মোবাইল ফোন টাওয়ারের রেডিয়েশনের প্রভাব জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল জারি

(প্রিয় টেক) স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর মোবাইল ফোনের টাওয়ার থেকে বেরুনো রেডিয়েশন বন্ধে ব্যবস্থা নিতে সাত দিন সময় দিয়ে নির্দেশনা দিয়েছে হাই কোর্ট। একই সঙ্গে এর প্রভাব সম্পর্কেও জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট। মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর টাওয়ার থেকে নিঃসৃত রেডিয়েশনের মাত্রা এবং পরিবেশগত প্রভাব খতিয়ে দেখতে সাতটি সংস্থাকে নির্দেশও দিয়েছে কোর্ট।

গত ১০ অক্টোবর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টিভি’র "একুশের চোখ" অনুষ্ঠানে মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে মঙ্গলবার দুই আইনজীবীর করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস এ আদেশ দেন। সোমবার সকালে এ বিষয়ে রিট আবেদন দাখিল করেন অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী ও অ্যাডভোকেট এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া।
মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর টাওয়ার পরিদর্শন করে রেডিয়েশনের মাত্রা নিয়ে আদালতে একটি প্রতিবেদন দিতে বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য তাকে সময় দেওয়া হয়েছে চার সপ্তাহ।
পাশাপাশি সাত দিনের মধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি করতে স্বাস্থ্য সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই কমিটিতে বিজ্ঞানী, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অধ্যাপক, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং আনবিক শক্তি কমিশনের প্রতিনিধি রাখতে বলেছে আদালত। এই কমিটিকে মোবাইল ফোন টাওয়ারের কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও পরিবেশগত প্রভাব পরীক্ষা করে তিন মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বসানো মোবাইল ফোন অপারেটরের টাওয়ারগুলো থেকে নিঃসৃত রেডিয়েশন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদেরকে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে একটি রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, পরিবেশ সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যানকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, বর্তমান এক ঢাকা শহরেই প্রায় ১৬ হাজারের মতো মোবাইল ফোনের টাওয়ার রয়েছে; এবং এগুলো মাইক্রোওয়েব লিংক দিয়ে সংযুক্ত। এই মাইক্রোওয়েব লিংকগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাসাবাড়ির নাগালের ভেতর, যা মানুষের শরীরের জন্য ভয়াবহ রকমের ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন ধরে এটা নিয়ে আলোচনা হলেও কোনও পদক্ষেপ নেয়নি কেউ। পৃথিবীর আর কোথাও এমন ঘনবসতি এলাকায় এভাবে মাইক্রোওয়েব বসানোর নজির নেই।











