তথাকথিত বৈধ ভিওআইপি’র জন্যে দেড় হাজার আবেদন

PriyoTech's picture

(প্রিয় টেক) বহুল আলোচিত ভিওআইপি সার্ভিসেস প্রোভাইডার বা ভিএসপি লাইসেন্সের জন্যে ১,৫০৬ টি আবেদন জমা পড়েছে। তবে এর মধ্যে দুটি আবেদন নির্ধারিত সময়ের পরে আসায় তা বাতিল হয়েছে। যে কোনো পোষ্ট অফিসে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ১৪ অক্টোবর।

আবেদন যাচাই বাছাইরে জন্যে বিটিআরসি’র আইন ও লাইসেন্স শাখার মহাপরিচালক শহিদুজ্জামানকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে রিসিভিং কমিটি এখনো তাদের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে না পারায় বাছাই কমিটি কাজ শুরু করতে পারেনি। রিসিভিং কমিটি সবগুলো আবেদনের তথ্য কম্পিউটারে ইনপুট দেওয়ার পরেই এগুলো মূল্যায়নের জন্যে আসবে বলে জানিয়েছেন শহিদুজ্জামান। তবে সব কাজ শেষ করতে আরো অন্তত এক মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে বিটিআরসিসহ সংশ্লিষ্টরা আশা করেছিলেন, অন্তত ৫/৭ হাজার আবেদন পড়বে। সে কারণে ঝামেলা এড়াতে এই প্রথমবারের মতো পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে আবেদন নেওয়া হয়। এক সঙ্গে শেষ বেলায় এসে যাতে বিটিআরসিতে হাজার হাজার লোক জড়ো না হয়ে পড়ে সে কারণে এই পদ্ধতি নেওয়া হয়। কিন্তু দেখা গেল ভিওআইপি’র বৈধতার লাইসেন্স নেওয়ার ক্ষেত্রে খুব বেশী মানুষের আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়নি।

এদিকে ভিওআইপি লাইসেন্স নীতিমালায় (ভিওআইপি সার্ভিস প্রোভাইডার-ভিএসপি) লাইসেন্সের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে সরকারের যতো খুশি লাইসেন্স দেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, হাজার খানেক লাইসেন্স দেওয়া হতে পারে।

আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের আয় ভাগ করার ক্ষেত্রে এখন চারটি ধাপ থাকলেও ভিএসপি আসার পর তা হবে পাঁচটি। বর্তমানে এক মিনেটের আন্তর্জাতিক কল বৈধ পথে দেশে আসলে তিন সেন্ট বা দুই টাকা ত্রিশ পয়সা দেশে আসে। এই আয়ের ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ পায় আইজিডবলিউ। ১৫ শতাংশ পায় আন্তসংযোগ এক্সচেঞ্জ। ২০ শতাংশ পায় শেষ পর্যন্ত ফোন কলটি যেখানে গিয়ে পৌঁছায় সেই অপারেটর। বাকি ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ পায় বিটিআরসি বা সরকার। এখান থেকে ভিওআইপি অপারেটরদের জন্যে পাঁচ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে সরকার পাবে ৪৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অপারেশন্সের জন্যে একেকটি ভিওআইপি অপারেটর ৫ এমবিপিএস ব্যন্ডউইথ পাবে।

উল্লেখ্য যে, এই লাইসেন্স কোন অবস্থাতেই ব্যবসায়িকভাবে সফল হবে না। এবং এটি অযথা নতুন একটি ঝামেলার তৈরী করবে। সরকার যেখানে পুরো প্রযুক্তিটি উন্মুক্ত করতে পারেনি, সেখানে এমন দূর্বল লাইসেন্স সফল হবে না। বেশির ভাগ মানুষের লাইসেন্স ফি'র টাকাটাই নষ্ট হবে।