টাটার বায়ু চালিত ছোট্ট গাড়ি এয়ারপড

ইকবাল আহসান's picture

(প্রিয় টেক) বিশ্বের বৃহৎ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যখন ফসিল ফুয়েলের পরিবর্তে হাইড্রোজেন, বায়োডিজেল এবং কম্প্রেসড প্রাকৃতিক গ্যাসের মত বিকল্প জ্বালানী ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করছে তখন ভারতীয় গাড়িনির্মাতা টাটা তার গাড়িকে বায়ু দ্বারা পরিচালনা করার চিন্তাভাবনা করছে। এয়ারপড নামক তিন আসন বিশিষ্ট গাড়িটি কম্প্রেসড এয়ার বা সংকুচিত বাতাসে চলবে বলে জানা গিয়েছে।

বিশেষভাবে নির্মিত গাড়ির ইঞ্জিনটি বায়ুর চাপের সাহায্যে চলবে। কম্প্রেসড এয়ার একটি ট্যাংকের মাঝে সংরক্ষণ করা হবে এবং অনেকটা গ্যাস পাম্পের মত বাহ্যিক বায়ু পাম্পের সাহায্যে অথবা গাড়ি চালানোর সময় আরেকটি বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করে বাতাস টেনে নেয়া হতে পারে।

টাটা জানিয়েছে গাড়িটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৪৩ মাইল। এছাড়া গাড়িটিতে ব্রেক থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করার প্রযুক্তিটিও রাখা হয়েছে। প্রযুক্তিটির সনদ লুক্সেমবার্গ ভিত্তিক মোটর ডেভেলপমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল (এমডিআই) এর কাছ থেকে গ্রহণ করে টাটা।

কম্প্রেসড এয়ার ইঞ্জিনের ধারণাটি শতবর্ষের পুরনো। প্রাথমিক সংস্করণগুলো তৈরি হয়েছে এই সময়ে, বিশেষ করে খনি খননকার্যে বিদ্যুৎ প্রযুক্তি ব্যবহার করার পূর্বে এই প্রযুক্তিতে তৈরি করা গাড়িই ব্যবহার করা হত। বর্তমান সময়ে গাড়ির কারখানাগুলোর নিউমেটিক ইমপ্যাক্ট রেঞ্চ টুলগুলোতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।


এমডিআই এর ডিজাইন অফিসের প্রধান সাইরিল নেগ্রে

কম্প্রেসড এয়ার ভিত্তিক গাড়ির ইঞ্জিন সাধারণ ইঞ্জিনের মত কাজ করে: জ্বালানি পিস্টনকে ক্র্যাঙ্কশ্যাফট ঘোরানোর মাধ্যমে গাড়িকে চালিয়ে থাকে। পার্থক্যটা এখানেই, কম্প্রেসড এয়ার ইঞ্জিনের পিস্টনটি তেলের বদলে বাতাসের সাহায্যে ঘুরবে।

এইমডিআই প্রযুক্তিটি নিয়ে কাজ করছিল অনেক দিন ধরে, ২০০৭ সালে এই প্রযুক্তির সনদ টাটা সংগ্রহ করে এমডিআই এর কাছ থেকে আর ধারণামূলক গাড়িটি প্রথম সকলের সামনে উন্মোচিত হয় ২০১১ সালে।

এ বছরের মে মাসে ধারণামূলক ইঞ্জিন টাটার দুটি গাড়িতে পরীক্ষা করে সফলতা পেয়েছে বলে জানিয়েছে। বর্তমানে টাটাই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যে এই প্রযুক্তিটি নিয়ে কাজ করছে। জাপানের হোন্ডা ২০১০ সালে বায়ু শক্তি চালিত ধারণামূলক গাড়ি উন্মোচন করে আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জেরো পলুশন মোটরস নামক একটি প্রতিষ্ঠান এ ধরণের গাড়ি উন্মোচন করার অঙ্গিকার করলেও প্রতিষ্ঠানটি এখন অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে।