বিটিআরসি’র কনসালটেন্ট ফি ও মোবাইল বিলের অডিট নিস্পত্তি হচ্ছে না

(প্রিয় টেক) টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-বিটিআরসি’র কনসালটেন্ট নিয়োগের ফি নিয়ে গুরুতর আপত্তি তুলেছে সরকারের মহাহিসাব নিয়ন্ত্রকের দফতর। ২০০৯-১০ অর্থ বছরের হিসাব অডিট করতে গিয়ে তারা বলেছে কেবল কনসালটেন্ট নিয়োগের ফি থেকেই ৬৯ লাখ ৭৮ হাজার ২৭৭ টাকার ঘাপলা হয়েছে। তাছাড়া প্রাধীকারভূক্ত নয় এমন কর্মীদের মোবাইল ফোনের বিল এবং ক্যাজুয়াল শ্রমিক নিয়োগ করে উচ্চ হারে মজুরি প্রদানের মাধ্যমে সরকারের আরো ২৮ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলেও অডিট প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে দাবি করা হয়েছে।
অডিট প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্ত সারে বলা হয়েছে, ২০০১ সালের টেলিযোগাযোগ আইনের ১৮(৩) ধারা মোতাবেক কমিশনের জরুরী প্রয়োজনে লিগ্যাল, ফাইনান্স ও টেকনিক্যাল পদে পরামর্শক নিয়োগ করতে পারবে। কিন্তু আলোচ্য ক্ষেত্রে উক্ত তিনটি পদ ছাড়াও বহু সংখ্যক পদে অনিয়মিতভাবে কনসালটেন্ট নিয়েগ করে ফি পরিশোধ করা হয়েছে।
আর এ কনসালটেন্ট নিয়োগ ও তাদের ফি পরিশোধ বিষয়েই আপত্তি তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে কনসালটেন্ট ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্ব অনুমোদনও গ্রহণ করা হয়নি। জুনিয়র কনসালটেন্টের কোনো বিধান না থাকা সত্ত্বেও বিপুল পরিমাণ জুনিয়র কনসালটেন্ট নিয়োগ করে ফি পরিশোধ করা হয়েছে বলেও ওই সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করয়েছে। কিন্তু বিস্তারিত প্রতিবেদন না পাওয়ায় জানা সম্ভব হয়নি কোন কনসালটেন্টকে কতো টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
তবে ব্যক্তিগত অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিটিআরসি’র সর্বশেষ প্রশাসনের অনেক ঘনিষ্টরা কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। কোনো কাজ না থাকলেও তারা বিভিন্ন নামে দায়িত্ব পেয়েছেন। গত পাঁচ বছর ধরে বিটিআরসিতে এক ব্যক্তি নানাভাবে কনসালটেন্টের পদ দখল করে আছেন। এর আগে তিনি বিটিআরসি’র সচিব থাকলেও এর পরে আর এখান থেকে যাননি তিনি। কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সময়ই তার মাসিক বেতন লাখ টাকার ওপরে ছিল।
মহাহিসাব নিয়ন্ত্রকের দফতরের এমন আপত্তির প্রেক্ষিতে বিটিআরসি এক লাইনের একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে। এতে তারা বলেছে, টেলিযোগাযোগ আইন অনুযায়ী কমিশনে কনসালটেন্ট নিয়োগ করা হয়েছে এবং সেই মোতাবেক ফি পরিশোধ করা হয়েছে।
তবে মহাহিসাব নিয়ন্ত্রকের দফতর বিটিআরসি’র এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি। তারা বলেছে, বিটিআরসি’র এই জবাব গ্রহণযোগ্য নয় কারণ, টেলিযোগাযোগ আইনের অনুচ্ছেদ ৩১(২) অনুযায়ী লিগ্যাল ফাইনান্স, ও টেকনিক্যাল এই তিন ধরণের পরামর্শক নিয়োগের উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও বহু সংখ্যক পদে পরামর্শক নিয়োগ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ পরামর্শক ফি হিসাবে পরিশোধ করা হয়েছে।
পরে মহাহিসাব নিয়ন্ত্রকের দফতর অনিয়মটি সমন্বয় করাতে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে কনসালটেন্ট নিয়োগ বাবদ অনিয়মিতভাবে পরিশোধিত সমুদয় অর্থ আদায় করে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ পূর্বক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গের নিকট হতে পরিশোধিত সমুদয় টাকা আদায় করে কমিশনের তহবিলে জমা করার কথা বলেছে মহাহিসাব নিয়ন্ত্রকের দফতর।
প্রাধিকার প্রাপ্ত না হওয়া সত্ত্বেও অনিয়মিতভাবে কনসালটেন্ট, ক্যাজুয়াল ড্রাইভার ও নিন্মপদের কর্মচারীদের মোবাইল সেটসহ মাসিক কল চার্জের বিল পরিশোধ করে ২০০৯-১০ অর্থ বছরে সরকারের ৭ লাখ ৯১ হাজার ১০০ টাকা বেশী খরচ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিটিআরসি যে জবাব দিয়েছে সেটিও গ্রহণ করেনি মহাহিসবা নিরিক্ষকের অফিস। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছ থেকে ওই অর্থ ফেরত আনতে অনুরোধ করা হয়েছে।
একইভাবে ক্যাজুয়াল কর্মী নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কাজ নেই মজুরী নেই’ ভিত্তিতে ক্যাজুয়াল কর্মী নিয়োগ করার কথা। কিন্তু মাসের পর মাস ছুটির দিনেও ক্যাজুয়াল কর্মীদের মজুরী দিয়ে সরকারের ক্ষতি করা হয়েছে ১০ লাখ ২০ হাজার ৩৪১ টাকা। এই টাকাও সমন্বয় করতে বলেছে মহাহিসাব নিরিক্ষকের অফিস।
তবে এ বিষয়ে জানযে বিটিআরসি’র বর্তমান চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাত্র কয়েকদিন দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। এখনই এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তবে আইন ও বিধি অনুসারে সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।













