চাই মুখ হা হয়ে যাওয়া মূল্য।

প্রতিষ্ঠানটি এ বছর তার এনএক্স সিরিজকে বেশ প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে, তিনটি ক্যামেরাতেই রয়েছে ২০.৩ মেগাপিক্সেল, স্যামসাংয়ের নিজস্ব এপিএস-সি সিমস সেন্সর যার আইএসও সীমা সর্বোচ্চ ১২৮০০, ১০৮০/৩০পি ভিডিও, সম্পূর্ণ রেজ্যুলেশনে ৮ এফপিএস বার্স্ট মুড, ওয়াই-ফাই এবং তিন ইঞ্চি ডিসপ্লে।

এনএক্স ২০


বিনিমেয় লেন্স ক্যামেরা হিসেবে একে স্যামসাংয়ের ফ্ল্যাগশিপ বা সর্বশ্রেষ্ঠ মডেল বলে অভিহিত করতে পারেন। এনএক্স ২০ ব্যবহারে এবং দেখতে অনেকটা ক্ষুদ্র ডিএসএলআর মত, উপরে রয়েছে একই রকম রিট্র্যাকটেড ফ্ল্যাশ, একটি বর্ধিত বৃত্তাকার গ্রিপ এবং বিল্ট ইন এসভিজিএ ইভিএফ। দেখতে অনেকটা এর পূর্বসূরি এনএক্স ১০ এর মত। এমন কি বাটন এবং ডায়ালগুলোও পর্যন্ত একই স্থানে রয়েছে। ক্যামেরাটির পেছনে রয়েছে ৬১৪ কে-ডট, ৩" ভিজিএ পেনটাইল অ্যামোলেড সুইভেল ডিসপ্লে।

এনএক্স ২০ তে যে অ্যামোলেড ডিসপ্লেটি স্যামসাং ব্যবহার করছে তাকে প্রতিষ্ঠানটি একটু ভিন্ন নামে অভিহিত করেছে। ক্লিয়ার অ্যামোলেড নামক এই ডিসপ্লেটিতে একটি অতিরিক্ত লেয়ার রয়েছে। যার ফলে কন্ট্রাস্টের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে একটা ব্যাপার আপনাকে মনে রাখতে হবে এই ক্যামেরাটি যে বিভাগে পরে সেই বিভাগের অন্য কোন ক্যামেরায় কিন্তু ওয়াইফাই সুবিধাটি বিল্ট ইন অবস্থায় নেই। এই সুবিধাটি গ্রহণ করে ক্যামেরা থেকে সরাসরি ছবি বিভিন্ন সামাজিক সাইটে প্রেরণ এবং শাটার সহ আরো বেশ কিছু সুবিধা স্মার্টফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এছাড়া সরাসরি পিসি, এবং স্মার্ট টিভিতে স্থানান্তর করার সুবিধাতো রয়েছেই।

যারা তাদের ডিএসএলআর পরিবর্তন করার চিন্তা ভাবনা করছেন কিন্তু আকার আকৃতি পরিবর্তন করতে আগ্রহী না তাদের জন্য আদর্শ এই ক্যামেরাটি। এনএক্স ২০ এর মূল্য ধরা হয়েছে $১১০০ মার্কিন ডলার তবে সাথে পাবেন এফ/৩.৫-৫.৬, ১৮-৫৫ মিমি লেন্স কিট। ক্যামেরাটি মে মাসের শুরুতে আসছে বলে জানা গিয়েছে।

এনএক্স ২১০


যারা এনএক্স ২০০ দেখেছেন বা ব্যবহার করেন তাদের কাছে এর ডিজাইন অত্যন্ত পরিচিত বলে মনে হবে। আসলে একে খানিকটা পরিবর্তিত ইমেজ সেন্সর এবং ওয়াই ফাই বিল্ট-ইন এনএক্স ২০০ হিসেবেও দেখতে পারেন। পুরাতন সংস্করণটিও স্যামসাং বাজারে বিক্রি করবে বলে জানিয়েছে। মূল্য ধরা হবে $৮০০ ডলার। যারা ওয়াই ফাই সংযোগ সুবিধাটি প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন তারা এই সংস্করণটি ক্রয় করতে পারেন। এই ক্যামেরাতে ৬১৪ কে-ডট, ৩'' ভিজিএ পেনটাইল অ্যামোলেড ডিসপ্লে থাকলেও এনেক্স ২০'র মত ইলেকট্রনিক ভিউফাইন্ডার নেই।

এনএক্স ২১০ এর সাথে রয়েছে এফ/৩.৫-৫.৬, ১৮-৫৫ মিমি লেন্স কিট, ইমেজ স্ট্যাবিলাইজার, ফোকাস মোড সুইচ এবং প্রয়োজনীয় সেটিংগুলো সহজে পাওয়ার জন্য রয়েছে আইফাংশন বাটন। এই ক্যামেরাটি বের হবে মে'র মাঝে এবং মূল্য ধরা হয়েছে $৯০০ মার্কিন ডলার।

এনএক্স ১০০০


ক্যামেরাটি দেখতে অনেকটা নিকন যে ওয়ানের মত, রয়েছে গ্লসি, স্লিক এবং আকর্ষণীয় ডিজাইন। মূল্য নির্ধারিত না হলেও ক্যামেরাটি দেখে মনে হয় পয়েন্ট অ্যান্ড শ্যুট ক্যামেরার আপগ্রেড হিসেবে এই ক্যামেরাটি বের করেছে স্যামসাং। রয়েছে ৩'' এলসিডি ডিসপ্লে, এফ/৩.৫-৫.৬ ছোট্ট ২০-৫০ মিমি লেন্স। ক্যামেরাটি সাদা, কালো এবং গোলাপি এই তিনটি রঙ্গে পাওয়া যাবে। এছাড়া দেয়া হয়েছে স্মার্ট অটো ২.০ এবং স্মার্ট লিঙ্ক হট কি প্রযুক্তি।

মাত্র ৩৬০ গ্রাম ওজনের ছোট্ট এই ক্যামেরাটিতে রয়েছে বিশাল একটি সেন্সর। মূল্য নির্ধারণটি সঠিক হলে ক্যামেরাটি নিকনের ভি ওয়ান এবং জি ওয়ানকে সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম হবে। আর স্যামসাংয়ের এপিএস-সি বাজারের সেরাগুলোর একটি।