বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনলাইন জিডি কার্যক্রম

(প্রিয় টেক) ঠেলা ধাক্কায় তিন বছর চলার পর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পুলিশের অনলাইন সাধারন ডায়েরির (জিডি) কার্যক্রম। ২০০৯ সালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অনলাইন জিডি কার্যক্রম শুরু করেছিল। বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে ঘরে বসে ইন্টারনেটে জিডি করার এ কার্যক্রম শুরু করেছিল পুলিশ। কাগজে-কলমে সে সুযোগ এখনও আছে। তবে প্রচারণার অভাবে অনলাইনে জিডি আবেদনকারী অনাগ্রহ আর পুলিশের অনিহার কারণে থেমে গেছে পুলিশের এ ডিজিটাল সেবা কার্যক্রম। এমন পরিস্থিতিতে এ কার্যক্রম পুরোপুরিই বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, অনলাইন জিডি কার্যক্রম থমকে গেলেও ভোগান্তি কমাতে ডিএমপি সদর দফতরে জিডি গ্রহণে বিশেষ সেল চালু করার চিন্তা-ভাবনা চলছে।
২০০৯ সালের মার্চ মাসে রাজধানীর উত্তরা থানায় প্রথম অনলাইন জিডি কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। পরে রাজধানীর অন্যান্য থানাগুলোতেও এ কার্যক্রম শুরু হয়। গত সাড়ে তিন বছরে অনলাইনে অন্তত সাড়ে ৫ হাজার জিডি করেছে সাধারণ মানুষ। এ নিয়ে প্রথম দিকে ব্যাপক প্রচারনা আর পুলিশের পক্ষ থেকেই অনলাইনে জিডি করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছিল। এজন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ওয়েবসাইটে একটি পেজ খুলে তাতে অনলাইন ফরম জুড়ে দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে অনলাইন জিডির প্রচারণা থেমে গেলে ভেস্তে যায় এ কার্যক্রম।
রাজধানীর একাধিক থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মিডিয়াকে জানান, অনলাইনে জিডি আবেদনকারী বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে থাকেন। চাঁদা দাবি বা হত্যার হুমকি সংক্রান্ত তথ্য জানিয়েও অনলাইনে জিডি আবেদন করে থাকেন অনেকে। এসব অভিযোগে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জিডি আবেদনকারী তার পূর্ণ নাম-ঠিকানা দেন না। কোন কোন ক্ষেত্রে বাসার ঠিকানা ও ফোন নম্বর দেওয়া হলেও তা সঠিক থাকে না। ফলে তদন্ত করতে গিয়ে এর কোন সত্যতা পাওয়া যায় না। অনলাইন জিডিগুলোর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে তার নামে হুমকি বা চাঁদাবাজির মতো মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়। এজন্য এগুলো তদন্তে অভিযোগের কোন সত্যতা মেলেনা। এজন্যই অনলাইন জিডির ক্ষেত্রে থানা পুলিশের অনিহা বলে জানান থানার ওসি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (সদর দফতর) হাবিবুর রহমান বলেন, আগের মতোই থানায় গিয়ে জিডি করার ব্যবস্থা চালু রেখে ডিএমপি সদর দফতরে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণে বিশেষ সেল খোলার বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। তবে যেসব থানায় অনলাইন জিডির সুযোগ রয়েছে তা সীমিত পরিসরে চলবে।
ডিএমপির কর্মকর্তারা জানান, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর ডিএমপি সদর দফতরে বিশেষ সেলে জিডি নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের আটটি জোনের পৃথক বুথ করা হবে। পুলিশের ৮ জোনের প্রতিটি বুথে একজন করে উপপরিদর্শক (এসআই) দায়িত্বে থাকবেন। তিনি অভিযোগ গ্রহণ করে তাতে নম্বর বসাবেন। পরে এসব জিডির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হবে। ওয়ান স্টপ সার্ভিস স্কিমের কারণে এভাবে জিডি করতে ভোগান্তি কমে আসবে।












